সাম্প্রতিক পোস্ট

বৃক্ষ পরিবেশ ভারসাম্য রাখতে অবদান রাখে

নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অনিতা বর্মণ

প্রাণ-প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি আমাদের এই দেশ। সকল প্রাণেরই রয়েছে বেড়ে উঠার, সুস্থ থাকার অধিকার। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতায় প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণ ও প্রকৃতি হুমকির মধ্যে পড়ে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌছে যায় এর ভয়াবহতা। ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ মানুষের জীবন জীবিকায় ও কৃষিতে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রতিবছর বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের উদ্যেগ বাস্তবায়ন করে চলেছে সেখানকার নারীরা। বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি তেমনই এক উদ্যোগ। নারীদের উদ্যোগে সেখানে করা হচ্ছে ফলদ বাগান আর বাড়ছে ফল বৈচিত্র্য-রাখছে জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তনে রাখছে ভূমিকা।

anita০১৪ সালের জুলাই মাসের দিকে বারসিক নাচোল রিসোর্স সেন্টার বরেন্দ্র এলাকা উপযোগী বৃক্ষ রোপণের উদ্যেগ গ্রহণ করা হয় এতে ঢাকার একটি বেসরকারি “সবুজ সাথী” নামক অর্গানিক ফার্ম ৫ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। এভাবেই শুরু। এরপর বরেন্দ্র অঞ্চলে জাম, পেয়ারা, আমলকি, চালতা, আমড়া, কাঁঠাল,বাতাবি লেবু ,কামরাঙ্গা, ডালিম, জলপাই ও আতা গাছ বরেন্দা, টিকইল ও পুকুরিয়া পাড়া গ্রামের নারীদের মাঝে বিতরণ করা হয় বারসিক’র উদ্যোগে। মোট ৩৫০টি চারা তিনটি গ্রামের ১৫০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর ফলে ১৫০ টি পরিবার পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবেন এবং অতিরিক্ত ফল তারা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

পুকুরিয়া পাড়া ও টিকইল গ্রামের নারী উন্নয়ন সংঘের নারীরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফলজ গাছগুলো টিকিয়ে রেখেছেন। পুকুরিয়া পাড়ার মোসা: সজিনা বেগম বলেন, “কাহাঠাল(কাঁঠাল) আমার খুব প্রিয় ফল। প্রিয় ফলটি নিজের গাছে পাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিই কাঁঠাল বাগান করার। একটি সংগঠনের কাছ থেকে কাঁঠালের চারা পেয়ে আমি বাড়ির পাশে তা লাগিয়ে সঠিক যতœ করে গাছটিকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছি। বর্তমানে গাছটি বড় হয়েছে।”

20160816_094802

টিকইল গ্রামের শ্রীমতি শান্তনা রাণী বলেন, “আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে বারসিক’র সহযোগিতায় পেয়ারা, জলপাই, ডালিম, বাতাবি লেবু ও কাঁঠাল গাছ পেয়েছিলাম। এই গাছগুলো পাওয়ার পর বাড়ির আঙ্গিনায় তা লাগিয়ে দিলাম। একটি গাছও নষ্ট হলো না; সবগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো। এক বছর পর ডালিম গাছে ফুল থেকে ফল পেতে শুরু করলাম।” তিনি আরও বলেন, “ছোট গাছ হিসেবে অনেক ফুল ধরেছিলো কিন্তু ফুলগুলো টিকে থাকতো না। কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার না করে ডালিম গাছ থেকে প্রথমত ৭টি ডালিম পেলাম। একেটি ডালিম প্রায় ৩৫০/৪০০ গ্রাম ওজনের হয়েছিলো।” তিনি বলেন, “দুই বছর পর পেয়ারা ধরতে লাগলো। দেশি পেয়েরা সাইজে ছোট, খেতে ও খুব মিষ্টি। যে গাছগুলো পেয়েছিলাম বর্তমানে সব গাছ বেঁেচ আছে। আমার বাড়িতে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, বড়ই, আমড়া, জলপাই, ডালিম, বাতাবি লেবু, কলা এই সব গাছ আছে আমার ছেলেদের এই সব কিনে খেতে হবে না আশা করছি” ।

পুকুরিয়া পাড়া, টিকইল, বরেন্দা গ্রামের নারীরা নিজ উদ্যোগে বসতবাড়িতে রকমারী ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। এই গাছগুলো থেকে প্রতিটি পরিবার তার পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয় করতে পারবে বলে আশা করছে।। বসতবাড়ির এই গাছ এলাকায় ফলের বৈচিত্র্য বাড়ায় সাথে সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

 

happy wheels 2
%d bloggers like this: