Posted in

একজন মামুন ও তার উদ্যোগ

মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর সরকার

সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে কিন্তু সেই স্বপ্ন  ক’জনে সফল করতে পারে। এমনই একজন মানুষের গল্প আজ আমরা করবো। মানিকগঞ্জের শোলধারা গ্রামের মো. আল-মামুন (৩০) যুবক, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্নের সেই কাজ করে চলেছেন। সমাজের সকল শ্রেণীর ব্যক্তি, পরিবেশ, সকল প্রাণ ও প্রকৃতির বিষয়ে কিভাবে মানুষকে আরও সজাগ করা যায়, যুবকদের আরও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ও  উদ্যোগী করে গড়ে তোলা যায়, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দাবিসমুহ পূরণ করা যায় তার জন্য প্রতিমূহূর্তে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আর এ কাজের জন্য মামুন বের করেছেন এক অভিনব পদ্ধতি। তিনি প্রতিনিয়ত এলাকার যুবকদের নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করে আর তা সমাধানের চেষ্টা করেন এবং এক্ষেত্রে তিনি এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে বুদ্ধি পরামর্শ গ্রহণ করেন। যেমন  গ্রামে কোন বাল্যবিবাহের উদ্যোগ নেয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যুবকদের নিয়ে সেই পরিবারের সাথে দেখা করেন। তিনি বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে সেই পরিবারের সাথে আলোচনা করেন-বুঝাতে চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

DSC00146
এরকম নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতোই গড়ে তুলেছেন শোলধারা অগ্রগতি সংঘ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সমাজের সকল শ্রেণীর লোকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সমাজে মাদক এর কুফল সম্পর্কে আলোচনা ও স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন, ক্লাবের উদ্যোগে সমাজের নারীদের সচেতন করতে বিভিন্ন দিবস ও মেলার আয়োজন করেন, যুবকদের নিয়ে বর্ষাকালে পানিপথের গুরত্ব নিয়ে বিভিন্ন ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করার উদ্যোগ নেন।

এই প্রসঙ্গে মামুন বলেন, “আমরা সমাজের সকলকে একত্রিত করার জন্য নানান রকম মেলা ও উৎসবের আয়োজন করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা ২৬ শে মার্চ পালনের উদ্যোগ নিই। এই উৎসবে আমরা নারী, পুরুষ, শিশু, প্রবীণ সকলকে নিয়ে পালন করি।” তিনি আরও বলেন, “শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনাকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। একইভাবে নারীরা তাদের মেধার পরিচয় তুলে ধরেন এই উৎসবে-আনন্দে। প্রবীণরা তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বসেন আর একটি চমৎকার সেতুবন্ধন আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরি।”
DSC00118
শোলধারা অগ্রগতি সংঘের ব্যানারে আল-মামুনসহ যুবকরা এবছর ৫ জন গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কুলে বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষায় গ্রামের যুবকদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন, গ্রামের সামাজিক অনুষ্ঠানে বিয়ে, মিলাদ, মুখে ভাত, যুবকদের নিয়ে কাজে সহায়তা করেছেন। গত ২ বছরে এলাকার যুবকদের নিয়ে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন, বাল্যবিবাহ রোধে ক্যাম্পেইন, নারীদের নিয়ে পিঠা উৎসব, যুবকদের নিয়ে যুব বিজয় উৎসব ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় যুবকদের অংশ্রগহণ এবং সামাজিক দায়িত্ব, পাটুরিয়া থেকে ঢাকা রেললাইন দাবিতে মানব বন্ধনে, কাঁচা মরিচ সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগের দাবিসহ বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে পেছন থেকে পরামর্শ দিয়ে বারসিক সহযোগিতা করেছে বলে তারা জানান।

আল-মামুন ব্যক্তিগতভাবে এ বছর যুবকদের নিয়ে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। আর এ জন্য তিনি বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। মামুন বিশ্বাস করেন, পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রতিটি বৈচিত্র্যর উপর নির্ভরশীল। নতুন কিছু সৃষ্টির এবং বেঁচে থাকার জন্য বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে প্রাণের সঞ্চার করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সমাজে গাছ, মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতিসহ সকল বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে যেতে চান বলে জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.