Posted in

কৃষকই হবে কৃষি জমিন রক্ষাকর্তা

তানোর, রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার

আমাদের দেশের বর্তমান চাষ ব্যবস্থা আর আগের মতো নেই। এখন কৃষিতে চলছে শুধুমাত্র সার ও বিষের কারবার। জমিতে কোন কোন সার কে কতটুকু প্রয়োগ করল সব খানেই চলে এ নিয়ে আলোচনা। যার কারণে আজ আমাদের প্রতিটি কৃষি জমিনই বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমাদের এই জমিনকে রক্ষা করতে হলে আমাদের মতো সচেতন কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন চাঁপাই-নবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাটের ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী কৃষক মো. সাদেক বিশ্বাস(৫৬)। সম্প্রতি তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বহড়া গ্রামে “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশ বান্ধব কৃষি চর্চা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময়” অনুষ্ঠিত শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সাথে নিজের অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করার সময়ে এ কথা বলেন তিনি।

IMG_20170717_131547
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি ও তানোর উপজেলার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও ব্যবহার বিষয়ে প্রত্যাক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে তানোর উপজেলার বহড়া গ্রামের ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী কৃষক মো. আ. হামিদ(৫০) বলেন, “বিগত সময়ে আমি জমিতে শুধু রাসায়নিক সারই ব্যবহার করতাম কিন্তু আস্তে আাস্তে দেখলাম জমিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ফলন কমছে। তখন আমি জমিতে ব্যবহার করার উদ্দ্যেশ্য নিয়েই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করার চিন্তা শুরু করি ২০১৫ সালে। বর্তমানে আমার জমিতে এ সার ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছি। ব্যবহারের পরও অনেক উদ্বৃত্ত সার থাকে তা বিক্রয়ের মাধ্যমেও আয় করতে পারছি।”

IMG_20170717_133045
অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে অংশগ্রহণকারী কৃষক মো. বাচ্চু মিয়া (৮৬), মো. বকুল মিয়া (৪২) ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানার মাধ্যমে নিজির বাড়িতেও তৈরি করার জন্য ১০০০টি কেঁচো সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি তানোরের দুবইল গ্রামের কৃষক মো. জাইদুর রহমান (৫৪) ও মো. গোলাম মোস্থফা (৪০) ২০ মণ কেঁচো সার নিয়ে আসেন চলতি আমন মৌসুমে নিজের জমিতে ব্যবহারের জন্য। এ বিষয়ে দুবইল গ্রামের কৃষক মোঃ জাইদুর রহমান বলেন, “ভার্মি কম্পোস্ট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার পর আমি আমার জমিতে ব্যবহার করে দেখবো কেমন ফলন হয়। এ উদ্দেশ্য নিয়েই আজকে আমি সারগুলো নিয়ে যাচ্ছি।” অন্যদিকে নিজের বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে গোদাগাড়ি উপজেলার বরশিপাড়া গ্রামের কৃষক মো. বকুল মিয়া বলেন, “আমি ভার্মি কম্পোস্টের উপকারিতা সম্পর্কে জানি। এখানে আসার মাধ্যমে আমি আরও জানতে ও বুঝতে পারলাম কিভাবে বড় আকারে ভার্মি কম্পোস্টের খামার করা যায়। আমার বাড়িতে বড় আকারের ভার্মি কম্পোস্ট খামার তৈরি করবো।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.