Posted in

বিউটির স্বপ্ন পূরণ হোক

রাজশাহী তানোর থেকে জিন্নাতুন নেসা

প্রত্যেক পিতামাতা চায় সন্তানেরা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। সন্তানেরা সুস্থ থাকলে পিতামাতা মানসিকভাবে তৃপ্তি পান এটা কেনা জানে! কিন্তু সেই চাওয়া পাওয়া প্রকৃতিগত কারণে অনেকেরই পূরণ হয়না। এমনি একটি দৃশ্য চোখে পড়ে রাজশাহী তানোর উপজেলার মোহর গ্রামের মো. হাসেম আলীর পরিবারে। হাশেম আলী (৪৭), তার স্ত্রী এবং ৩ মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তিন মেয়ে সন্তানের দুজনেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। গতবছর বড় মেয়ে ২৫ বছর যাবত শারীরিক প্রতিবন্ধীতার সাথে লড়াই করে পরলোক গমন করেন। তবে এরা দুজনে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিলনা। মাত্র ৯ মাস বয়সে তাদের হঠাৎ ডায়রিয়া হয়। এই ডায়রিয়ার হওয়ার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পরবর্তীতে তারা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীতার জীবন বরণ করছে।

IMG_20181129_121151
হাশেম আলী জমির পরিমাণ মোট ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে বসতভিটার পরিমাণ ৩৩ শতাংশ এবং আবাদী জমির পরিমাণ ৬৬ শতাংশ। সামান্য সম্পদ দিয়ে কষ্টেই জীবন চলে হাসেমের। এই কষ্টকে একটু ভাগ করে নেওয়ার জন্য তার স্ত্রী কাঁথা সেলাই এর শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে কাশেম স্ত্রী মোসা. ফিরোজা বলেন, ‘আমি যখন কাঁথা সেলাই করতাম তখন আমার মেজ মেয়ে চুপটি করে বসে মনোযোগ দিয়ে কাঁথা সেলাই দেখত এবং লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁথা তৈরি করে সেলাইও করত। তখন থেকেই আমার মেজ মেয়ে কাথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে।’ ফিরোজা জানান, যখন তাঁর মেয়ে ১৩ বছর বয়স থেকে কাঁথা সেলাইয়ের পুরো কৌশল রপ্ত করে এবং নিজেই নিজের সেলাই করা কাঁথার নকশা করে। ফিরোজা বলেন, ‘আমার মেয়ের হাতের সেলাইয়ের কাজ দেখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি হাতের সেলাই মেশিন দিয়েছে।’

IMG_20181129_121317
শুধু কাঁথা সেলাই নয়; শারীরিক ভিন্নভাবে সক্ষম মেয়ে বিউটি পাটিও বানাতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিউটি বলেন, ‘এই সংসারে বাবা প্রধান। বাবা যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন থেকেই মাই প্রধান। মাকে সংসারের যাবতীয় কাজ করার পর আমাকে দেখভাল করতে হয়। এইসব দিক দেখে মনে হলো আমার কিছু করা দরকার। তখন থেকেই হাতের কাজ করার উপর বেশি আগ্রহী হয়ে উঠি।’ বিউটি আরও বলেন, ‘তখন থেকেই আমি বিভিন্ন ধরনের কাঁথা সেলাই করি ও বিক্রি করি। বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজন কিনি। এভাবে কিছুটা হলে উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে বলে আমার মনে হয়।’ বিউটি বলেন, ‘আমার থেকে আমার মায়ের কষ্ট বেশি। কারণ, আমার গোসল থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ মাকে করতে হয়।

IMG_20181129_121344
বিউটি জানান, প্রত্যেক নারীর একটি স্বপ্ন থাকে সেটি হচ্ছে স্বামী ও সংসার করা। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন কখনো পূরণ হবার নয়। তাই তার এখন একটিমাত্র স্বপ্ন আর তা হলো তিনি যতদিন বাঁচবেন ততদিন পর্যন্ত পরিবারকে সহযোগিতা করবেন। সমাজ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই আত্মনির্ভরশীল হতে চায়। ঠিক তেমনি বিউটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনও সমাজের ও পরিবারের বোঝা হয়ে থাকেননি। তিনি নিজের দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন। বিউটির স্বপ্ন পূরণ হোক সেই প্রত্যাশা করি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.