Posted in

সড়ক দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে রাজশাহীতে প্রচারাভিযান

রাজশাহী থেকে আতিকুর রহমান আতিক
সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক-যাত্রী ও পথচারীসহ সকলের মাঝে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও সর্তকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহীতে শেষ হলো তরুণদের ৫(পাঁচ) দিনব্যাপী গণসচেতনতা প্রচারাভিযান। জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ৩ ও ১১)’ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করতে তরুণ সংগঠন ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ)-এর ‘শহর আমার দায়িত্বও আমার’ গণসচেতনতা প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এ প্রচারাভিযানের আয়োজন করা হয়। ‘আসুন আমরা সকলেই ট্রাফিক আইন জানি; ট্রাফিক আইন মেনে চলি, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করি’ এ স্লোগানে তরুণ সংগঠন ইয়্যাস ও কমিউনিটি পুলিশিং-রাজপাড়া থানা যৌথভাবে ‘সড়কে দুর্ঘটনা এড়িয়ে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে আমার সতর্কতা’ শীর্ষক এ গণসচেতনতা প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এ প্রচারাভিযানে তরুণদের সার্বিক সহযোগিতা করে। ২৪-২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৫(পাঁচ) দিনব্যাপী রাজশাহী মহানগরীর মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।

M 1

গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কোর্ট শহিদ মিনার চত্বরে প্রচারাভিযানের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রচারাভিযানের সমাপনীতে আয়োজিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন, তরুণ সংগঠন ইয়্যাস এর সভাপতি তরুণ নেতা ও সাংবাদিক শামীউল আলীম শাওন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম আকাশের পরিচালনায় ও কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, কমিউনিটি পুলিশিং রাজপাড়া থানার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ইয়্যাসের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবাস কুমার শুভ, সাধারণ সদস্য যথাক্রমে- রিনা আক্তার, সাখাওয়াত হোসেন, শাওন ইসলাম, ফারহানা নাজনিন মুন্নি সহ ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) ও কমিউনিটি পুলিশিং রাজপাড়া থানার নেতৃবৃন্দ।

পথসভা শেষে প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনারোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণে সড়কের অবকাঠামোর মান উন্নয়ন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও সর্তকতা বৃদ্ধি এবং সড়ক পরিবহন আইন দ্রæত বাস্তবায়ন করার দাবিতে রাজশাহীর তরুণ সংগঠন ইয়্যাসের পক্ষ থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার এর মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ইয়্যাসের সভাপতি তরুণ নেতা ও সাংবাদিক শামীউল আলীম শাওনের নেতৃত্বে ৪ (চার) সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের দফতরে ১৬ (ষোল) দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, ইয়্যাসের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম আকাশ, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক, ইয়্যাসের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবাস কুমার শুভ এবং সাধারণ সদস্য রিনা আক্তার।

তরুণ সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদানকৃত স্মারকলিপির অন্যতম দাবিগুলোর মধ্যে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূণ সড়ক ও মোড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রাক্রসিং, স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল, ট্রাফিক নির্দেশিকা, নির্দিষ্ট স্টপেজ, যাত্রী ছাউনি ও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন, কেøাজসার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপন, নগরজুড়ে থাকা সকল রোড ডিভাইডারগুলোর মধ্যে উঁচু ব্যারিকেড তৈরি, সাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলো এবং ফায়ার সার্ভিস ও এম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্য পৃথক পৃথক লেন, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ফুটপাত নির্মাণ, অপরিকল্পিত স্টপেজ অপসারণ ও সড়ক দখলমুক্তকরণ, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে ডিজিটালাইজেশন, ট্্রাফিক বিভাগে দক্ষ লোকবল নিয়োগ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি করার দাবি রয়েছে।

PC 2

এছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রপ্তি সহজ করার পাশাপাশি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও লাইসেন্স প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ’র মধ্যে সমন্বয় করাসহ সর্বসাধারণকে সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সম্পর্কে আরো বেশি অবগত ও সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে ট্রাফিক বিভাগের সাথে বিভিন্ন তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও স্মারকলিপিতে দাবি জানিয়েছেন তরুণ সংগঠনটি। এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর পাশাপাশি স্মারকলিপির অনুলিপি পরিকল্পনা মন্ত্রী ও পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারিকে ডাক যোগে প্রেরণ করেছেন সংগঠনটি।

এছাড়াও একই দাবিতে তরুণ সংগঠন ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) এর পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক এবং নগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর বরাবর পৃথক পৃথক স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.