Posted in

কৃষিই তরুণ কৃষক মো. আলমগীর হোসনের ধ্যান-জ্ঞান

বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি
“আমার বাবা নৈমুদ্দিন ছিলন একজন আদর্শ কৃষক, বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ নিয়ে তিনি গবেষণা করতেন। তিনি বর্তমান নেই কিন্তু তাঁর কাছে থেকে দেখা অভিজ্ঞতাগুলো আমার সব সময়ের সাথী। মনে হয় বাবা আমার পাশেই আছেন। ছোটকালে দেখতাম বাবা উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কৃষি পুরুষ্কার পেতেন, আমি দেখতাম সবসময় তিনি কৃষি প্রতিযোগিতায়  প্রথম হতেন, অনেক মানুষ আসতো আমার বাবার কাছে কৃষি বিষয়ে পরামর্শ নিতে। এসব দেখে আমার ভালো লাগতো। তাই ছোটকাল থেকেই আমার ইচ্ছা জাগে আমিও একজন আদর্শ কৃষক হবো।”-উক্ত কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাড়ি গ্রামের তরুণ কৃষক মো. আলমগীর হোসেন ।

Alamgir

তরুণ কৃষক মো. আলমগীর হোসেন, যার ধ্যান-জ্ঞান শূধুই কৃষি! কৃষি নিয়েই তিনি স্বপ্ন দেখেন। একইসাথে কৃষকের সমস্যা এবং সম্ভাবনাগুলো নিয়ে তিনি জ্ঞান ওঅভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। কৃষির কোন খবর পেলেই তিনি ছুটে যান সেখানে, শিখে নেন নতুন কিছু। আলমগীর হোসেন এমএ পাশ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপাড়া শেষ করে তিনি চাকরির পিছে ছুটেননি। তিনি তার বাবার রেখে যাওয়া পাঁচ বিঘা জমিতেই তাঁর সৃজনশীল কৃষিচর্চ্ াশুরু করেন; বৈচিত্র্যময় শস্য ফসল চাষাবাদ করেন। দেশীয় বৃক্ষ, লতাপাতা, ঔষধি গাছ নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি নার্সারি।এই নার্সারির চারা তিনি গ্রামের মানুষের মাঝেও বিলিয়ে দেন। নিজের বাড়ির আঙ্গিনা এবং বাড়ির আশপাশে ভরে তুলেছেন বিভিন্ন দেশীয় জাতের ফল, ওষধি বৃক্ষ এবং অচাষকৃত শাকসবজির লতাপাতা দিয়ে। বাড়িতে কোন অতিথি আসলে তিনি আপ্যায়ন হিসেবে ম্যানুতে যোগ করেন অচাষকৃত লতাপাতা আর শাকসবজি। খেতে দেন নিজের গাছে উৎপাদিত দেশীয় জাতের বিষহীন ফল। তাঁর বাড়ির চারপাশ এবং আঙ্গিনাকে তিনি সজ্জিত করে রেখেছেন কামরাঙ্গা, আম, পেয়ারা, বেদানা, কমলা, কাঁঠাল, নারিকেল, ঘৃত কুমারী, হাত পলাশ, কালোমেঘ, প্থারকুচি, তুলশিসহ বিভিন্ন ফলদ ও ওষুধি গাছগাছালি দিয়ে!

একজন সচেতন তরুণ কৃষক হিসেবে তিনি কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং কৃষকের সমস্যা এবং অধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামের কৃষকদেরকে কৃষি বিষয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কি কি সেবা পাওয়া যায় এবং তা কিভাবে পেতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করেন। উন্নত বীজ উৎপাদন এবং বীজ বিনিময়েও তিনি সহযোগিতা করেন। এলাকা উপযোগী লাভজনক ফসল চাষাবাদে কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। চলতি সময়ে তিনি তানোর এলাকা থেকে  প্রবীণ কৃষকের পেনশনের দাবিতে মতবিনিময় সভার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের এলাকার কৃষকদের সংগঠিত করে পেনশনের দাবিতে মতবিনিময়ের আয়োজন করেন। তিনি এলাকার কৃষকদের সংগঠন তৈরিতে অবদান রাখছেন।

তরুণ কৃষক মো. আলমগীরের একমাত্র চাওয়া হচ্ছে কৃষকের জন্যে সরকারের দেয়া ভূর্তুকি যেন কৃষক সরাসরি পান এবং কৃষকদের অধিকার যেন সুনিশ্চিত হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

One thought on “কৃষিই তরুণ কৃষক মো. আলমগীর হোসনের ধ্যান-জ্ঞান”

Comments are closed.