সাম্প্রতিক পোস্ট

সুরুজ খাঁন-এর নার্সারি

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়

বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে চারা গজায়। সেই চারা আস্তে আস্তে গাছে পরিণত হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো গাছ। গাছ আমাদের অক্সিজেনের অভাব পূরণ করে, কার্বন শোষণ করে পরিবেশকে করে সজীব ও নির্মল। গাছের শেকড় মাটির ক্ষয় রোধ করে। গাছ জলবায়ু পরিবর্তন রোধেও ভূমিকা পালন করে। এছাড়া গাছের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। গাছ ছায়া দেয়। গাছ থেকে আমরা ফল পাই। এর কাঠের সাহায্যে আসবাব তৈরি করি। আবার জ্বালানি কাজেও এর ব্যবহার রয়েছে। গাছের নানাবিধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে মানুষ নিজের বাড়িতে, প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণে গাছ রোপণ করছে। গাছের মধ্যে প্রকারভেদও আছে। যেমন ফলজ, বনজ ও ঔষধি। আবার কিছু কিছু গাছ আছে যা বাড়ি বা রাস্তার সৌন্দর্য্য বর্ধন করে।

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

এমনই নানা প্রকার গাছের চারা বিক্রি করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন সুরুজ খাঁন। তাঁর বাড়ি নেত্রকোণা সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের সুলতানগাতী গ্রামে। তিনি এই পেশায় যুক্ত আছেন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পাঁচ সন্তানের পিতা। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তিনি নিজে শুধু স্বাক্ষর করতে জানেন। কিন্তু প্রতিটি ছেলেমেয়েকে তিনি উচ্চ শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তাঁর পাঁচ সন্তান ঢাকায় থেকে পড়ালেখা করছে। এক ছেলে এমবিএ পড়ছে। আর এক ছেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ও ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। দুই মেয়ে এইচএসসি পরিক্ষার্থী। নার্সারির চারা বিক্রি করেই তাঁর সংসার চালানো এবং ছেলেমেয়েদের পড়া লেখার খরচ মেটাতে হয়।

৫ কাঠা (৫০ শতাংশ) জায়গাজুড়ে তাঁর নার্সারিটি অবস্থিত। এই নার্সারিতে ১৬ ধরণের ফলজ গাছ যেমন, আম, কাঁঠাল, পেঁয়ারা, বিলম্বী, অড়বড়ই, ডালিম, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, আমড়া, লেবু, পেঁপে, খেঁজুর, চালতা, লিচু, সুপারি, জাম ইত্যাদি রয়েছে। বনজ গাছের মধ্যে রেইনট্রি ও মেহগনি এবং ঔষধি গাছের মধ্যে অর্জুন, নিম, বহেড়া, হরিতকি ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়াও আছে দারুচিনি, ২ ধরণের বারোমাসী মরিচ ও বকুল ফুলের চারা। তিনি বিভিন্ন প্রকার জবা ও গোলাপের চারাও তৈরি করেন। বারসিক’র সহযোগিতায় চারা কলম তৈরি করার একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রশিক্ষকের শেখানো পদ্ধতি অবলম্বন করে শাখা কলম করে  প্রায় ৩০০টি লিচুর চারা তৈরি করেছেন।

প্রতি বছর তিনি ১৫Ñ২০ হাজার চারা তৈরি করে বিক্রি করেন। চারা তৈরির পাশাপাশি তিনি তাঁর জমিতে সবজি চাষও করেন। এই মৌসুমে তিনি ৬ কাঠা (৬০শতাংশ) জমিতে সরিষা, এক কাঠা (১০ শতাংশ) জমিতে আলু ও এক কাঠা (১০ শতাংশ) জমিতে আইশনা জাতের শিম চাষ করেছেন। নার্সারির চারার ফাঁকে ফাঁকে বরবটির চারা রোপণ করেছেন।  নার্সারিসহ সবজির জমিতে তিনি গোবর ও অন্যান্য জৈব সার প্রয়োগ করে থাকেন।

তাঁর স্ত্রী মমতা আক্তার নার্সারির পরিচর্যা, চারা রোপণ ইত্যাদি কাজে তাকে সহযোগিতা করেন। সুরুজ খাঁন এলাকার বিভিন্ন বাজার যেমন, লক্ষ্মীগঞ্জ, মদনপুর, অভয়পাশা, কৃষ্ণরামপুর, বিরামপুর, কেন্দুয়া ইত্যাদি বাজারে চারা নিয়ে বিক্রি করেন। বর্ষা মৌসুমে  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামে চারা বিক্রি করেন। জনসংগঠনের উদ্যোগে বিতরণকৃত এই চারা তিনি ন্যুনতম মূল্যে সরবরাহ করেন।
গত মৌসুমে সুরুজ খাঁন ১৫ হাজার (ফলজ ও ঔষধি) চারা বিক্রি করেছেন। প্রতিটি চারা গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। উপার্জনকৃত টাকা দিয়ে তিনি ৬ কাঠা (৬০ শতাংশ) জমি কিনেছেন। দেশীয় ও স্থানীয় প্রজাতির চারা বলে তাঁর চারার চাহিদা প্রচুর। অনেক পাইকার বা বিক্রেতা এসে তাঁর বাড়ি থেকেও চারা তুলে নিয়ে যায়। তাঁর নিজস্ব বীজ থেকে তিনি চারা তৈরি করেন। কারণ প্রতিটি গাছই তাঁর বাড়িতে আছে। বাড়িতে লাগানো গাছ থেকে একদিকে যেমন তিনি পুষ্টির চাহিদা পূরণ করেন অন্যদিকে তেমন ফল বিক্রি ও চারা তৈরির মাধ্যমে টাকা উপার্জন করেন।

happy wheels 2
%d bloggers like this: