Posted in

আমিও পারি পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ
রাজশাহীর পবা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মোসাঃ আন্জুয়ারা বেগম। তাঁর আন্জুয়ারার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন। স্বামী রুস্তম আলী একজন দিনমজুর। তাদের বসতভিটার পরিমাণ ৫শতক। ২০১৮ সালে বারসিক এই নারীকে পেয়ারা চারা বিতরণ করে। আনজুয়ারার সেই পেয়ারা গাছ ভালো আছে এবং ফল ধরতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, পেয়ারার চারাগুলো যতœ সহকারে বাড়ির আঙ্গিনায় লাগাই। গতবছর থেকে সেই গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করেছে। তবে এই বছর সবচয়ে বেশি ফল ধরেছে। তাই আমার পরিবার খুব খুশি। আমি এই দুটি গাছ থেকে ১০ কেজি পেঁয়ারা বিক্রি করেছি।’
তিনি জানান, গ্রামের অনেকে তাঁর গাছের পেয়ারা পছন্দ করেন। কারণ এই পেয়ারা নিরাপদ এবং বিষমুক্ত। তাদের গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষের আগে থেকে পেয়ারার গাছ আছে। তাই সবাই মিলে অন্তত ফলের দিক থেকে এই গ্রামের মানুষের পেঁয়ারা ফলের চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন বলে তিনি মনে করেন।


মোসা আন্জু আরা বেগম বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষেরা যদি দুটি করে ২টি জাতের ফলের গাছ বাড়ির আশে পাশে আনাচে কানাচে লাগাই তবে অন্তত কিছুটা হলেও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবো। যেমন বারসিকের সহায়তায় এই পেঁয়ারার গাছ পাওয়ার পর বাজার থেকে একটি আমড়ার গাছ কিনে এনে লাগিয়েছি। এখন সেই আমড়ার গাছে ফল ধরছে। তাই শুধু ফলের গাছই না পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির আশেপাশে মাচা তৈরি করে সবজি চাষ করতে পারি। তাতে করে নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখার জন্য নিরাপদ খাবার খেতে পারি।’


আন্জুয়ারা বেগমের মতে, আমাদের বাড়ির আশেপাশে আনাচে কানাচে যার যেমন জায়গা আছে সেখানেই অন্তত ২টি করে ফলের গাছ এবং শাকসবজি লাগানো উচিত। তাতে করে আমরা পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবে এবং গ্রামটিকে সবজি ও ফলের মডেল গ্রাম বলে ঘোষণা করতে পারবো। তাই আমরা নিজেই ফলের ও সবজির গাছ লাগাবো এবং অন্যজনকে তা করতে উৎসাহিত করবো। তাই নিজেই সুস্থ থাকবো এবং সমাজের মানুষকে সুস্থ রাখতে সহায়তা প্রদান করবো।’
উল্লেখ্য, রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের একটি গ্রাম হচ্ছে মাধবপুর। এই গ্রামের র্পূবাশা নারী কেন্দ্র সংগঠনের উদ্যোগে এবং বারসিক’র সহায়তায় গত ২০১৮ সালে গ্রামের ৩০টি পরিবারের মাঝে পেঁয়ারার চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত চারা ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের পেয়ারার চারা ভালোভাবে বেঁচে আছে এবং ফলও ধরছে। সেই ৩০টি পরিবারের মধ্যে অন্যতম একজন গৃহিনী হচ্ছেন মোসাঃ আন্জুয়ারা বেগম।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.