Posted in

আমন বীজের ভাসমান হাট

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূলীয় অঞ্চল :

উপকূলীয় পিরোজপুর অঞ্চলে অঞ্চলে এখন আমন আবাদের ভরা মৌসুম। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে টানা বৃষ্টিপাত, বৈরী আবহাওয়া ও মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে উপকূলের অনেক এলাকায় আমনের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা বীজ সংকটে পড়েছে। এমন অবস্থায় বিপন্ন কৃষককে আমন বীজ সংগ্রহ করতে হয়। পিরোজপুরের কাউখালী অঞ্চরের কৃষিজমি কিছুটা উচু হওয়ায় সেখানে জলাবদ্ধতার ক্ষতি অনেক কম। সেখানকার কৃষকরা এ মৌসুমে আমন বীজতলা আবাদে সুফল পেয়ে আসছেন। কাউখালীর কৃষকরা তাঁদের লোকায়ত জ্ঞানেই আমন বীজতলা তৈরি করছেন বাণিজ্যিকভাবেই। ফলে কাউখালী অঞ্চলের কৃষকরা আমন মৌসুমে নিজেদের চাহিদার পাশাপাশি আমন বীজ বাজারজাতের জন্য বাড়তি বীজতলা তৈরি করে এ মৌসুমে লাভবান হচ্ছে। আর কাউখালীর আমন বীজ উপকূলের বিপন্ন কৃষকের বীজ সংকট মোকাবেলা করে আসছে। শত বছরের পুরানো কাউখালীর আমন বীজ তলার ভাসমান হাট। বর্তমানে আমন আবাদ মৌসুমকে ঘিরে পিরোজপুরের কাউখালীতে এখন জমজমাট আমন চারা বিক্রির ভাসমান হাট।

devdas-pic-amon-01
কাউখালী শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার চিরাপাড়া সেতু সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার বসে আমন চারার হাট। উপকূলজুড়ে আমন চারা পেতে বিপন্ন কৃষকরা কাউখালীর এ ভাসমান চারার হাটে আসেন।এ হাটে কয়েক লাখ টাকার আমন চারা বেচা কেনা চলে। স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, কাউখালী অঞ্চল অন্যান্য এলাকার তুলনায় জমি উঁচু বলে এখানে জলাবদ্ধতা তেমন নেই ফলে বীজতলা নষ্ট হয়নি। এ কারণে অন্যান্য এলাকার কৃষকরা আমন চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর এ ভাসমান বীজের হাটে আসছেন। পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি ও বাগেহাটের কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ীরা এ হাটে চারা কিনতে আসছেন। পরিবহনে সুবিধার কারণে নৌকা, ট্রলারে ও পিকআপ ভ্যান, টমটম, নছিমনে করে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এখানে বীজের হাটে আসেন।

devdas-pic-amon-2
কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী অঞ্চলের মাঠ অন্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক উঁচু। ফলে জলাবদ্ধতাও কম। এলাকার কৃষকরা বীজতলা করে সফলতার মুখ দেখছেন। এখানে যুগ যুগ ধরে ধান বীজ বিক্রির বাণিজ্যিক বাজার গড়ে উঠছে। এখানে উৎপাদিত ধানের চারা অত্যন্ত ভালো মানের। তাই বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা এ হাট হতে চারা সংগ্রহ করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার পরও এখানে ভালো ধানের চারা উৎপন্ন হয়েছে। এ কারণে এখানের ভাসমান আমন চারার হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে । রাজাপুরের এলাকার বীজ ব্যবসায়ী সোহরাফ আলী জানান, ভাসমান বীজের হাটে ৮০ গন্ডা (মুঠি) মানে একপণ আমন বীজ ১৫’শ থেকে ১৭’শত টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ বীজ আবার অন্য অঞ্চলে আরও বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। কাউখালীর ভাসমান হাটে মানসম্মত ধানের বীজ (চারা) পাওয়া যায় বলে এ হাট হতে উপকূলের কৃষকরা চারা কিনতে এ হাটে আসেন।devdas-pic-amon-3

গন্ধর্ব গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান জানান, গত মৌসুমে ৮০ গোন্ডা ধান বীজ (চারা) সর্বোচচ ৮০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছিল। এবার আমাদের এলাকায় অতি জোয়ার ও বৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ বীজ উতপাদন হয়নি। এতে আমন বীজের এবার মূল্য চড়া। গতবারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশিমূল্যে এবার ধান চারা বিক্রি হচ্ছে।

কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, “এবার উপকূলীয় অঞ্চলে আমন চারার সংকট চলছে। তবে কাউখালীতে এ সংকট নেই। এখানে এবার ভালো বীজ উৎপাদন করেছেন কৃষক। তাছাড়া এখানে বাণিজ্যিকভাবেই কৃষক আমন চারা উৎপাদন করছেন। ফলে কাউখালীতে গড়ে উঠেছে আমন ধান চারার ভাসমান বাজার।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.