সাম্প্রতিক পোস্ট

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পরিবেশকে বাঁচাতে চায় মঙ্গলসিদ্ধ গ্রামের শিক্ষার্থীরা

নেত্রকোনা থেকে পার্বতী রাণী সিংহ ও শামীম আহমেদ

মঙ্গলসিদ্ধ গ্রামকে একটি সবুজ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেছেন ওই গ্রামের তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। নিজেরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়ে, টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তারা বিভিন্ন দেশীয় গাছের চারা ক্রয় এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রত্যেকের বাড়ির সামনে এসব গাছ রোপণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের এলাকায় যেসব জাতের গাছ কম বিশেষ করে ফলদ, ওষুধি ও বনজ গাছের চারাই বেশি করে রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে এই যুবকরা।

tifin

মঙ্গলসিদ্ধ গ্রামের তরুণদের একটি সংগঠন আছে। নাম কদমতলী যুব সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ,স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষাসহ নানান সামাজিক ও পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। স্কুলের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বা বিভিন্নজনের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়ে তারা পরিবেশ বাঁচানোর জন্য গাছ রোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি তাদের সংগঠনের অন্যতম পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি। এছাড়া এ তরুণরা এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করছে। সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে তারা নানাভাবে উদ্যোগী নিয়েছে, তাদের মতো করে মানুষকে সচেতন করে তুলেছে। তাদের এই উদ্যোগের সাথে শামিল হয়েছে শ্রীপুর উৎসুক কিশোরী সংগঠন, যারা সামাজিক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে কিশোরীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। যুবকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে ৩৫০ শিক্ষার্থীদের তাদের টিফিনের টাকা থেকে ১০ টাকা বাঁচিয়ে স্থানীয় জাতের ৮ ধরনের ফল, ২ ধরনের ঔষুধি গাছের চারা সংগ্রহ করেছে।

tifin-1

জলবায়ু পরির্বতন হচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে বিশ্বব্যাপী নানান উদ্যোগ নিয়েছে নামকরা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সরকার ও জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনগুলো। বাংলাদেশ সরকারও জলবায়ু ইস্যুতে যথেষ্ট সচেতন। জলবায়ু পবিবর্তন প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য এলাকাভিত্তিক মানুষের অভিযোজনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। নিজের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে গাছের চারা ক্রয় এবং রোপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার একটি ছোট্ট গ্রামের যুবকরা নিশ্চয়ই রাতারাতি কোন পরিবর্তন আনবে না। তবে যে পরিবর্তন তারা সূচিত করেছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা হলো গাছের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তারা সচেতনতা তৈরি করতে পেরেছে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণীল ও পেশার মানুষের মাঝে। শুধু গাছ রোপণ করলে হবে না; বরং দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছও যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সেই বার্তা তারা দিতে সক্ষম হয়েছে। উপরোন্তু তাদের এই ভাবনা ও উদ্যোগ ছড়িয়ে দিয়েছে মঙ্গলসিদ্ধ এস.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের আরো ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝেও!

happy wheels 2
%d bloggers like this: