Posted in

এ যেন এক নতুন অভিজ্ঞতা… স্কাউট জাম্বুরী থেকে ফিরে

সাতক্ষীরা থেকে ফজলুল হক
মার্চের ৪ তারিখ বেলা ১২ টার দিকে হঠাৎ অফিস থেকে ফোন, আমি তখন বারসিক সাতক্ষীরা অফিসে, মাসিক পরিকল্পনা নিয়ে বসছি সবাই। ফোন করে বলল তোমাকে ৬ তারিখে গাজীপুর স্কাউট জাম্বুরীতে যেতে হবে। আর বলল তোমার সাথে, তোমার পরিচিত একজনকে নিতে হবে। আমি শুধু শুনে গেলাম আর আচ্ছা, আচ্ছা করতে লাগলাম। আরো বলল জাম্বুরীতে প্রায় ৭/৮ দিন থাকতে হবে সেইভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যেও। আর শ্যামনগর থেকে মেলার জন্য কিছু জিনিসপত্র আছে সেগুলো তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। আমি বললাম ঠিক আছে দাদা। ফোনটা কেটে গেল আমার তখন একটু ভয় ভয় করতে লাগলো, কি জানি না, কি হয়? যাই হোক, ঢাকা অফিসে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে আরো বিস্তারিত জেনে নিলাম। তারপর আমার সাথে কাকে নেবো এমন চিন্তা করতে লাগলাম। আর আমার আবার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে স্কাউটে যেতে হবে আমি তো স্কাউটের ছাত্র ছিলাম না, ওখানে গিয়ে কি যে করতে হবে? তাই চিন্তা করলাম আমার সাথে স্কাউটের ছাত্র এমন কাউকে নিতে হবে। হঠাৎ করে মুন্সিগঞ্জ কলেজে পড়ে মোস্তাফিজুর রনির কথা মনে পড়ে গেলো। সে আবার সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্যা। তাৎক্ষণিক তাকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানালাম, সে রাজি হলো। তারপর ৫ তারিখে শ্যামনগর অফিসে গেলাম মেলার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে নিলাম। তারপর দুইটা টিকিট কাটলাম ৬ তারিখ সকার ৭ টায় এ কে ট্রাভেলে। রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্য ৬ তারিখ সকালে ।

গাড়ীর ভিতরে উঠে কানে ইয়ার ফোন দিয়ে গান শুনতে লাগলাম, আবার সেলফি তুলে ফেসবুকেও দিলাম, মাঝে মাঝে জাহাঙ্গীর ভাই ফোন করে খোঁজ নিয়ে ছিল কতদুর আসছি। বাড়ি থেকেও ফোন দিয়ে ছিল, তারপর আরিচাতে গিয়ে গাড়ী থেকে নেমে কিছু খেয়ে নিলাম। এমনিভাবে গেলাম রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে গাবতলীতে। তার গাবতলী থেকে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের সামনে গেলাম সিএনজি যোগে। মহিলা কলেজে সামনে আবার বারসিক’র ঢাকা অফিস। ঢাকা অফিসে জাহাঙ্গীর বারসিক’র নিবাহী পরিচালক সুকান্ত সেন ও সমন্বয়কারী পাভেল পার্থ দাদার সাথে কথা হলো এবং এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো।

IMG_20190309_152123

পরদিন রওনা দিলাম গাজীপুর মৌচাক স্কাউট স্কুল এন্ড কলেজের উদ্দেশ্য। অনেক জ্যামের ভিতর দিয়ে লোকজনের কাছে শুনতে শুনতে পৌছালাম গাজীপুরে মৌচাকে। মৌচাক স্কুল এন্ড কলেজ প্রধানের সাথে কথা বলে বারসিক’র স্টল নাম্বার ((স্টলের নাম্বার ছিল ৪৪)।) যোগার করলাম। সেখানে স্টল ছিল ৫১টি। অনেকেই তখন আসেনি। তারপর পানি দেখে আমরা যারা মেলার স্টল দিতে আসছিলাম তারা সবাই মিলে পানি সরানো ও বালি দেওয়ার দাবি জানিয়ে ছিলাম। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস প্রদান করে ছিল ।

যত বিকাল হতে শুরু করলো তত স্টলের প্রতিনিধিরা আসতে শুরু করলো। এবার চিন্তা মশার কামড় থাকবো ও খাবো কোথায়? আমরা ৪/৫ জন মিলে গেলাম কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করল। স্কুলের একটি কক্ষের চাবি আমাদের কাছে দিল, দিয়ে বলল আপনারা ৫ টি স্টলের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আর খাবারের কুপন, গেঞ্চি, ক্যাপ, টাই, আইডি কার্ডের ব্যবস্থার চেষ্টায় আছি বলল। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ভিলেজের (এস.ডি.ভি) কর্তৃপক্ষের ব্যবহার ছিল, দায় দায়িত্ব ছিল অতুলনীয়, অভিযোগ দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তারপর রাত দশটাই এলো খাবার কুপন। কূপন আসার আগে আমরা দুজন হোটেল থেকে খাওয়া দাওয়া শেষ।

পরদিন সকালের নাস্তা করে শুরু করলাম স্টল সাজানোর কাজ, আমি ও মোস্তাফিজুর রহমান রনি অন্যদের থেকে যত ভালো করে সাজানো যায়। সাজাতে সাজাতে দুপুর প্রায় ১২.৩০ মিনিট। মোট ৫০টি স্টলের মধ্যে এনজিওদের স্টল ছিল ২৬ টির মতো। অন্যগুলো ছিল স্কাউট দলের ও কিছু দোকান এবং একটি স্টলে ছিল পুতুল নাচ। মাঠে এসডিজির ব্যানার ও পোস্টারে ভরা ছিল এবং মাঠের মধ্যে বায়স্কোপ ছিল দুইটা। বেলা তখন ২.৩০ মিনিট তখন প্রচন্ড চাপ দর্শনার্থীদের প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছে দেশি, বিদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা এবং কিছু প্রশ্নপত্রও ছিল; সঠিক উত্তরদাতাকে পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। তাই তারা পুরস্কারের আসায় প্রতিটি স্টলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে উত্তর খুঁজতেছিল। আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা ছিল। এমনিভাবে প্রতিদিন এক একটি দল আসতো- স্কাউট, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। আর রাতে আসতো সাধারণ দর্শনার্থীরা, মেলা চলতো রাত ৯টা পযর্ন্ত।

IMG_20190311_201032

যাই হোক ১০ তারিখ এসে গেল। সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাই আমরা ড্রেস পরে সেজেগুজে নিলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম.পি.। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কমিশনার (বিধি), অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও আহবায়ক, জাম্বুরী সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট উপ-কমিটি শেখ ইউসুফ হারুন।

১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর থিম নির্ধারণ করা হয়েছিল “যোগ্য নেতৃত্বে উন্নত দেশ”। বাঙালি জাতির পিতাকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট পরিচিত করার জন্য জাম্বুরীর মূল এলাকার নামকরণ করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। জাম্বুরীতে ৪টি ভিলেজে করা হয়েছিল। ৪টি ভিলেজের নামকরণ করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর (১) সৈয়দ নজরুল ইসলাম, (২) তাজউদ্দিন আহমদ, (৩) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, (৪) এইচ এম কামারুজ্জামান এর নামে। ৪টি ভিলেজের অধিনে ১২টি সাব ক্যাম্প কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করা হয়েছিল (১) রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, (২) কাজী নজরুল ইসলাম, (৩) মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (৪) জসিম উদ্দিন, (৫) সুফিয়া কামাল, (৬) ইমরান নুর, (৭) জীবনানন্দ দাশ, (৮) এম মাহাবুবুজ্জামান, (৯) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, (১০) হুমায়ুন আহমেদ, (১১) সৈয়দ শামসুল হক ও (১২) শামসুর রহমান।

IMG_20190314_163337

কেন বারসিক স্টল দিয়েছিল? বারসিক এর স্টলে যা ছিল
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিপ্রাণ বৈচিত্র্য, শিক্ষা সংস্কৃতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, দুর্যোগ, সুন্দরবন, যুব সমাজ এবং স্থানীয় সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের লোকায়ত জ্ঞানকে প্রধান্য দিয়ে তাদের কাজকে আরো গতিশীল করে সমাজে বৈচিত্র্য, আন্তঃনির্ভরশীলতা ও বহুত্ববাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক দারিদ্র, ক্ষুধা, সু-স¦াস্খ্য, শিক্ষা, লিঙ্গীয় সমতা, বৈষম্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে সরকারের এসডিজির লক্ষ্যমাত্র্য পূরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বারসিক মূলত দেশি-বিদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মাঝে উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব মোকাবেলার আলোকচিত্র এবং স্থানীয় জাতের ধান, অচাষকৃত শাক সবজির বীজের প্রদর্শন, সুন্দরবনকে রক্ষার্থে কিছু ব্যানার, লিফলেট, ফেসটুন প্রদর্শন করে বুঝানো যে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা, টিকে থাকা এবং স্থানীয় ধান ও সবজির সংরক্ষণের কৌশলগুলো।

বারসিক’র স্টলে ছিল ৪৩ প্রকারের স্থীনীয় জাতের ধান (দূধকলাম, রাজাশাইল, কলমিলতা, হামাই, মোতামোটা, গোপালভোগ, কালোমোটা, মালতি, বৌ সোহাগি, খাকশাইল, নোনাকচি, হাতিরজোড়, পরদবালাম, সাদাস্বর্ণা, আলীকাঞ্চন, মঘাইবেতী, সাদাগোটাল, নেড়াবেত, জামিনিমোটা, হরি, জামাইনাড়–, কুমড়াভোগ, ঘিগজ, কাঠিগচ্ছা, হোগলা, সৈয়দ মোটা, গোবিন্দভোগ, মরিচশাইল, মহিমে, রুপশাইল, হলদে গোটাল, খাইনল, মঘাইবালাম, জামিনিমোটা, কাডিডিট, ভূতেস্যালট, সুধা, দূর্গাভোগ, কাঞ্চন, সিলেটবালাম, কাটারিভোগ, সতীন)। ১৪ প্রকারের স্থানীয় জাতের শাকের ও অচাষকৃত শাকসবজির বীজ (কাটানটি, কারমেঘা, কলমি, ডাটাশাক, বেতশাক, তেলাকচু, সঞ্চি শাক, গিমাশাক, লালশাক, পুইশাক, বরবটি, লাউ, কুমড়া, শিম)। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব মোবাবেলার ২০টি আলোক চিত্র, ৬টি ফেসটুনে সুন্দরবনের ছবি সহ স্লোগান (নদীতে বর্জ্য ফেলব না, এই কথাটি ভূলব না, আমাদের শ্বাস, আর গাছের নিঃশ^াস, এভাবে বেচে থাকবে সবার বিশ^াস, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর মাঝে সুন্দরবন, প্রকৃতির বিপর্যয়ে রক্ষা করে সবার জীবন, সিডর, আইলা ও মহাসেনের মত প্রকৃতিক দূর্যোগে, নদীর বাঁধ ভেঙে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে উপকূলীয় জন জীবনকে। আসুন উপকূলীয় বাঁধে লবণ সহনশীল তাল, খেঁজুর, তেঁতুল, পরশপেপুল, কদবেল, নিম, বাবলা এবং বাঁধ সংলগ্ননদীর চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির কেওড়া, গোলপাতা, বাইন, কাঁকড়া, খলিশা, গরান, পশুর গাছের বনায়ন করে রক্ষা করি আসাদের প্রিয় আবাসভুমিকে, গাছ লতা-পাতা বৃক্ষ, সর্বত্রই প্রাণের আধিক্য)। ৪০০টি বারসিকের উপকূলীয় অঞ্চলের সেবাসমূহ সম্বলিত লিফলেট এবং ১০০টি আমাদের পরিবেশ ছিল বিতরণের জন্য।

স্টল দেখে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীরা নানান প্রশ্ন করলেন। দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে কষ্ট হতো। আমার সাথে মোস্তাফিজুর ছিল। কিন্তু সে বারসিক সম্পর্কে খুব একটা ভালো জানতো না। তারপর আমার কথা শুনে পরে মোস্তাফিজুর ও দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতো। সব চেয়ে মজার বিষয় ছিল সতীন ধান। কারণ একটা ধানে দুইটা চাল দেখার জন্য প্রচুর দর্শনার্থীরা ভিড় করতো। তারা নিজেরা দেখা না পর্যন্ত বিশ^াস করতো না যে, একটা ধানে দুইটা চাল হয়। দেখার পর আবাক হয়ে যেত এবং অনেকে বলেন যে এমন ধান কখনো তারা জীবনে কখনও দেখেনি, এই প্রথম দেখলেন। কেউ কেউ আবার নাছোড়বান্ধা ধান দুই একটা দিতেই হবে, বাড়ি নিয়ে অন্যদের দেখানো জন্য নিয়ে যেত সতীন ধান। কিন্তু আমরা তো একটি প্রেট্রিডিস্কে অল্প পরিমাণ নিয়ে গিয়েছিলাম, তারপর ডিস্ক খুলে কিছু বের করে নিয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত একটাও ছিল না। আমাদের কাছ থেকে অনেকেই নাম্বার নিয়েছিলেন যোগাযোগ করার জন্য এবং বলেছিল বারসিকের স্টলটি একটি ব্যতিক্রম স্টল, অনেক ভালো লেগেছে বলে অনেকেই এমন মতামত ব্যক্ত করেছিলেন।

স্কাউট জাম্বুরীতে যেসব এনজিও স্টল দিয়েছিল
জাম্বুরীতে প্রায় ২৬টি এনজিও এবং ২৫টি স্কাউট দলের ও দোকানসহ মোট ৫১টির মত স্টল ছিল। কারিতাস, সুশীলন, বারসিক, কেয়ার বাংলাদেশ, সিএমইএস, সিসিডিবি, ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার, সিমবায়োসিস বাংলাদেশ, সিএনআর এস, হেল্প দা নেডী, ইউসেপ বাংলাদেশ, ওয়ার্ড ভিশন, আনন্দ, ব্র্যাক, সাজেদা ফাউন্ডেশন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, শিশু পল্লী প্লাস, নারী পক্ষ, নারী মৈত্রী, বিওয়াইএলসি, আদি মধু, দি স্যালভেশন আর্মী বাংলাদেশ, ইসপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, অক্সফার্ম, এমসিসি। যে প্রতিষ্টান যে সকল বিষয়ে কাজ করে, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল।

যে দেশগুলো স্কাউট জাম্বুরীতে অংশ গ্রহণ করেছিল
জাম্বুরীতে বাংলাদেশের সকল জেলা উপজেলা থেকে ১০০৩ টি স্কাউট দলের ৯০২৭ জন সহ ভারত, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ব্রুনাই দারুস সালাম, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফিলিপানের স্কাউট ও কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সেচ্ছাসেবক আর সাধারণ দর্শনার্থী মিলে অংশগ্রহণকারী প্রায় ১০- ১৫ হাজার ।

IMG_20190310_194243

স্কাউট জাম্বুরীতে শিক্ষণীয় বিষয় যা ছিল
যে সব বিষয় জাম্বুরীতে গিয়ে জানলাম বা শিখলাম তার মধ্যে অন্যতম হলো: স্কাউট দলের ম্যানেজমেন্ট, দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়ম শৃঙ্খলা, এনজিও প্রতিষ্ঠান গুলোর কার্যক্রম, পতুলনাচ ও বায়োস্কোপ, এসডিজির ১৭ টি গোল সম্পর্কে ধারণা, তাবুর ভিতরে দলবন্ধভাবে থাকার কৌশল, এনজিওদের দেওয়া লিফলেটের তথ্য, বিদেশীদের সাথে বারসিক’র স্টল সম্পর্কে কথা বলা, বাংলাদেশের সকল জেলার ছেলে মেয়েদের সাথে দেখা ও কথা বলা এবং একে অপরের সহভোগিতা। এই শিক্ষাগুলো আমার জীবন ও কর্মক্ষেত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এছাড়া বারসিক’র স্টল পরিদর্শন শেষে অনেকে অনেক ভালো মন্তব্য করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ দিয়েছেন যা, আমাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকের সাথে মিশে, কথা বলে এবং সম্পদব্যক্তিদের বক্তব্য ও শিক্ষাদান আমার জীবনের জন্য অন্যতম এক সুখময় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

এলো ১৪ মার্চ, ২০১৯ অথ্যাৎ জাম্বুরীর শেষ দিন। বিকাল ৫টায় সমাপনী ও পুরস্কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে গেলে স্কাউট জাম্বুরী ২০১৯। আমরা এবার স্টলের সব কিছু গুছিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা আজ যাবো না। ১৫ মার্চ রওনা দিয়ে আসি বারসিক ঢাকা অফিসে প্রায় ১২ টার দিকে। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বারসিক কর্তৃপক্ষকে। আমাকে স্কাউট জাম্বুরী ২০১৯ এ যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি জাম্বুরীতে যেতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বারসিক যে দায়িত্ব আমাকে দিয়ে পাঠিয়ে ছিল তা আমি দায়িত্বের সাথে পালন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.