Posted in

কারেন্ট জাল নিষিদ্ধের আইন কার্যকরের দাবি রাজশাহীর তরুণদের

রাজশাহী থেকে আতিকুর রহমান আতিক

রাজশাহীর পবা উপজেলায় কুলবাগানে (বরই বাগান) পেতে রাখা কারেন্ট জালে শতাধিক পাখির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর তরুণেরা। রাজশাহীর তরুণ সংগঠন ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) এ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক কে পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

রাজশাহীর তরুণ সংগঠন ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) এর সভাপতি তরুণ নেতা শামীউল আলীম শাওন ও সাধারণ সম্পাদক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী নাজমুল ইসলাম আকাশ যৌথ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি স্মারকলিপি গতকাল দুপুরে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক-কে প্রদান করা হয়। তরুণ সংগঠন ইয়্যাসের সভাপতি তরুণ নেতা শামীউল আলীম শাওনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দফতরে গিয়ে পৃথক স্মারকলিপি দুটি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে তরুণ সংগঠন ইয়্যাসের কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক, রিনা আক্তার, সুবাস কুমার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বাগানে পেতে রাখা কারেন্ট জালে প্রাণ গেল ঘুঘু-মাছরাঙা-বুলবুলিসহ শতাধিক পাখির’ শিরোনামে সম্প্রতি (গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং) বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্র  ‘প্রথম আলো’তে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সূত্র দিয়ে প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়েছে যে, “ছোট পাইকপাড়া গ্রামে প্রায় ১৭ বিঘার কুলবাগানে পাতা কারেন্ট জালে শতাধিক পাখি আটকা পড়ে মারা গেছে”। খবর পেয়ে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন অভিযান চালিয়ে ওই কুলবাগানের জাল তুলে পুড়িয়ে দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে যে, ‘বরই রক্ষায় কারেন্ট জাল, প্রাণ হারাচ্ছে দেশি-বিদেশি পাখি’ শিরোনামে অনলাইন সংবাদপত্র ‘বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এ গত ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে, “পঞ্চগড় শহরের উপকণ্ঠে কামাতপাড়া এলাকায় একটি বরই বাগান রক্ষার জন্য পাতা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে প্রতিনিয়তই প্রাণ হারাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পাখি। শনিবারও (২৭ জানুয়ারি) কামাতপাড়াস্থ জালাসি এলাকার হজরত আলীর ওই বরই বাগানে ফাঁদের জালে আটকে শতাধিক পাখি মারা গেছে।”

গত ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে কারেন্ট জালে মরছে শত শত পাখি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বরই চাষিদের কারেন্ট জালের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন মরছে শত শত পাখি। পাখিদের কবল থেকে বরই রক্ষা করতে তারা ব্যবহার করছে অবৈধ কারেন্ট জাল।”

এছাড়াও ‘পাখির প্রাণের মূল্যে বরই বাগান রক্ষা !’ শিরোনামে গত ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ মাধ্যম ‘ইউএনবি’ সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করে এভাবেই প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কারেন্ট জালের কারণে পশু-পাখির মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আমাদের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। কোনো পশু-পাখিরই এভাবে মৃত্যু অনাকাংখিত। কারেন্ট জালে শতাধিক পাখির মৃত্যু প্রাণবৈচিত্র্যর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় ২০০২ সালে সংশোধিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে যে, আইন করে কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ করা হলেও তা বাস্তবে বাস্তবায়িত হয়নি। বন্ধ হয়নি কারেন্ট জালের উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার। আর এতে প্রাণবৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করে রাজশাহীসহ সমগ্র দেশব্যাপী অবিলম্বে কারেন্ট জালের উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়াও রাজশাহীর পবা উপজেলায় কুলবাগানে (বরই বাগান) নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট বাগানে পেতে রাখায় শতাধিক পাখির মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত অপরাধীর অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.