Posted in

ছোট বড় সকলের চেনা মানুষ মইন্টার মা

মানিকগঞ্জ থেকে আছিয়া আক্তার
জীবন মানে যুদ্ধ, জীবন মানে সংগ্রাম। জীবনে আছে আনন্দ, জীবনে আছে বেদনা। জন্ম থেকে যারা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে বড় হয়েছে, তারা কখনও দুঃখ, দারিদ্র, অভাব, অনটন কি তা বুঝবেনা। কিন্তু যারা কষ্টের বেড়াজালে পড়েছে একমাত্র তারাই জানে দুঃখ,দারিদ্র কি। দুঃখ দারিদ্রের বেড়াজালে পরে শেষ হয়ে গেছে কত জীবন, আবার কেউ কেউ প্রবল মনোবল নিয়ে উর্ধ্বে দিকে গমনও করেছে। কেননা এ স্বার্থপর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে সব দুঃখ কষ্টকে মোকাবেলা করেই বেঁচে থাকতে হবে। তবে এ কঠিন সংগ্রামী জীবনে যদি না থাকে কোনো সঙ্গী তবে জীবনটাই হয়ে যায় দুর্বিসহ। এমন দুর্বিসহ জীবনটাকে নিজের একার প্রচেষ্টা দিয়ে অন্ধকার সরিয়ে আলোর দিকে দাবিত হয়েছেন আলোকবর্তিকা আলেয়া বেগম ।


মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের পাছপাড়া গ্রামের নারী আলেয়া বেগম। আলেয়া বেগমের বয়স ৬৫ বছর ,স্বামী মৃত মো. ময়ূর আলী। দুই সন্তানের জননী তিনি। বড় ছেলের নাম আব্দুর রহমান (৪০), ডাক নাম মন্টু। বড় ছেলে মন্টুর ২ মেয়ে ১ ছেলে । ভ্যান গাড়ি চালায়, ঝাল মুড়ি, টিক্কা বিক্রি করে। আর ছোট ছেলের নাম আব্দুস ছালাম (৩৮), ডাক নাম ঝন্টু । ছোট ছেলে ঝন্টুর ৪ মেয়ে এক ছেলে।
ছেলে দুটো ছোট থাকা অবস্থায় স্বামী মারা যায়। যখন তার স্বামী মারা যায়, তখন তাদের ঘরে খাবারের জন্য এক মুঠো চাল না থাকায়, ছেলে দুটো নিয়ে তিনি পরে যান কষ্টের সাগরে। আলেয়া বেগম কি করবে ভেবে না পেয়ে বাজারে দোকানে দোকানে পানি দেয়ার কাজ শুরু করেন। তখন (১৯৮৮) এক কলস পানি দিলে ১০ পাই করে পেত, বর্তমানে পায় ১০ টাকা। আবার কেয়ারের কাজও শুরু করেন। তবে মাটি কাটার কাজ করতে গিয়েও শান্তি নেই। কাজ করে পুরুষের সমান সমান, সময়ও একই কিন্তু মজুরি পায় অনেক কম। আবার এ কাজটা ঠিকমত পাওয়াও যায় না। পরে তিনি আবার শুরু করেন সিংগারা, পুরি, সমচা, নিমকি, ঝালমুড়ি বানানো ও বিক্রির কাজ। আর এসব বিক্রি করতে গিয়ে সকলের কাছে পরিচিত হন মন্টার মা বলে।


বড়দের সাথে সাথে ছোট বাচ্চারাও তাকে দেখলেই বলে ওঠে মন্টার মার কাছ থেকে ঝাল মুড়ি খাবো। বায়রা ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রামের সকলে কাছেই তার মুখ পরিচিত। বড় ছেলে মন্টু বউ, বাচ্চা নিয়ে আলাদা থাকে। আলেয়া বেগম ছোট ছেলে ঝন্টুর সাথে থাকে । ছোট ছেলে ঝন্টুর সংসারে বউ, বাচ্চাসহ সদস্য ৯ জন । পরিবারের সকলের খাবার জোগার করা খুবই কষ্টকর তার পক্ষে । তাই তার মা (আলেয়া বেগম ) ছোট ছেলে ঝন্টুর সংসারে থাকে এবং সংসারে খরচ চালায়। আলেয়া বেগমের ছোট ছেলের বউ বলেন, ‘আমার স্বামীর আয় দিয়ে সংসার চলে না। আমার শ্বাশুরি আমাদের সংসার চালায়।’
আলেয়া বেগম বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি কাজ করে যেতে চাই, কারও বোঝা হতে চাই না। আমাকে না, পারলে আমি ছেলেদের পাশে থাকবো।’


সমাজে আলেয়া বেগম কারও করুণা ও বোঝা নয়; তিনি তার নিজের প্রতি বিশ^াসের জায়গা থেকেই তাঁর এই সফলতা। আলেয়া বেগম চান সমাজে তাঁর মত আরো আলেয়া বেগম সৃষ্টি হোক।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.