Posted in

প্রকৃতির উদ্ভিদই গ্রামীণ জীবনের একমাত্র অবলম্বন

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা থেকে মুন্না রংদী:
নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন। যেখানে গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলিম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। সেখানে তারা পরষ্পর একে অপরের সাথে মিলেমিশে আছেন। নিজেদের সুখ দুঃখ সহভাগিতা ও বিপদে সহযোগিতার মাধ্যমে জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে তাঁদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এক ধরণের স্থবিরতা চলে আসে, স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধার মুখে পড়ে।
কিন্তু থেমে থাকার নাম তো জীবন নয়। বেঁচে থাকতে হলে করোনাকে জয় করেই বাঁচতে হবে। তাই কালাপানি গ্রামের থানসেংআ সংগঠনের জরিনা রিছিল তাঁর পরিবারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু অভ্যাস আয়ত্ব করেন এবং সেই চর্চার মাধ্যমে নিজে ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ আছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ভেষজ উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
জরিনা রিছিল প্রতিদিন সকালে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য নিজের আঙিনায় লাগানো গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করেন। এরপর লেবু, আদা, এলাচ, লং ও তেজপাতা মিশিয়ে চা তৈরি করেন। তিনমাস যাবৎ তিনি সকাল বিকাল এভাবে চা তৈরি করে খাচ্ছেন।
তিনি জেনেছেন এই রোগের উপসর্গ হলো হাঁচি, কাঁশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। তাই তিনি পরিবারের সদস্যদের যাতে ঠান্ডা না লাগে সেজন্য অচাষকৃত,প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ব্যবহার শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি তুলসি পাতা ও বাসক পাতা বেছে নিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় নানা ধরণের অচাষকৃত উদ্ভিদের সমারোহ। রাস্তার ধারে, কারো বাড়ির আঙিনায় প্রচুর পরিমাণে এসমস্ত উদ্ভিদ জন্মে থাকতে দেখা যায়।
জরিনা রিছিল প্রতিদিন সকালে বাসক পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এগুলো পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে ছেঁচে রস বের করেন। তারপর এর সাথে তুলসি পাতার রস মিশিয়ে আধাকাপ পরিমাণ সবাইকে খেতে দেন। বাসক পাতার রস একটু তেতো স্বাদের হয়, তবে এতে আদার রস মিশিয়ে নিলে সেটা আর থাকেনা। তাই তিনি পরিমাণমতো আদার রসও মেশান।
সর্দি, কাশি উপশমের জন্য এই তিনটি উপাদানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এসব খেলে বা সর্দিতে আক্রান্ত অবস্থায় এই রস খেলে দ্রুত সর্দি, কাশি সেরে যায়। তাছাড়া বুকে জমে থাকা কফ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে এই উপাদানগুলোর ব্যবহার দীর্ঘদিন যাবৎ হয়ে আসছে। জরিনা রিছিল তাঁর পরিবারের সুস্থতার জন্য এগুলোকেই বেছে নিয়েছেন।
এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যসম্মত চর্চা যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বার বার গরম পানি খাওয়া, জীবাণুনাশক দিয়ে বাড়িঘর পরিষ্কার করা এই অভ্যাসগুলোও চলমান আছে। আবার খালি পেটে কালিজিরা, রসুন, মধু এসব উপাদানও নিয়মিত খেয়ে আসছেন।
সকল শ্রেণি, পেশা, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার জন্যই করোনা একটি আতংকের নাম। প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে কিছু চর্চা করে যাচ্ছেন। এবং এই চর্চার ক্ষেত্রে সবার আগে স্থান পেয়েছে অচাষকৃত উদ্ভিদ। বর্তমান সময়ে অচাষকৃত উদ্ভিদ হয়ে উঠেছে গ্রামীণ সমাজের এক অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। নারীদের দীর্ঘদিনের চর্চা, জ্ঞান এবং অচাষকৃত উদ্ভিদ করোনা ঠেকাতে সরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.