সাম্প্রতিক পোস্ট

ধীর গতিতে খাল খননের কারণে মঠবাড়িয়া পৌর শহরে প্রয়োজনীয় পানির তীব্র সঙ্কট

::দেবদাস মজুমদার বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূল অঞ্চল::

Khal-1পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে সুপেয় ও নিত্য ব্যবহার্য পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে ৫০ হাজার পৌরবাসী তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন। শহরের প্রাণ কেন্দ্রের একটি খাল খননের নামে কালি মন্দির সংলগ্ন এলাকা হতে তুলাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খালে বাঁধ দেওয়ায় শহরে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। শহরের প্রাণ কেন্দ্রের খালে বাঁধ দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ধীর গতির দায়সারা খনন করছেন বলে ভূক্তভোগি এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মঠবাড়িয়া পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্রের এ খালের পানি পৌর শহরের মানুষের নিত্য ব্যবহার্য পানির চাহিদা মেটায়। গত এক মাস আগে খাল খননের নামে পৌর প্রশাসন খালের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ দিয়ে পানি সেচ করে প্রবাহমান খালটি শুকিয়ে ফেলে। এরপর দায়সারাভাবে খনন কাজ শুরু করা হয়। ধীর গতিতে খালটি খননের ফলে পৌরবাসী পানি সংকটে পড়েন ।

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মিরুখালী মহল্লার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম আজাদী জানান, খালটি গত এক মাস ধরে ঢিমেতালে খনন করার ফলে কবে নাগাদ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না। তিনি বলেন, “খালটির গভীরতা খনন না করে দুই পাড়ের মাটি কোনমতে মসৃণ করা হচ্ছে। ফলে এই খনন কাজ খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তেমন কোন কাজে আসবে না। খালে পানি না থাকার কারণে পৌরবাসী গোছলসহ নিত্য ব্যবহার্য পানি নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে পৌরবাসী ১৫ টাকা/২০ টাকা দরে এক কলসি পানি কিনে গোসলসহ নিত্য ব্যবহার্য পানির সংকট মোকাবেলা করছে।

শহরের সবুজ নগর মহল্লার বাসিন্দা মো. জুলফিকার আমীন জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই খালে পানির প্রবাহ না থাকায় শহরজুড়ে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। খালটির খনন কাজ বর্তমানে ফেলে রাখায় জন দুর্ভোগ বেড়েছে। শহরে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধিসহ জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। যেভাবে ধীর গতিতে খালটি খননকাজ করা হচ্ছে তাতে আগামী ছয় মাসেও শেষ হবে না। খালটির খনন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা দরকার।

মঠবাড়িয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ূ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রের খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ বাঁধ দিয়ে খনন কাজ শুরু করা হয়। গত এক মাস আগে খনন কাজের দরপত্র প্রদানের পর তিন গ্রুপ ঠিকাদার মিলে কাজটি শুরু করে। আগামী মার্চ মাসে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে পৌরবাসীর অভিযোগ, খালটি কিছুদিন দায়সারাভাবে খালের দুই তীর মসৃণ করে ফেলে রাখা হয়। এতে নির্দিষ্ট সময়ে খনন কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। খালে বাঁধ দেওয়ায় শহরে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এতে পৌরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। পৌবাসীর আশংকা দায়সারা খাল খনন ও ধীর গতির খনন কাজের ফলে আগামী ছয় মাস দুর্ভোগে পড়বেন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালেক পৌর শহরের পানি সংকটের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, “আগামী তিন মাস সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা খনন কাজে সময় পাবেন। তবে এই খালের পানি শহরের নিত্য ব্যবহার্য পানি হওয়ায় শহরবাসী পানি সংকটে পড়েছেন। খনন কাজ যাতে আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয় তার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট তিন ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: