Posted in

মণিঋষি সম্প্রদায় শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন

মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার মণিঋষি সম্প্রদায়েরা দীর্ঘদিন থেকেই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। দারিদ্রতা এবং অসচেনতায় এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন অনেকে। তাই দেখা গেছে, তাদের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষা লাভের উপযোগী হওয়ার পরও সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠাতে পারছেন না কিংবা পাঠাচ্ছেন না। তবে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও পরামর্শে এ সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রতি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলশ্রুতিতে তাদেরই উদ্যোগে হরিরামপুর উপেজলায় “শিক্ষার স্বাস্থ্য কেন্দ্র (প্রি-প্রাথমিক)” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মণিঋষি সম্প্রদায়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী এই শিক্ষাকেন্দ্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করছে। এলাকার শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বারসিক’র সহযোগিতায় ইতিমধ্যে স্কুলঘর তৈরি করে মণিঋষি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে গিয়ে নিজেদের তৈরি করছে।

5

গত ১৬ জানুয়ারি এ প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্ষপূতি এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে গালা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস, সরকারি কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ’র সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মুকুল, পরিতোষ কর্মকার, বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, রাজিবুল হাসান, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ মণিঋষিদের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কীভাবে এই উদ্যোগ আরও সফল ও সম্প্রসারণ করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় অনেকে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ, স্কুল ডেস, অনুষ্ঠান খরচ ও স্কুলের জমি ভরাট করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ যে, হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কালই গ্রামের মণিঋষি সম্প্রদায়ভুক্ত ১০০ পরিবারের বসবাস করে। প্রায় ১০০ বছর এই এলাকায় বসবাস করলেও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে এই সম্প্রদায় এখনও পিছিয়ে রয়েছেন। মণিঋষিগণ বাপ দাদার পেশা (বাঁশ বেতের কাজ) আঁকড়ে ধরে ৯০টি পরিবার জীবন জীাবিকায়ন করছেন। পরিবেশবান্ধব বাঁশ বেতের কুটির শিল্পের কাজকে এখনও তারা ধরে রেখেছেন। তারা তৈরি করেন কুলা, চালুন, ডালি, টালি, সরবেশ, খাদি, দাঁড়িপালা, ঝুড়ি, খালই ইত্যাদি। কিন্তু প্লাস্টিক পণ্যের প্রসারের কারণে বাঁশবেতের তৈরি পণ্যগুলোর বিক্রি কম হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.