সাম্প্রতিক পোস্ট

করোনায় নগর দারিদ্রের প্রয়োজন বেঁচে থাকার বাজেট

ঢাকা থেকে ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল:
নগর দরিদ্ররা সবচেয়ে অবহেলিত, অথচ তারাই নগর ও দেশের প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্বটা পালন করেন। এই করোনাকালের বাজেটে তাদের ভাগ্যে কিছুই রাখা হচ্ছেনা। বরং নিম্ন আয়ের মানুষকেও ২০০ টাকা খরচ করে করোনা টেষ্ট করাতে হবে। কিন্তু এ টাকা তারা কোথায় পাবে? করোনা যদি গরিবের রোগ হতে তবে এ বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিতেন না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন অনলাইন আলোচনায় বক্তারা। নগর দারিদ্র, করোনা সংকট ও বাজেট ভাবনা শীর্ষক এক অনলাইল আলোচনা আজ ৩০ জুন স্ট্রিমইয়াডে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর(কাপ) ও পরিবেশ বার্তার যৌথ উদ্যোগে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠানটি লাইভ করা হয়। আলোচনায় সভার কাপ এর চেয়ারম্যান ডা: দিবালোক সিংহ বলেন, নগর দরিদ্রদের জন্য এ বাজেটে কিছু রাখা হয়নি। করোনা কালের বাজেট হওয়া উচিত ছিল সকল মানুষদের কথা বিবেচনা করে । অথচ আমরা দেখলাম করোনা মোকাবেলায় রাখা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, সরকার করোনা মোকাবেলায় কোন সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি। তাইতো সংক্রমণ কমার কোন লক্ষণও আমরা দেখতে পাইনা।
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা যদি গরীবের রোগ হিসেবে পরিচিত পেতো তবে সরকার একে আর কোন গুরুত্ব দিতেন না। আর এখন যেভাবে তারা কাজ করছেন আমাদের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে হয়তো। তিনি আরও বলেন, নগরের নিম্ন আয়ের মানুষরা কিভাবে কয়েকশত টাকা খরচ করে করোনা টেস্ট করাবেন যেখানে তাদের ২ বেলা খাবার জোটানোই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ^ব্যাপীই আজ আমাদের সামনে একটাই বার্তা প্রাণ প্রকৃতি ও মানুষকে একসাথে বাঁচতে শিখতে হবে কারণ এধরণের মহামারী আরও আসবে বলে ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরা ঘোষণাই করে দিয়েছেন।


অধ্যাপক দেবাশীষ কুন্ডু বলেন, রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করছেন না। তাহলে এখনো কেন সে বেসরকারী উদ্যোগের দিকে চেয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এসকল লোকদেখানো কথা ও কাজ বন্ধ করে প্রকৃত অর্থে মানুষকে বাচাঁনোর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক আলমগীর স্বপন বলেন, নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের পরিস্থিতি সত্যিই খুবই খারাপ । সরকারের উচিত এই মানুষদের রক্ষা করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আলোচনা সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন নগর গবেষখ ও বারসিক সমন্বয়ক মো: জাহাঙ্গীর আলম। আরও আলোচনা করেন কাপ এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, বারসিকের গবেষক সুদিপ্তা কর্মকার, বস্তিবাসী নেত্রী রাফেজা বেগম প্রমূখ। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন নগর গবেষক ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য শহরের মতো ঢাকার অধিকাংশ বস্তির পরিবেশ অত্যান্ত অপরিকল্পিত,ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্গন্ধময়, অপরিচ্ছন্ন ও ঘিঞ্জি যা করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ সংক্রমনের জন্য উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু সুখের বিষয় হলো এখন পর্যন্ত ঢাকার কোন বস্তিতে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব তেমন একটি দেখা যায়নি বলে শুনা যাচ্ছে। যদিও বস্তি এলাকা এই রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণের মধ্যে অন্যতম। কারণ নগরের নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ঘিঞ্জি এলাকায় বসবাস করে এবং তারা চাইলেই সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা জানি ঢাকা শহরের বস্তিগুলোর অবস্থা খুবই সূচনীয় । অনেক মানুষ বস্তি ছেড়ে ইতোমধ্যে গ্রামের পথে পাড়ি দিয়েছে। সেখানে তাদের জন্য কাজ নেই, নেই বেঁচে থাকার ব্যবস্থা।


আলোচনা সভা থেকে নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরা হয়:
১. করোনায় শহরের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বিশেষ খাদ্য সহযোগিতা ও রেশনিং এর ব্যবস্থা করা।
২. নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্য ঝুকি বিবেচনায় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিশেষ করে তাদের কোভিন ১৯ টেস্টের আওতায় আনা বিশেষ ব্যবস্থায়। বিশেষ বুথের মাধ্যমে এবং অবশ্যই বিনামূল্যে।
৩. করোনায় কর্মহীন নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী ও পথবাসী মানুষ বিশেষ করে গৃহকর্মীদের জন্য আয়বর্ধনমূলক কাজের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা। ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার জন্য সব ধরণের প্রশিক্ষন এবং আর্থিক ব্যবস্থা করা।
৪. গ্রামের মতো শহরেও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনী কর্মসূচী চালু করা। তাদের জন্য ভর্তুকী মুল্যে খাদ্যশস্য কেনার জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা বা রেশনিং ব্যবস্থা করা।
৫. বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধি, মাতৃত্বকালীন, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতার সংখ্যা ও পরিধি বাড়াতে হবে।
৬. বস্তির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। কারিগরী শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
৭. তাদের স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করা। পল্লী এলাকার মতো জনসংখ্যা বিবেচনায় স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিওসা ব্যবস্থা করা।
৮. তাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাসহ পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাষনের ব্যবস্থা করা।
৯. বস্তিবাসী মানুষদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য নগরকৃষিতে সরকারী সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: