সাম্প্রতিক পোস্ট

আমাদের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করবো

নেত্রকোনা থেকে মো. আলমগীর

১৪ জুন ২০১৬। মঙ্গলবার। এদিন নেত্রকোনা জেলার সম্মিলিত যুব সমাজ একটি অভিনব উদ্যোগ নেয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা আয়োজন করে। সভায় নেত্রকোনা জেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সুরক্ষায় কীভাবে তরুণ ও শিক্ষকগণ অবদান রাখতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার সূত্রপাত করেন বারসিক’র সমন্বয়কারী ও গবেষক পাভেল পার্থ। তিনি নেত্রকোনা অঞ্চলের মানুষকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে উল্লেখ করে এ অঞ্চলের মানুষ দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সুরক্ষায় আরও অবদান রাখার আহবান জানান।  আলোচনায় বক্তারা বলেন, মানুষের প্রয়োজনেই প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা করা উচিত।
Netro
আলোচনায় অংশ নেন হাজী ফয়েজ আকন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল হক তুহিন, লক্ষ্মীদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এখলাছুর রহমান, সমকাল সুহৃদের জেলা সভাপতি তপন সাহা, উদীচীর সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, আবু আব্বাস কলেজের সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, নেত্রকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিয়াজ আহমেদ, নজেল একামেডির প্রধান শিক্ষক, শিকড়ের পরিচালক রফিকুল ইসলাম আপেল ও সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল ।

আলোচনায় শিক্ষকগণ জানান, নেত্রকোনার প্রকৃতিই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিমনা মানুষ তৈরিতে অবদান রেখেছে।এ অঞ্চলের ধান, গান, মাছ, গাছ, পেশা এবং ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন। এই ভিন্নতার মাধ্যমে এলাকার মানুষেরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই ভিন্নতাকে সাথে নিয়েই ভিন্নতাকে দিয়েই গড়ে তুলেছেন এ জেলার পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। শিক্ষকগণ বলেন, “সবাইকে নিয়েই আমরা আমাদের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করবো।” তারা মনে করেন গ্রামীণ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা প্রবর্তন ও চর্চার মাধ্যমে সমাজে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, ঐতিহ্য যেমন ফিরিয়ে আনা যায় তেমনি সমাজের সব ধরনের সংঘাত প্রশমন করা যায়।

শিকড়ের পরিচালক রফিকুল ইসলাম আপেল বলেন, “নেত্রকোনা অঞ্চলের প্রকৃতি এত বৈচিত্র্যময় যে, ময়মনসিংহ গীতিকা রচিত হয়েছিল এ অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন, কাহিনী গল্পকে কেন্দ্র করে।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন দুলদুল বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের প্রাণ, প্রকৃতি, সংস্কৃৃতি বিষয়ে ধারণা, নিজের চারপাশকে বুঝার জায়গাটাকে শিক্ষ দিয়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ, পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে এখনই আমাদের সকল প্রাণ ও সংস্কৃতি রক্ষায় চেষ্টা চালাতে হবে।”

উল্লেখ্য যে, মতবিনিময় সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল। নেত্রকোনা পৌরসভার ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  উদ্যোগী শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী এ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

happy wheels 2
%d bloggers like this: