সাম্প্রতিক পোস্ট

নারীদের সম্মিলিত উদ্যোগে পানীয় জলের অভাব পূরণ

নেত্রকোনা  থেকে রোখসানা রুমি

সখিনা ও জাহানারার মন ভালো নেই। পানির দারুণ অভাব, দূর থেকে কষ্ট করে প্রতিদিন তাদের ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হয়। তাঁরা এই সংকট থেকে উত্তোরণের জন্য নানান পথ ও উপায় বের করার চেষ্টা করেন। সখিনা ও জাহানারা ভুগিয়া গ্রামের ‘শালপা শালুক’ নারী সংগঠনের সদস্য। তারা ঠিক করলেন পানি সঙ্কট নিয়ে সংগঠনের অন্য সদস্যদের আলোচনা করবেন, এ সঙ্কট নিরসনে নানান উপায় বের করবেন। শাপলা শালুক সংগঠনের নারীরা মনে করেন খাবার পানি সংগ্রহের জন্য দূরে গেলে নারীরা নিরাত্তাহীনতায় ভোগেন। পরিবারে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, রোগবালাইয়ের কথা চিন্তা করে তারা সকলে মিলে পানি সংক্রান্ত সমস্যা যেকোনভাবে তারা সমাধান করবেন।

এভাবে আলোচনার এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে যে টিউবওয়েলটি রয়েছে সেটি সচল করবেন। টিউবওয়েলটিকে সংস্কার করার জন্য তারা চাঁদা সংগ্রহ করেন। এভাবে এক পর্যায়ে তাদের সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ ১৫ হাজারে উন্নীত হয়। কিন্তু টিউবওয়েল সংস্কার করার জন্য প্রয়োজন ২১ হাজার টাকা। বাকি ৬ হাজার টাকা তারা কীভাবে সংগ্রহ করবেন? তারা ঠিক করেন তাদের এলাকায় যেসব উন্নয়ন সংগঠন কাজ করে তাদের কাছ থেকে  বাকি টাকাটা আদায় করবেন। এভাবে এক পর্যায়ে তারা বারসিক’র কাছ থেকে বাকি ৬ হাজার টাকা সহযোগিতা হিসেবে পেয়ে তাদের গ্রামের টিউবওয়েলটিকে সংস্কার করেন। টিউবওয়েলটি সংস্কার হওয়ায় গ্রামের মানুষের এখন পানির অভাব নেই।
20170101_110824-1
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় আশুজিয়া ইউনিয়নে ভুগিয়া গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামে প্রায় ৩০০টি পরিবারের বসবাস করেন। ১৫ বছর আগে গ্রামের মাঝামাঝি জায়গায় সরকারিভাবে একটি টিউবয়েল বসানো হয়। এই টিউবয়েল থেকে শুধু খাবারের পানি সংগ্রহ করা হতো। ঘরের অন্যান কাজগুলো পুকুরের পানি দিয়েই করা হত। গোসল, কাপড় ধোয়া, থালাবাসন ধোয়া ইত্যাদি পুকুরের পানি দিয়েই করা হতো। এক সময় গ্রামে পুকুরের সংখ্যা বেশি ছিলো। কিন্তু কালক্রমে পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়া এবং পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের কারণে গ্রামবাসীরা তাদের যাবতীয় কাজ টিউবওয়েলের পানি ওপর নির্ভরশীল হয়। ফলশ্রুতিতে টিউবওয়েল এর ওপর চাপ বাড়ায় এটিতে ঠিক মতো পানি উঠে না। এভাবে গ্রামবাসীরা চরম পানি সঙ্কটে পড়েছে।

তবে টিউবওয়েলটি সম্মিলিত উদ্যোগে সংস্কার করায় এখন গ্রামবাসীরা ঠিক মতো পানি পাচ্ছেন। নারীদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইচ্ছা থাকলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে গ্রামের বা এলাকার বড় উন্নয়ন করা সম্ভব।

happy wheels 2
%d bloggers like this: