Posted in

বলতে পারেন টার্কি ও পাখি পালন আমার রক্তে মিশে গেছে

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা থেকে গুঞ্জন রেমা

সফল টার্কি খামারী নাফিউল ইসলামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা। কাজ করেন বাংলাদেশ পুলিশে কন্সটেবল পদে। বর্তমান কর্মস্থল জেলা বেইজ স্টেশন, গাজীপুর পুলিশ লাইন। চাকরির সুবাদে থাকতে হয় বাড়ি ছেড়ে গাজীপুরের নলজানি ওয়ার্লেস গেট চান্ডনা গাজীপুরে। এখানেই তিনি গড়ে তোলেছেন বিভিন্ন পাখির খামার। পাখি পালন তার ছোট কালের শখ যা আজও বিদ্যমান। তিনি ছোটকাল থেকেই দেশী মুরগী, কবুতর ও বিভিন্ন পাখি পালন করতেন। পাখির প্রতি একটি টান আছে বলেই গ্রাম ছেড়ে এখানে এসেও নিজের মনের ইচ্ছা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত। চাকরির ফাঁকে যেটুকু সময় পান সেটুকু সময় তিনি খামারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। একদিকে চাকরি-সংসার অন্যদিকে পাখির খামার সব মিলিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক কিছু পোষতাম যেমন, দেশী কবুতর, দেশী মুরগি। নিজে বক্স তৈরি করে মৌমাছি ও বিভিন্ন পাখিও পোষতাম। যার জন্য আজও আমি বিভিন্ন পাখি পোষছি। বলতে পারেন টার্কি ও পাখি পালন আমার রক্তে মিশে গেছে।” ছোটকাল থেকে যদিওবা এসবের প্রতি তাঁর আগ্রহের কোন কমটি ছিল না কিন্তু অর্থের অভাবে যা ইচ্ছা তা করতেন পারতেন না।
received_730418393780415
তবে ২০০৭ সালে চাকরি শুরু করার পর থেকেই তিনি পাখি সংগ্রহের কাজটাও শুরু করেন। বর্তমানে তার কাছে অনেক প্রজাতির কবুতর আছে যেমন, আমেরিকান করমোনা, আমেরিকান টাগারোলা, আমেরিকান ব্লাক টেইল মার্ক, আমেরিকান হলু লাক্ষা, আমেরিকান মাফ হেলমেট, আমেরিকান পলিশ হেলমেট, জার্মান লং ফেস টামলার, সেকর, বুখারা, হলুদ মুক্ষি, কালো মুক্ষি, চকলেট মুক্ষি, ইন্ডিয়ান ছোয়া চন্দন, ইন্ডিয়ান লোটন, ব্লাক বাগদাদ হোমা, সিলভার বাগদাদ হোমা, লাহোর সিরাজি, তুরিবাজ, গিরিবাজসহ আরো অনেক প্রজাতির কবুতর। এছাড়াও মুরগির মধ্যে ইংল্যান্ডের হলুদ সেবরাইত, গোল্ডেন সেবরাইত, ইন্ডিয়ান কাদাকনাত মুরগি (যার মাংস ও হাড় কালো এবং ঔষধী গুণ সম্পন্ন) যা তিনি প্রথমবারের মত বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে পালন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আরো পালন করছেন আমেরিকান টার্কি বার্ড যা তিনি বাণিজ্যিকভাবে খামার করছেন। টার্কিও আছে বিভিন্ন জাতের যেমন, হল্যান্ড সাদা, কালো কিং, মিলি রয়েল, ব্রড ব্রেষ্টেট ব্লাক, ব্রড ব্রেষ্টেট ব্রুঞ্জ ইত্যাদি। কিছু সংখ্যক তিতিরও খামারে পালন করছেন। তাছাড়াও রঙবেরঙের বিভিন্ন খাচায় পোষার মত সৌখিন পাখিও তিনি পালন করছেন সখের বসে।

বর্তমানে তাঁর কাছে কিছু জাতের কবুতর রয়েছে যাদের মূল্য এক জোড়া  সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা আর সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে কবুতরের দাম কমে গেছে বলেন জানান তিনি। খামারের কিছু কিছু মুরগি  তিনি ২০/২৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে পালন করছেন। বিভিন্ন ধরণের পাখপাখালি বা কবুতর, আসলী মুরগি, টার্কি, তিতির থেকে প্রতিমাসে আয় করছেন ৩০-৪০ হাজার টাকা। received_730420080446913বিক্রির কিছু টাকা নিজে খরচ করেছেন এবং বাকি টাকাটা তিনি খাবার বৃদ্ধি ও খামার উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেন। তাঁর পালিত বিভিন্ন পাখি, কবুতর, মুরগি, তিতিরসহ সবগুলো প্রাণীই তিনি অনলাইনের মাধ্যমেই বেশি বিক্রি করেন বলে জানান। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার পালিত টার্কি ও পাখিগুলি বিক্রি করছেন ঘরে বসেই।

আরও বড় ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার করার ইচ্ছা আছে তাঁর। খামার করার ব্যপারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলের তুলনায় আমাদের নেত্রকোনা জেলাটি এইসব পাখির খামার করার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে অথচ আমাদের এই জেলায় অনেক খালি জায়গা পরে আছে যা কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।” তিনি চান সফলভাবে এই পশুপাখি পালন করার মধ্য দিয়েই নেত্রকোনা ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মানুষের মাঝে উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাতে তারা জীবন উন্নয়নে উদ্যোগী হয়। তিনি বলেন, “আমি চাই যারা বেকার অবস্থায় পরে আছে তারা এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করুক যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন।
received_730423163779938
বর্তমানে তিনি এ বিষয়ে অনলাইনে অনেক লেখালেখি করছেন। এভাবেই তিনি অনেকের নজরে আসতেও সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি সফল উদ্যোগক্তা হিসেবেও একটি জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি এখন টার্কি, কবুতর, আসলী মুরগী, তিতির পালনকারীদের জন্য বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এখন অনেক বেকার যুুবকরা টার্কি পালনের দিকে উৎসাহী হচ্ছেন বলে তিনি জানান। টার্কি পালনের ক্ষেত্রে যে কেউ যদি তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ চান তিনি স্বাদরে তাদের গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে টার্কি বার্ডটিকে দেশব্যাপী পরিচিতি করতে ও ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন খামারীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে তিনি কিছু অভিজ্ঞ যুবক মিলে বাংলাদেশ টার্কি বার্ড ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন গঠন করতে যাচ্ছে, যা ইতিমধ্যে সরকারি অনুমতিপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ যে, এই সেক্টরটিকে আরো সম্প্রসারিত করতে ও পরিচিতি বাড়াতে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ গাজীপুরের সালনাতে একটি টার্কি বার্ড উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই মেলাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন পুরাতন টার্কি খামারীগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এ বছরের ৯-১১ জানুয়ারি সারাদেশ যে উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয় সেখানেও টার্কি পালন সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ ও  প্রচারণা করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.