Posted in

আর দিব না টিপ সই, শিখব এবার নাম সই

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

আর দিব না টিপ সই শিখব এবার নাম সই (4)
শেখার কোন বয়স নেই। আর তাই গ্রামের একদল স্থানীয় নারী পুরুষেরা নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তুললেন স্বাক্ষর শিক্ষা কেন্দ্র। সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর জনপদের দ্বীপবেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের স্থানীয় কৃষক কৃষাণী, জেলে-বাওয়ালী ও শ্রমিকদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটি নানা ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। সময়োপযোগী উদ্যোগের পাশাপাশি একটি উল্লেখ্যযোগ্য উদ্যোগ স্বাক্ষর শিক্ষা কেন্দ্র।

সমাজের সকল মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে গ্রামের সাধারণ নারী পুরুষকে এই স্বাক্ষর জ্ঞানের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের অন্যতম কার্যকরি সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রথম পর্যায়ে গ্রামের ২০ জন নারী ও পুরুষকে নিয়ে স্বাক্ষর জ্ঞানের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করেছেন। গ্রামের যেসব মানুষ এখনও নিজেদের নাম লিখতে পারে না, এবং স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণ লিখতে বা পড়তে পারে না সংগঠনের উদ্যোগে এমন মানুষদের স্বাক্ষর জ্ঞানসহ প্রাথমিক বিষয়সমূহ পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন।

আর দিব না টিপ সই শিখব এবার নাম সই (3)

ষাটার্ধো নারী বকুল বেগম বলেন, “আগে আমি আমার নাম লিখতে পারতাম না এখন নাম লেখা শিখে গেছি। আমার মতো আরো অনেক নারী সংগঠন থেকে পড়ালেখা শিখছে।”

যে সব শিক্ষার্থী স্কুলে পড়ালেখা করছে, তাদের কোন প্রকার টাকা পয়সা দিতে হয় না। বিনা পারিশ্রমিকে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিলন, মফিজুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য পড়ালেখা শিখানোর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহের তিনদিন আগ্রহ নিয়ে পড়ালেখা শিখে চলেছেন স্বাক্ষর শিক্ষা কেন্দ্রের প্রবীণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আর দিব না টিপ সই শিখব এবার নাম সই (1)

স্বাক্ষর শিক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে সভাপতি সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন,“আমাদের এলাকায় এখনও অনেক মানুষ আছে যারা নিজেদের নাম লিখতে পারে না, কোন প্রকার লেখাপড়া জানে জানে না। তাদের কথা মাথায় রেখে আমাদের এই উদ্যোগ। আমাদের এই উদ্যোগকে আরো সক্রিয় এবং চলমান রাখতে বারসিক বিশেষভাবে সহযোগিতা করে।”

মানুষের জীবনে পড়ালেখার গুরুত্ব অপরিসীম। আর তার জন্য বয়সকে গুরুত্ব না দিয়ে আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েছেন গাবুরার চকবারা মানব কল্যাণ জেলে বাওয়ালী আইএফএম কৃষক সংগঠন। গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাক্ষর জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজ আলোকিত করার স্বপ্ন পূরণ হবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.