Posted in

অপার হয়ে বসে আছেন আবিষ্কার বেগম

মানিকগঞ্জ থেকে আছিয়া আক্তার

‘আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়, পারে লয়ে যাও আমায়’-গানের রচয়িতা বাউল সম্রাট লালন সাঁই যথার্থই বলেছেন। গানটির তাৎপর্য এবং গভীরতা অনেক হৃদয়বিস্তৃত যা মানুষের মনকে ছুয়ে দেয় হৃদয়কে করে শীতল। আমাদের চারপাশে এমনই অনেক প্রবীণ মানুষ অপার হয়ে বসে আছেন। পরিবারে এরা অনেকাংশেই নিপীড়িত, নির্যাতিত ও অবাঞ্চিত মানুষ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। এমনই এক অপারের কান্ডারি হয়ে বসে থাকা আমাদের সমাজের অন্যতম একজন প্রবীণ নারী আবিস্কার বেগম।

Screenshot_2019-11-13-11-12-19
আবিষ্কার বেগম ৮০ বছরে পা রেখেছেরন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার আঙ্গারিয়া (আবাসনের-২) এর বাসিন্দা । স্বামীর কোন জায়গা জমি না থাকায় বর্তমানে আঙ্গারিয়া আবাসন (২) এ বসবাস করছেন। স্বামী মৃত আফছার আলী ১৯৭১ সালে অসুস্থতার কারণে মারা যান । বাবার বাড়ি ঘিওর উপজেলার হাট ঘিওরে। তাঁর দু মেয়ে ছিলো রেলিয়া ও রেজিয়া ছোট মেয়ে রেজিয়া ১৬ বছর আগে মারা যান। আর রেলিয়ার বিয়ে হয় মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকায়। রেলিয়ার এক ছেলে হওয়ার পর স্বামীর নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে তাকে ছেড়ে দিয়ে বিদেশ চলে যান। আবার একটা বিয়ে করেন রেলিয়া বেগম। পরের স্বামীর আয় রোজগার ভালো না থাকায়, ছেলেকে মায়ের কাছে রেখে বিদেশ চলে যান। রেলিয়া বেগমের ছেলের বয়স ১৭ বছর , একটা খাবার হোটেলে কাজ করে। যতটুক রোজগার করে তা বন্ধুবান্ধব নিয়েই খরচ করে। বৃদ্ধ নানীর দিকে কোনো খেয়াল নেই তার। নানীর কোনো কাজে সাহায্যই করে না। রেলিয়া বেগম যা আয় করেন তা স্বামীকে দেয় আর মাকে চিকিৎস বাবদ মাঝে মাঝে কিছু টাকা দেন।

Screenshot_2019-11-13-11-18-33
এ বয়সে (আবিষ্কার বেগম ) রান্না বান্না করে খাওয়া তার জন্য খুব কষ্টকর। তাকে দেখার মতো এবং দু’বেলা রান্না করে দেয়ার মতো কেউ নেই। তাই এই বয়সে সারা শরীর ব্যথা নিয়ে, হাত পুড়ে রান্না করে খেতে হয় তাকে। আর দুঃখ কষ্টে সারাক্ষণ বলতে থাকেন ‘আল্লাহ্ আমায় নিয়ে যাও’।

তাঁর সাথে একান্তভাবে কথা বলে জানা যায়, পরিবার ও সামাজিকভাবে তেমন কোন সহযোগিতা ও স্বীকৃতি তাঁর কপালে জোটেনি। আশ্রয়ন কে›দ্রে বারসিক’র কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি বয়স্কভাতা পান। এটি দিয়ে কোনমতে ওষুধ কিনে ও চারপাশের আপনজালা শাকসবজি বিক্রি করে জীবনযাপন করেন। আবিষ্কার বেগমের পাশে কোন সদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করে তাহলে এই বৃদ্ধার জীবনে বড় উপকার হতো। এখনও তিনি নিজেই সব কাজ করেন, কারও উপর নির্ভরশীল না থেকে যা পান তা দিয়েই কোনমতে দিনাতিপাত করেন। স্বনির্ভর এক জীবনই তিনি পরিচালনা করে আসছেন। তবে জীবন সায়াহ্নে এসে তিনিও কারও কারও সহযোগিতার প্রয়োজনবোধ করেন। আসুন আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াই। যতটুকু পারি সহযোগিতা করি এই সংগ্রামী বৃদ্ধা নারীকে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.