Posted in

হরিরামপুরে প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে গ্রীষ্মকালীন ফুলের মেলা অনুষ্ঠিত

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ।
হরিরামপুর যুব সংগঠন ও বাহিরচর মনিঋষি নারী উন্নয়ন সংগঠন এবং বারসিক উদ্যোগে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে গ্রীষ্মকালীন ফুলের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মেলার সংগঠনের সদস্যগণ স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের ফুল সংগ্রহ করেন। মেলায় উপস্থাপন করেন ও ফুলের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগে কোন ফুলের ব্যবহার কখন হতো ও কৃষকগণ কিভাবে সুফল ভোগ করতেন তা অভিজ্ঞজনেরা আলোচনায় তুলে ধরেন বলেন, ‘হিজল গাছের ফুল দিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে ‘মা বুড়ির’ পুজা করা হতো হরিরামপুরের বাহিরচর গ্রামে। তখন হিজল গাছের নিচে ফুল পড়ে থাকত সুন্দরভাবে। এখন মা বুড়িতে পুজায় হিজল গাছের ফুল পাওয়া যায় না। কারণ বর্তমানে হিজল ফুল আগেই ফোটে; মা বুড়ির পুজার সময় হিজল গাছে ফল হয়ে যায়।’


বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, ‘বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ। এদেশে ভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে। আমাদের দেশে ফুল শুধু পুজাই লাগে না, এর ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে, আবার পরাগায়নেও সহায়ক হয়। আজকে মেলার মাধ্যমে শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ফুলের ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাস্তমুখী উদাহরণের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম।’


হরিরামপুরের বাহিরচরের আনন্দ সরকার বলেন, ‘আগে সোনালো গাছের ফুল ফুটত ফাল্গুন মাসে। তখন ভোমরা-ভোমরী সোনালো গাছে খেলা করত ও আমের মুকুলে বসত। সোনালো গাছের ভোমরা আম গাছে বসলে আমে পোকা কম হতো। কিন্তু বর্তমানে সোনালো ফুল ফুটতে (নামী- এলাকার ভাষা) বা দেরী হওয়ায়, আমে পোকা বেশি হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ফুল অনেক ফুলের নাম আমরা জানিনা। তবে নতুন প্রজম্ম ফুলের নাম আরো কম জানে। এসকল অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে নতুন প্রজম্ম জানবে। বিভিন্ন ধরনের ফুল ফল সংরক্ষণে সুযোগ সৃষ্টি হবে।’


পদ্মা পাড়ের পাঠশালা পরিচালক মীর নাদিম হোসেন বলেন, ‘ব্যতিক্রম ধর্মী মেলার আয়োজনে যুব টিম ও নারী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। আজকে প্রায় ৫২ ধরনের ফুল দেখলাম। অভিজ্ঞনের আলোচনার মাধ্যমে ফুলের নাম ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারলাম। এ অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে। জীববৈচিত্র্য দিবসের আমাদের অঙ্গিকার ৫ জুন বিশ^ পরিবেশ দিবসে আমরা সকলে একটি করে ফুলের চারা রোপন করব।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.