Posted in

সৌন্দর্য প্রেমীদের নজর কাড়ছে দেবহাটার মেডিসিনাল ট্রি পার্ক

সাতক্ষীরা থেকে বাহলুল করিম

ঘেটু, যগডুমুর, গোল কেনিয়া, ইনদোরা, থ্রিইয়াচসহ প্রায় ২১০-২৫০ প্রজাতির ঔষধি গাছ নিয়েই গড়ে উঠেছে মেডিসিনাল ট্রি পার্ক। প্রতিদিন পার্ক পরিদর্শনে ভিড় জমাচ্ছে শত শত দর্শনার্থী। এর ব্যতিক্রমী নাম দেখেই বিস্মিত হবে যে কেউ। ইতোমধ্যে মেডিসিনাল ট্রি পার্ক অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে সৌন্দর্য প্রেমীদের মনে।

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দেবহাটা। ইছামতি নদী বেষ্টিত রূপসী ম্যানগ্রোভ ও বনবিবির বটতলার মতো হাজারও বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অপার সম্ভার রয়েছে এখানে। দেবহাটা উপজেলা চত্ত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে মেডিসিনাল ট্রি পার্ক। পার্কটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ।

Medicinal Tree Park (1)

এর মধ্যে তালমুলি, বিছুটা, কুকুর শুকা, স্বর্ণচূড়া, বন আলু, দেবদারু, বন ধনে পাতা, আম-আদা, আমলকি, পাতাবাহার, গন্ধরাজ, সুন্দরী, যগডুমুর, রাম-বসাক, অশ্বথ, কদম, কুমারিকা, ঘেটু, শ্বেত, রঙ্গোন, ইউ রাজ, অড়হর, মনসা, হেনা ফুল, জুঁই ফুল, অপরাজিতা, লজ্জাবতী, গোল কেনিয়া, ভুই কুমড়া, টিকোমা ফুল, আনারস, নাগ ফনা, শ্বেত আকন্দ, ক্যামিলিয়া, আদা, কচু লতা, অশ্বগন্ধা, পাকুড়, বাসক, উলট কম্বল, খৈ-বাবলা, এলাচ, পাথরকুচি, কুমারিকা, ডালিম, গোলাপজাম, চালতা, রক্ত চন্দন, কুড়চি, ছাতিম, বামুল হাটি, ঘৃত কুমারি, পলাশ, গিমা শাক, অশোক, থ্রিইয়াচ, ইনদোরা, হরিতকি, চামেলী ফুল, ভাত সুরভী, সর্পগন্ধা, রাস্না, তাকমা, সুপারি, বাঁশ, গুই বাবলা, কাল তুলসী, পেঁপে, করবী, রাম তুলসী, নিসিন্দা, জঙ্গী পেপুল, কমলালেবু, দোলনচাঁপাসহ বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ রয়েছে।

Medicinal Tree Park (2)

মেডিসিসনাল ট্রি পার্কটিতে প্রবেশের জন্য রয়েছে বাঁশের তৈরি সুসজ্জিত প্রবেশদ্বার। লাল, নীল, হলুদ, সবুজসহ বাহারি রঙে সাজানো রয়েছে প্রবেশদ্বারটি। আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কারুকার্য। প্রবেশ দ্বারটি দেখে বিস্মিত হয় যে কেউ।

পার্কটিতে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে সরু একটি পথ। পথটিতেই রয়েছে সারি সারি বাহারি রঙের পাতাবাহার। মনে হয় দর্শনার্থীদের স্বাগতম জানানোর জন্যই বুঝি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে এগুলো। পথটি ভিতরের দিকে গেছে বেশ কিছুদূর।

Medicinal Tree Park (3)

পার্কের ভিতরে হাঁটতেই দেখা মিলবে দু’পাশে সারি বেঁধে দাড়িয়ে রয়েছে ঔষধি গাছ। পার্কটিতে রয়েছে অজানা অনেক ধরণের ঔষধি গাছ। যা জানতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছে প্রকৃতি প্রেমী দর্শনার্থীরা।

মেডিসিনাল ট্রি পার্ক সম্পর্কে জানতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পার্কটি দেখেই মুগ্ধ হচ্ছে সবাই। জানতে পারছে ঔষধি গাছের নাম ও গুণের কথা। নিতে পারছে সজীব নিঃশ্বাস।

মেডিসিনাল ট্রি পার্কে ঘুরতে আসা সুশিল গাঁতী গ্রামের শেখ রাকিব হোসেন জনি বলেন, “এখানে অনেক ধরণের ঔষধি গাছ আছে। আমি প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। গাছগুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্যই মূলত আসা। অনেক অজানা গাছের নাম জানতে পেরেছি, যা আগে জানা ছিল না।”

মেডিসিনাল ট্রি পার্কের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত দেবহাটা উপজেলা পরিষদের মালী আব্দুস সালাম বলেন, “প্রায় পাঁচ বিঘা জমির উপর মেডিসিনাল ট্রি পার্ক তৈরি করা হয়েছে। পার্কটির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করি। গাছগুলোতে পানি দেই। আগাছা পরিষ্কার করি। এখানে কয়েক’শ প্রজাতির ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নামসহ কোন গাছের কী নাম তা লিখে গাছের গায়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ঔষধি গাছের নামগুলো জানতে পারছে।”

Medicinal Tree Park (4)

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজ-আল-আসাদ বলেন, “পরিবেশ থেকে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ঔষধি গাছ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় এরকম মেডিসিনাল ট্রি পার্ক প্রয়োজন। এতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ঔষধি গাছ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে। তাই নিজস্ব উদ্যোগে ঔষধি গাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই মেডিসিনাল ট্রি পার্ক তৈরি করেছি।”

সব মিলিয়ে মেডিসিনাল ট্রি পার্ক প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে অনেকটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবেও অভিহিত করছেন কেউ কেউ। মেডিসিনাল ট্রি পার্ক সৌন্দর্য পিপাসুদের সাদরে আমন্ত্রণ জানায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.