Posted in

নিরাপদ সড়ক আমার অধিকার: ট্রাফিক আইন মেনে চলি

মানিকগঞ্জ থেকে বিমল চন্দ্র রায়

নিরাপদ সড়ক সকলের অধিকার এবং সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। তারপরও প্রতিনিয়ত মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে পথচারী, মটরসাইকেল চালক বা আরোহী, বাস, ট্রাক বা সিএনজি দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল চলছে।
নিরাপদ সড়ক বিষয়টি বহুপাক্ষিক বিষয় যেমন: সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, পরিবহন মালিক, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, সড়ক নির্মাণ অথরিটি, গাড়ী ও চালক রেজিস্টেশন দাতা অথরিটি, যান চালক, পথচারী, সড়ক সংলগ্ন জনসাধারণ, বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিক, সড়ক সংলগ্ন ক্রেতা বিক্রেতা, আইন শৃংখলা ও স্থানীয় প্রশাসন , সড়ক ও পরিবহন আইনসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এর সাথে সম্পৃক্ত।


২০১৮ সালে সারাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শিক্ষার্থীগণ সংক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন আইন কঠোর করার দাবিতে সড়কের শৃংখলা ও ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে। ফলশ্রুতিতে সরকার চালক ও পথচারী উভয়ের জন্য কঠোর বিধান যুক্ত করে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করে। বর্তমানে এই আইন কার্যকর আছে। নতুন আইনের উল্লেখযোগ্য ১৪টি বিধানে মৃত্যুদন্ড, জেল জরিমানা করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। দূর্ঘটনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকা, ফিটনেসবিহীন গাড়ী, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, ট্রাফিক আইন না মানলে, পার্কিং, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বললে, গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে, সংরক্ষিত আসনে অন্য কেউ বসলে বিধানের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এই নতুন আইনে।


মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমাযেতপুর আঞ্চলিক সড়কটি গত বছর থেকে কয়েক ফুট প্রশস্ত করে চালু হয়েছে। এই সড়কটি আগেও ছিল। বর্তমানে দুই ধারের বৃক্ষরাজি কেটে ১৮ ফুটকে ২২-২৪ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। ৩৫ কিমি (১/২ কিমি কমবেশি হতে পারে) সড়ক প্রশস্তকরণ এই কাজে ২৫০ কোটি বরাদ্দ হয়েছে। এখনও বিভিন্ন স্থানে সংস্কার চলছে। সড়কের উভয়পাশে বাজার, স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটাসহ নানান প্রতিষ্ঠান আছে। তাছাড়া আছে সংযোগ সড়ক, মোড় ও বাঁক। মানিকগঞ্জ পৌরসভা বেউথা থেকে সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের গেরাদিয়া ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ২০টি বাঁক ও মোড় আছে। এই মোড় বা বাঁকসমূহের কয়েকটি অন্ধবাঁকও রয়েছে।


এই সড়কটিতে বাস, ট্রাক, ড্রামট্রাক, ট্রলি, হ্যালোবাইক, সিএনজি, ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী তিন চাকা ও চারচাকার গাড়ি, ব্যাটারি চালিত নানান ধরনের রিক্সা ও মালবাহী যান, এজেন্সী বিভিন্ন ধরনের ভ্যান ও গাড়ী, মটর সাইকেল, বাইসাইকেল, পায়ে চালানো রিক্সা ও ভ্যানসহ দ্রুত ও অসমগতির গাড়ী একই সাথে চলাচল করে। বেশির ভাগ চালকের ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে নেই কোন ধরনের শিক্ষা বা তাদের মধ্যে না মানার প্রবণতা রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক সংলগ্ন নাগরিকবৃন্দ এ বিষয়ে সচেতন নয়। ফলে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সবচেযে বেশি।


সড়কটি চালুর এক বছরে প্রায় শতাধিক ছোট বড় দূর্ঘটনা ঘটেছে তাতে অর্ধশতাধিক প্রাণহানী ঘটেছে। দুর্ঘটনার সংবাদ প্রতিনিয়ত সোস্যাল মিডিয়া, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দুর্ঘটনা বিষয়ে এলাকার সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের মধ্যে নিরাপদ সড়ক নিয়ে মতবিনিময় ও প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিকসহ সোস্যাল মিডিয়ায় সড়ক বিষয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়। এই মতবিনিময়ে ও প্রচারণায় বারসিকও শামিল হয়েছে। সংগঠনটি নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৩ থেকে জনসাধারণ ও পরিবহন চালকদের সচেতনতার কাজ করে আসছে। এছাড়া বারসিক এই আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন গ্রাম ইউনিয়নের জনগোষ্ঠীর সাথে তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে। বারসিক কর্মীবৃন্দ ও জনগোষ্ঠী নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করেন। সকলের সড়ক নিরাপত্তা স্বার্থে এই সড়কটি নিরাপদ হওয়া দরকার। বারসিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত সভা বা আলোচনা করে এই বিষয়ে সচেতনতার বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সংগঠনটি বেতিলা ইউনিয়ন পরিষদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্মসহ পরিষদের সকল সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের এই বিষয়টি জলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছে এই সংগঠনটি।
এই সমস্যা বিভিন্ন মাধ্যমে চলে আসায় সড়ক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশ সড়কের বিভিন্ন বাঁক, মোড়, বাজার, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সংযোগ সড়ক বিষয়ে ট্রাফিক সাইনবোর্ডসমূহ স্থাপন করেছে। বিভিন্ন স্থানে গতিরোধক আছে। এই ট্রাফিক আইনসমূহ মানা ও বুঝে চলা সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


আমরা যখন রাস্তা পারাপার করবো তখন প্রথমে ডানে পরে বামে আবার ডানে তাঁকিয়ে রাস্তা পার হবো। এতে করে রাস্তয়ি কোন বিপদ আছে কি না তা দেখতে পাবো। কখনও কোন দিক না তাঁকিয়ে বা দোঁড় দিয়ে রাস্তা পার হবো না। বাঁক ও মোড়ের অভারটেকিং করার চেষ্টা করবো না। রাস্তায় হাঁটা চলার সময় সর্তক থাকবো এবং পাশ দিয়ে হাঁটব। এভাবে করলে আমরা নিরাপদ থাকবো। তাই আুন আমরা ট্রাফিক আইন মানি, নিজে নিরাপদ থাকি ও অন্যকে নিরাপদ রাখি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.