Posted in

বুলবুল আমার গাছ ভাঙেনি, আমার একটি পাঁজর ভেঙেছে

শ্যামনগর সাতক্ষীরা থেকে ফজলুল হক

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদ চণ্ডিপুর চুনা গ্রামে স্থায়ী বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৩৫) পরিবারসহ বৃদ্ধ মা বাবাকে  নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন। শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন নাপিত। তাঁর পিতার ছুরাত আলী গাজী (৮০)। মাতার নাম উজালা খাতুন (৬০)। তারা দুই ভাই আর ৩ বোন। তার বড় ভাই ছহারাফ (৪৫)। তিনি পৃথক হয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে  থাকেন। আর বোন তিন জন  ফরিদা,রোকেয়া ও রহিমা বিবাহিত।

IMG_20191114_091952
নাপিতের কাজের পাশাপাশি বসতবাড়িতে কিছু ফলফলাদির গাছ ছিল। সেই গাছ গাছালিয়া দিয়ে পরিবারের রান্নার কাজে জ্বালানি কাঠ হিসাবে ব্যবহার করতো। আর বিশেষ ফলের একটি কদবেল গাছ ছিল। গাছটির বয়স হবে প্রায় ৩৫ বছর। কদবেল গাছটি লাগিয়েছিল শহিদুলের বাবা ছুরাত আলী গাজী। গাছটি বেশ বড়ও ছিল। গাছটি থেকে কদবেল বিক্রয় করে প্রতি বছর ৯-১০ হাজার টাকা বেচাকেনা করতো শহিদুল ইসলাম।

কিন্তু গত ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে অন্য গাছসহ তার কদবেল গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। কদবেল গাছটিকে হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা  হয়ে পড়েছে তার পরিবার। বিশেষ করে তার বৃদ্ধ পিতামাতা গাছটিকে হারিয়ে খুবই চিন্তিত। শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কদবেল গাছটি আমার একটি বড় সম্পদ ছিল। কারণ প্রতিবছর কদবেল বিক্রি করে পরিবারের বিপদ আপদের সময় সাপোর্ট দিতো। যে কোন সময় পরিবারে কোন বড় ধরনের সমস্যা  হলে আগামও বিক্রয় করে টাকা নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারতাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘বুলবুল আমার গাছ ভাঙিনি,আমার একটি পাজর ভেঙেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের ভিতরে কদবেল গাছটি অনেক বড় ছিল। তারা প্রতিবছর কদবেল বিক্রয় করে কিছু টাকাও উপার্জন করতো। আর আমরাও অনেক সময় বলে পেড়ে খেতাম কদবেল।’

IMG_20191114_092016

বৃদ্ধ ছুরাত আলীর কাছে বড় কদবেল গাছটি ভেঙে পড়ল কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গাছটি একটু বড় ও গাছের ডাল পালা বেশি থাকার  কারণে বাতাস বেশি বাধায়, গাছের পাশে একটি পুকুর  এবং গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় গাছটি বুলবুল ঝড়ে ভেঙে পড়ে ‘ তিনি আরো বলেন, ‘বুলবুল ঝড়ে প্রায় সব ধরনের গাছ ভেঙে গেছে, ছোট গাছগুলোতে বাতাস কম বাধার কারণে ছোট গাছগুলো কম ভেঙেছে এবং বড় গাছগুলোতে বেশি ঝড়ো বাতাস প্রবাহের কারণে বড় গাছগুলো বেশি ভেঙেছে।’ আর যে সব গাছের গোড়াই মাটি কম ছিল সেই সব গাছে তুলনামূলক বেশি ভেঙেছে বলে মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের প্রতি গাছের ভালোবাসার ঘাতটি নেই, গাছের প্রতি আমাদের ভালোবাসার ঘাতটি আছে। কদবেল গাছটি হারিয়ে গাছের ভালোবাসাটা টের পাচ্ছে শহিদুলের পরিবার।

 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.