আমনের শুরুতেই পোকার আক্রমণ দুশ্চিন্তায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক

রাজশাহী থেকে আসাদুজ্জামান মিঠু

সবেমাত্র আমন রোপণ শেষ হয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। আমন রোপণের ১৫ থেকে ৩০ দিন না পেরোতেই পোকার আক্রমণ দেখা বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে। আমনে প্রথম সার প্রয়োগ না করতেই ক্ষেতের রোপণকৃত ধান কেটে সাবার করে দিচ্ছে মাজড়া পোকা। আমনের শুরুতেই এমন পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা।

অগ্রিম পোকার লাগার কারণ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও স্বর্ণা জাতের ধানকে দায়ী করেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা। সে সাথে আমনে পোকা দমনে কৃষকদের সচেতন করতে নানামূখী পরামর্শ দিয়ে মাঠে কৃষকের সাথে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে বলে দাবি করেছেন কৃষি বিভাগ। আর কৃষকেরা বলছেন,চলতি বছর আমনের শুরুতেই মাজরাসহ নানা ব্যাধি যে ভাবে দেখা দিয়েছেন যা গত ২০ বছরেও তারা দেখেনি। বাজারে অনেক রকম কীটনাশক প্রয়োগ করে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। তাই শেষ পর্যন্ত এবছর পোকা আক্রমণে কষ্টের ধান ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকেরা।

20180811_123414

গত বছরের আমন ধানের মাঝা মাঝি সময়ে এসে পাতামরা রোগ ও কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে ধানে ফলন কম হওয়াই লোকসান গুনতে হয়েছিল বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের। সেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই চলতি মৌসুমে আবারও আমন চাষে মাঠে নেমে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষকেরা। এমনিতেই আমনের প্রস্ততি শুরুর প্রথমে বৃষ্টির অভাবে হচট খেয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের,রাজশাহী,নঁওগা,নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হবে আরো ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা শুগনা গ্রামের কৃষক রুবেল জানান, চলতি মৌসুমে ২৫ বিঘা জমিতে স্বর্না জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। ধান রোপণের ২৫ দিনে মাথায় তার প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে মাজরা পোকা (ব্যালকাঠি) কেটে সাবার করে ফেলেছে। বিভিন্ন রকম কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না । এ অবস্থায় তিনি আমন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার জুমার পাড়া এলাকার দিঘি পাড়ার গ্রামের কৃষক শ্রী হারান ওরাঁও জানান, গত বছর আমন চাষ পাতামরা রোগ ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের ফলন অনেক কম হওয়াই লোকসান গুনতে হয়েছিল। তবুও চলতি মৌসুমে গত বছরের লোকসান মাথায় নিয়ে ১৫ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন তিনি। সবেমাত্র আমন রোপণ করে উঠেছেন তিনি। এরি মধ্যে তার ৫ বিঘা জমিতে মাজরা পোকা লেগেছে। ক্ষেতের ধান কেটে সাদা করে ফেলেছে।

20180811_123446

শনিবার সরেজমিন বরেন্দ্র অঞ্চল বলে পরিচিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় কিছু কিছু এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ কৃষক এবার স্বর্না জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। আমন ক্ষেতে পার্চিং, লগ, লাইন পদ্ধতিতে চাষাবাদ হলেও অনেক জমিতে মাজরা (ব্যালকাটি)সহ নানা ব্যাধির কারণে ক্ষেতের অনেক ধানের আগালা কেটে সাবাড় করেছে। অনেক ক্ষেতে ধান নিচের দিকে বসে যাচ্ছে। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে তাদের অনেক অর্থ ব্যয় করেও কোন ফল পাচ্ছেন না।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমসের আলী জানান, চলতি বছর আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ ও এলাকায় স্বর্ণা জাতের ধান বেশি আবাদ হওয়াই মাজরা পোকাসহ নানা ব্যাধি প্রভাব বাড়ছে। এখনও অনেক সময় আছে ঠিক মত কীটনাশক প্রয়োগ করলেই ধান সেরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষিবিভাগ থেকে এ সচেতনতার কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “বৈশ্বিক জলবাযু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় এলাকায় এর প্রভাব পড়েছে। আবার শুধু এক ধরনের ধানজাতের বেশি চাষ করার ফলেও রোগ পোকার আক্রমণ বেশি হচ্ছে।” তিনি আরো বলেন, `অনেক ধরনের জাতের চাষ করলে এমনটি হবার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই আমাদের জাতবৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।”

happy wheels 2

Comments