Posted in

‘স্বাধীনতার সোপান’ দেখে শিখবে নতুন প্রজন্ম

শাহীন রহমান, পাবনা থেকে

নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত হয়েছে মুক্তমঞ্চ ‘স্বাধীনতার সোপান’। স্বাধীনতা সোপানে রয়েছে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তর’র মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নির্দেশনা। আর এই স্বাধীনতা সোপান দেখে ইতিহাস সম্পর্কে শিখতে ও জানতে পারেন নতুন প্রজন্ম। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ‘স্বাধীনতা সোপান’ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উদ্বোধন করা হবে।

চলতি বছরের প্রথম দিকে উপজেলা চত্ত্বরে একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। তার নিজস্ব চিন্তা ও নিজ নকশায় মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলা চত্ত্বরে স্থায়ী মুক্তমঞ্চের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

Pabna Shathia Shadhinota Shopan Photo

নির্মিত মুক্তমঞ্চটির দৈর্ঘ্য করা হয়েছে ২৬ ফুট (২৬ মার্চ এর কথা চিন্তা করে) এবং প্রস্থ করা হয়েছে ১৬ ফুট (১৬ ডিসেম্বর এর কথা ভেবে)। অর্থাৎ এর মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসকে বোঝানো হয়েছে। মূল মঞ্চে আড়াআড়ি ২১টি দাগ কেটে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে বোঝানো হয়েছে। মঞ্চে উঠতে ও নামতে পাঁচটি ধাপ রয়েছে, যা দ্বারা স্বাধীনতার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বোঝানো হয়েছে। দু’পাশের ৬ ফুট লম্বা দেয়াল ছয় দফা আন্দোলনের নির্দেশনা। এছাড়াও দু’পাশে ৭ ফুট লম্বা দু’টি দেয়াল দ্বারা যথাক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ও ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠকে বোঝানো হয়েছে। সাড়ে নয় ফুট দু’টি পিলার দ্বারা সাড়ে নয় মাস যুদ্ধ এবং ১১ ফুট পিলারের ব্যবধান দ্বারা ১১টি সেক্টর উল্লেখ করে বাংলাদেশের মানচিত্রের ম্যুরাল দেখানো হয়েছে। যার সর্বপ্রথমে রয়েছে দেশ ও জাতির প্রতীক জাতীয় পতাকা। দৃষ্টি নন্দন নির্মাণ শৈলী সকল শ্রেণি পেশার মানুষের নিকট আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। যা থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন ও ৬ দফাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মুক্তমঞ্চ ‘স্বাধীনতা সোপান’ এর মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে ও উদ্বুদ্ধ করতে আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। যখন মুক্তিযোদ্ধারা থাকবে না, ঠিক তখন যেন জাতি তার স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে সে জন্যই এ মুক্তমঞ্চটি নির্মাণে আগ্রহী হই।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.