সাম্প্রতিক পোস্ট

জনসংগঠনের উদ্যোগে পারস্পারিক সবজী ও বীজ সহায়তা

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

করোনাকালীন সময়ে সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে মানুষের মধ্যে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আর এ সমস্যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো খাদ্য ঘাটতি। মানুষ না পারছে বাইরে যেতে, না পারছে কাজ করতে, না পারছে কিছু ক্রয করতে, না পারছে ফসল ফলাতে। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যা কিছু আছে সেটা নিজেদের মধ্যে আদান প্রদান করে চলেছে। যদিও এটা কোন নতুন কাজ নয় এটা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিরাচরিত কাজ যা বংশপরম্পারায় ভাবে তারা করে থাকে বা এটা তাদের চরিত্রের একটি গুনাবলী বটে। কিন্তু বর্তমান যে সময় যেখানে খাবারের জন্য চারিদিকে শুধু হাহাকার। যেখানে নিজের জন্য দুমুঠো খাবার সংগ্রহ করা দুর্বিসহ ও খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে অন্যের কথা ভাবার তো আর কোন সুযোগ থাকার কথা না। কিন্তু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সেটা মনে করেন না, তারা মনে করেন যে আমি যা খাবো তা যদি আমার পাশের কোন দরিদ্র পরিবারকে দিতে পারি সেটা অনেক বড় পাওযা। যেটুকু খাবার পাবো সেটুকু যদি সবাই মিলে মিশে ভাগাভাগি করে খাই তাতে তো কোন সমস্যা নয়।

সে সব কিছু মাথায় রেখে এই করোনাকালীন সময়ে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দাদপুর কৃষক সংগঠন, জয়নগর কৃষি নারী সংগঠন, কালমেঘা কৃষি নারী উন্নয়ন সংগঠন, শংকরকাটি কৃষি নারী সংগঠন ও ধুমঘাট শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যরা তাদের বসত ভিটায় উৎপাদিত সবজী লালশাক, বেগুন, পুইশাক, বরবটি, ঢেড়স, হেলাঞ্চ, অচাষকৃত শাক সবজী ও লাউ নিজ নিজ গ্রামের প্রায় ৮৬ টি পরিবারের মাঝে সহায়তা করেছে।

 একই সাথে সবজীর সাথে সাথে সবজীর বীজ দিয়েও সহায়তা করেন। বীজ সহায়তার  কালমেঘা কৃষি নারী সংগঠনের অমিতা ও বনশ্রী রানী, শংকরকাটি নারী সংগঠনের সভানেত্রী নাজমা বেগম, দাদপুর গ্রামের ফিরোজা ও ছুরাতুন বেগম, জাওযাখালী গ্রামের শেফালী বেগমরা তাদের নিজ গ্রামে প্রায় ১৩০ টি পরিবারের মাঝে বর্ষাকালীন সবজী বীজ তরুল, ঢেড়স, শসা, মিষ্টিকুমড়া ও লাউ  সহায়তা করেছে।

এ প্রসঙ্গে শংকরকাটি নারী সংগঠনের সভানেত্রী নাজমা বেগম বলেন,“আমার বাড়িটা আমি একটি কৃষি বাড়ি হিসেবে তৈরি করেছি। এখানে সারা বছর মৌসুম ভিত্তিক নানা ধরনের সবজী লাগাই। আর এ সবজী থেকে বছরে আমার একটি বড় আয়ও হয়। বর্তমান সময় এটি আমাদের সকলের জন্য খুবই খারাপ সময়। আমরা যারা সবজী লাগাই তারাই যেমন বাইরে বিক্রি করতে পারছিনা। আবার যারা সবজী চাষ করেনা তারাও কিনতে পারছে না। এ যেনো এক ধরনের দুর্যোগ। তাই এ দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা সকলে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমাদের হযতোবা টাকা পয়সা বা বড় ধরনের কোন সহাযতা করার ক্ষমতা নাই। আমাদের যা আছে তাই দিয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমরা কৃষক মানুষ সবজী ও বীজ হলো আমাদের সম্পদ আমরা তাই দিয়ে সহযোগিতা করেছি।”

অন্যদিকে ধুমঘাট শাপলা নারী সংগঠনের সভানেত্রী অল্পনা রানী মিস্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর আমি কম বেশি মানুষকে সবজী ও সবজীর বীজ দিয়ে সহায়তা করি। আর এ করোনা দুর্য়োগেও আমি সহায়তা করেছি। গ্রামের কোন পুরুষ এসে কিন্তু চাচ্ছে না। নারীরা নারীদের ভালো বোঝে তাই নারীরা এসে চেয়ে নিয়ে যাচ্ছে সবজী ও বীজ। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো সংসারের কি অবস্থা তা তো নারীরায় ভালোভাবে জানে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি। যে কেউ যাতে অনাহারে না থাকে। এ দুর্য়োগ আমরা সকলে একসাথে এভাবে থাকলে পাড়ি দিতে পারবো।”

যে সময় চলছে এটা এক মহামারি; আর এ মহামারিতে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়া শুরু করেছে। আর এই সংকটে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিজেদের যা কিছু আছে তা একে অন্যের মধ্যে সহায়তা করার যে চষ্টা করছে। তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের মতো করে যদি সকলেই এভাবে চিন্তা করা বা এগিয়ে আসা যায় তাহলে এ দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে আমাদের দৃড় বিশ্বাস।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: