সাম্প্রতিক পোস্ট

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি কাজে যুবকদের সম্পৃক্ততা

হরিরামপুর থেকে মুকতার হোসেন
করোনা ভাইরাস যখন চারিদিকে মহামারী আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশে মানুষের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্বাভাবিক চলাচল হাট বাজার, দোকান পাট, আলোচনা, মিটিং, মিছিল, গণ জমায়েত, স্কুল-কলেজ, বিশ^ বিদ্যালয় লেখাপড়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি মানুষ থেকে মানুষের সংস্পর্ষে আসা নিষেধ করা হয়েছে। মানুষের কাজ কর্ম বন্ধ, বিশেষ করে দিনমজুর, রিক্সাওয়ালা, লেবার শ্রমিক, দৈনন্দিন কাজ করে তারা বেশি খাদ্য সংকটে পড়েছে। ঠিক সেই সংকটময় মূহুর্তে হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের যুবকরা কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পরিবারের পিতা মাতা বা অভিভাবকদের সাথে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হন। হরিরামপুর চরাঞ্চল মূলত কৃষি প্রতিবেশ এলাকায়। প্রতিপরিবারের কৃষি কাজের মাধ্যমে তারা জীবিকায়ন করে থাকে। পরিবারে ধান, পাট, কালাই, সরিষা, শাকসবজি, গরু ছাগল পালনসহ বিভিন্ন কৃষি কাজে যুবকদের সহযোগিতা দেখা যায়। এলাকার যুবকরা একত্রিত হয়ে অনেককে কৃষি খামার, পতিত জমিতে কলা চাষ, ভেড়ার খামারসহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগের সাথে কর্মস্থান তৈরি করেছে।


হরিরামপুর চরাঞ্চলের যুবকরা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কৃষি কাজে সাফল্য এনেছে। ইচ্ছা শক্তি, সাহস আর উদ্যোগী মনোভাব থাকলে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন নিজেই করা যায়। তার উজ্জল প্রমাণ করেছে কোভিড সময়ে হরিরামপুর উপজেলার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত যুবকরা। তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে।
হরিরামপুর যুব সংগঠনের সদস্যরা স্কুল, কলেজ লেখাপড়া শেষ হতে না হতেই তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। আবার কেউ কেউ, আশেপাশের বন্ধুবান্ধবের উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হয়ে খামার গড়ে তুলেছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কলা বাগান, হাঁসের খামার, গরু খামার, ছাগলের খামার, স্থানীয় জাতের মুরগি।


তাদের এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বারসিক নানাভাবে তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছে। বারসিক যুবকদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, আলোচনা সভা মতবিনিময় সভা আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছে। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিস, আনসার ভিডিপি অফিস, কৃষি অফিস, সমবায় অফিসসহ প্রতিষ্ঠানের সাথেও তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া এবং যুক্ত করার কাজ করে আসছে বারসিক। যুবকরা সেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ করতে পারছে। সব বিষয়ে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে সেটা হলো গবাদি পশু পালন, হাঁস, মুরগি পালন ও প্রাথমিক চিকিৎসা, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, নার্সারি তৈরি, মৎস্যচাষসহ নানান ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।


এই প্রসঙ্গে নটাখোলা গ্রামের যুবক ফয়সাল হোসেন (২৫) বলেন, ‘আমি মাষ্টার্স পরীক্ষা শেষ করেছি। চাকরির জন্য চেষ্টা করছি ঠিক সেই মূর্হুতেই করোনা ভাইরাস আমাদের হানা দেয়। তখন আমরা যুবকরা উদ্যোগী হয়ে চরাঞ্চলে পতিত জায়গায় কলার বাগান করি। প্রথমে ৫ বিঘা লিজ নিয়ে পাঁচজন বন্ধু মিলে কলা চাষ শুরু করি। প্রথমে আমাদের খরচ বাদে একলাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ হয়। পরের বছর আবার ১০ বিঘা জমি নিয়ে কলা চাষ সম্প্রসারণ করেছি।’ যুবকদের উদ্যোগ দেখে নটাখোলা, পাটগ্রামচর, হরিহরদিয়া, বালিয়াচক, হালুয়াঘাটা, আন্ধারমানিক, বাহিরচর গ্রামে যুবকরা কলার বাগান, হাঁস, মুরগির খামার, ছাগলের খামার তৈরি করেছে। ফয়সাল আরোও বলেন, ‘প্রথমে আমাদের খরচের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে আমরা আমাদের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।


যুবকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বাল্য বিবাহ রোধে জনসচেতনতা তৈরি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুল কার্যক্রম, মাদকরোধে ক্যাম্পইন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরি, পাখি রক্ষা, খেলাধুলাসহ নানান বিষয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া করোনাকালীন সময়ে হরিরামপুর চরাঞ্চলের যুবকদের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বাজার এলাকায় করোনা মোকাবেলায় জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি করা। গ্রামে যুবকদের সাথে করোনা রোধে প্রচার করেন। যুব সদস্যগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা সচেতনতায় প্রচার করেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: