Posted in

মানিকগঞ্জের পিপুলিয়া ব্রিজ যেন মৌচাকের মেলা

মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ॥

মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচিনাচি-দাঁড়াও না একবার ভাই/ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে, দাঁড়াবার সময়তো নাই। নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতায় উল্লেখিত এই মৌমাছিরা হচ্ছে প্রাকৃতিক মৌমাছি। পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই। স্বার্থপর মানুষের অবিবেচনায় অন্যান্য অনেক পতঙ্গের মতো হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাকৃতিক মৌমাছিরাও। উড়ে চলা মৌমাছিদের ঝাঁক সহজে এখন আর খুব একটা দেখা য়ায় না। বাড়ির আঙিনায় চোখে পড়ে না গাছে ঝুলে থাকা ঢাউস কোনো মৌচাক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্যি এমন উক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের ব্রিজে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক মৌচাক দেখা গেছে। যেন মৌচাকে মেলা বসেছে।

মধু সর্দি-কাশি ছাড়াও শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণালী পরিস্কার করে শরীর ঝরঝরে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে মধুর জুড়ি নেই। এছাড়া আয়ুর্বেদ ওষুধ সেবনে মধু অপরিহার্য। কিন্তু ভেজালের ভিড়ে খাঁটি মধু পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছে বর্তমান সময়ে।

Manikgaj pic 1
পিপুলিয়া ব্রিজ ছাড়াও পুরো উপজেলায় কমপক্ষে ৩ শতাধিক মৌমাছির চাক রয়েছে। ওই এলাকায় খোলা মাঠগুলোতে ব্যাপক সরিষার আবাদ হওয়াতে এ মৌমাছির আনাগোনা বেশি হয় বলে অনেকের ধারণা। শুধু এ বছরই না; বিগত কয়েক বছরেও পিপুলিয়া ব্রিজসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মৌমাছি বাসা বাঁধে। গত বছর এই ব্রিজে ৯০টির ও বেশি মৌচাক দেখা গিয়েছিল। এই মৌচাকগুলো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে অনেক প্রকৃতি প্রেমী মানুষ এই মৌসুমে প্রতিদিনিই ভিড় জমাচ্ছে।

প্রাকৃতিক বন আগের মতো নেই। সেখানে ফুলও ফোটে কম। ফলে গুণগুণিয়ে মধু আহরণের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে মৌমাছিদের। চাক বাঁধার জায়গা আর কোথায় মৌমাছিদের! মাঠের ধারের সেই বড় বড় বৃক্ষতো কবেই গ্রাস করেছে ইটভাটা। যেটুকু বন আছে তাও নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। জমিতে প্রাণঘাতী কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। ফলে শ্রমী ক্ষুদ প্রাণিটি জীবন ও প্রজনন রক্ষায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না। এক সময় জেলার অনেক গৃহস্থ বাড়িতে চোখে পড়তো মৌসুমে-অমৌসুমে মৌমাছির চাক। প্রবাদ আছে মৌমাছিরা নাকি গ্রামের মানুষের ভালো-মন্দ বুঝে চাক বাঁধতো। আর মৌমাছিরা যখন উড়ে যেত তখন গৃহস্থ বধুরা ঢেঁকিতে পাড় দিতো। যাতে মৌমাছিরা ঢেঁকির শব্দ শুনে তাদের বাড়িতে চাক বাঁধে। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল ও দালান ঘরের কার্নিশে মৌচাকের দেখা অহরহ মিললেও এখন মৌচাক খুঁজে ফিরতে হয় এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে।

Manikganj pic 2
স্থানীয় মধু ব্যবসায়ীরা ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহ করলেও ৮০ ভাগ মধুই নষ্ট হয়ে যায়। প্রাকৃতিক এই মৌমাছি রক্ষায় এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও মধু সংগ্রহে সাবধানতা অবলম্বন না করলে আর একটি প্রজাতি আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। স্থানীয়ারা জানান, আমরা প্রতিদিন হাটতে হাটতে এই জায়গাটিতে এসে এই মৌচাকগুলো দেখে থাকি। মাঝে মধ্যে আমাদের নাতি নাতœীদের ও সঙ্গে করে নিয়ে আসি এই প্রাকৃতিক দৃশ্যটি উপভোগ করতে, কেননা এই যুগে সচরাচর এমন অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় না। তারাও এই জায়গাটিতে এসে এতোগুলা মৌচাক এক সংগে দেখে অনেক আনন্দিত হয়।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ মো. আশরাফ উজ্জামান বলেন, “মৌমাছি সাধারণত নিরিবিলি জায়গায় মৌচাক গড়তে পছন্দ করে। অনেক সময় খাদ্য উৎসের কাছাকাছিও এরা মৌচাক তৈরি করে এবং রাণী মৌমাছি তখন নিকটবর্তী জায়গা বেছে নেয়। আশেপাশে গাছপালার অভাব এবং প্রচুর সরিষা ক্ষেত থাকায় ব্রিজের নিকট অসংখ্য মৌচাক গড়ে ওঠাটা সত্যিই নান্দনিক বিষয়।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

2 thoughts on “মানিকগঞ্জের পিপুলিয়া ব্রিজ যেন মৌচাকের মেলা”

  1. রাজ্জাক ভাই কতদিন এই মৌমাছিরা এখানে থাকে? কোন মাস থেকে কোন মাস? এখান থেকে কী মধু সংগ্রহ করা হয়? কে বা কারা কীভাবে করে? পিপুলিয়া সেতুতে কি আগে কখনো মৌচাক দেখা গিয়েছিল? এরপর এরা কোথায় যায়? কবে আসে এখানে? এর ফলে কী সরিষার উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েছে? সব জানিয়ে লিখুন না রাজ্জাক ভাই আরো আরো।

Comments are closed.