Posted in

উপকূলে পানির অভাবে হুমকির মুখে প্রাণবৈচিত্র্য

শ্যামনগর সাতক্ষীরা থেকে গাজী আল ইমরান

উপকূল অঞ্চলে ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে গৃহপালিত গবাদি পশু গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়ার চারণ ভূমি। ঘনবসতির কারণে একদিকে কমছে কৃষিজমি, অন্যদিকে ভূমি খনন করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন মাছের ঘের, মিষ্টি আঁধারগুলো ভরে যাচ্ছে লবণ পানিতে। এতে একদিকে গবাদি পশুর বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে লবণ পানির আগ্রাসনে বিলুপ্ত হচ্ছে প্রাণবৈচিত্র্য।

20180318_114313
উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এবং শ্রীফলকাঠি এলাকা ঘুরে এখানে বহু গবাদি পশুর বিচরণ দেখা যায়। কিন্তু তাদের শারিরিক গঠন তেমন ভালো নেই। কারণ তাদের নেই অবাধ চরণ ভূমি , খাঁ খাঁ রৌদ্রে নেই তৃষ্ণা মেটানোর ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে পান করছে খাল দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর লবণাক্ত পানি। যেটা গবাদি পশুর শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যার কারণে বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু।

20180318_114351
গবাদি পশু বাঁচাতে বহু আঁকুতি এখানকার স্থানীয় মানুষের। গবাদি পশুগুলো দেখভাল করার বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নিজের পরিবারের সদস্যদের মতই গবাদি পশুকে ভালোবেসে চলেছে তারা।

ধুমঘাট গ্রামটিতে লক্ষ্য করা যায়, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা গরু ও ছাগল পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একাধিক গরু-ছাগল-মহিষ রয়েছে। আর এসব গাভী থেকে পাওয়া দুধ বিক্রি করে অনেকের সংসার চলে। শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাটের বড় বড় বিলের জমি গরু-ছাগল পালনের উপযুক্ত বিচরণ ভূমি। এই বিলকে কেন্দ্র করে এসব অঞ্চলের কৃষকরা গরু-ছাগল পালনে আগ্রহী হন। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকেরা চিংড়ি চাষের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। এছাড়া মিষ্টি পানির আঁধার খালে লোনা পানি উত্তোলন করার ফলে গরু-ছাগল বিচরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ যেনো তার নিজের ভোগের মহিমায় প্রাণ বৈচিত্র্যকে বিলুপ্ত করতে চাচ্ছে।

20180318_114633
সমস্যা সমাধান বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার মুরব্বিরা জানান, আমাদের এলাকার গবাদি পশু পালনে সবচেয়ে বড় সমস্যা গবাদি পশুর জন্য কোনো মিষ্টি পানির ব্যবস্থা নেই। এ জন্য বিলের চার পাশে খালগুলো লোনা পানি মুক্ত করা খুব দরকার বলে মনে করেন তারা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

One thought on “উপকূলে পানির অভাবে হুমকির মুখে প্রাণবৈচিত্র্য”

  1. ইমরান ভাই লেখাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধন্যবাদ অনেক। কিন্তু আপনার ছবিগুলো আরো বেশি যুতসই হয়েছে। আরো লিখুন। লবন পানির অভাবে এলাকার প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। এটি নিয়েই অনবরত লিখতে থাকুন।বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের নজরে আনার জন্য কিছু কাজ করুন। লেখাটিতে প্রাণীর অধিকার বিষয়ক মতবাদ এবং পারস্পরিক মঙ্গলজনক সহাবস্থান সম্পর্ক একত্রে দেখতে পাচ্ছি।

Comments are closed.