Posted in

মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়ায় কামিনী ফুল

এস, এম নাহিদ হাসান, সাতক্ষীরা থেকে

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে যেসব ফুল ফুটে থাকে তার মধ্যে কামিনী অন্যতম। কামিনী ফুল দেশের প্রায় সব জায়গাতে দেখে যায়। এটি মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি ফুল। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে মানানসই বলে কামিনী ফুল গাছ, বন-জঙ্গল, রাস্তার ধার, বসতবাড়ি, বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে।

IMG_20180705_160431

কামিনী ফুল গাছ ঝোপ আকৃতির হয়। এর পাতার আকৃতি ছোট এবং এবং রঙ গাঢ় সবুজ। এটিকে চির সবুজ বৃক্ষ বলা যায়। গাছের শাখা-প্রশাখা এবং কাণ্ড অনেক শক্ত হয়। অনেক পুরাতন বাড়িতে এখনো কামিনী ফুল গাছ দেখা যায়। বাগান সজ্জায় ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সব এলাকায় কামিনীর উপস্থিতি ব্যাপক। কামিনীর আদি নিবাস চীনে। তবে এশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রজাতির ফুল গাছ আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। কামিনী মূলত বর্ষাকালের ফুল, তবে হেমন্তকালেও এর ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে তুলনামূলক হেমন্তের সময় এ গাছের ফুল কম চোখে পড়ে।

IMG_20180705_160501

কামিনী ফুলের রঙ সাদা হয়। অনেকে এ ফুলকে নাকের নোলকের সাথে মিলিয়ে থাকেন। ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় অসংখ্য ফুল ফোটে, ফুলের আকৃতিতে ছোট হয়। চিরসবুজ ছোটখাটো ধরনের গাছটি তিন থেকে চার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কখনও কখনও এটি গুল্ম আকৃতিরও হতে পারে। এর ফুল সাধারণত দুই সেন্টিমিটার চওড়া হয়। এর সুনির্দিষ্ট পাঁচটি খোলা পাপড়ি থাকে। ফুল বাসি হলে ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। ফল ছোট ও ডিম্বাকার হয়। পাকলে ফলের রঙ লাল-কমলা হয়।

বিকাল নেমে সন্ধ্যা হলেই ফুল ফুটতে থাকে। ফুলের সুমিষ্টি ঘ্রাণ চারদিক আন্দলিত করে তোলে। গাছ থেকে অনেক দূর পর্যন্ত এর সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। শিশু থেকে বয়স্ক সব শ্রেণির মানুষের পছন্দের ফুল এটি। কামিনীর বীজ থেকে তৈরি চারা ও গুটি কলমের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়।

IMG_20180705_160517

এ ফুল দ্রুত ধরে যায় তাই এর বাণিজ্যিক ব্যবহার কম। তবে গাছের অগ্র ডাল-পাতা বাহারী বলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফুলের তোড়া সাজানো, ফুলদানি সাজানো, গাড়ী সাজানো, গেট সাজানো, মঞ্চ সাজানো, বাসর ঘর সাজানো, ফুলের মালা সাজানোসহ অন্যান্য ডেকোরেশনের কাজে কামিনীর বাহারী ডাল-পাতা ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্চে। শুধু তাই না; গ্রামের এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা এখন এ গাছের অগ্র ডাল-পাতা ক্রয় করে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ফুল মার্কেটে সরবরাহ করছে। কামিনী ফুল গাছে রোগ বা পোকার আক্রমণ খুব কম ও বেশি পরিচর্যাও করা লাগে না। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ থেকে বছরে দুই বার ডাল-পাতা সংগ্রহ করা যায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.