সাম্প্রতিক পোস্ট

ছেলে ও মেয়েকে এক একটি সম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে

নেত্রকোনা থেকে রুখসানা রুমী

নেত্রকোনা সদর উপজেলা কাইলাটি ইউনিয়নের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বড় কাইলাটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’। বিগত একবছর যাবৎ পুঠিগত শিক্ষার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক’র উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে (জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি) সেশনের আয়োজন করে আসছে।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশ যেখন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে গ্রামীণ মেয়েরা পরিবারের নিম্ন আয়, আর্থিক সংকট, পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে তাদের জীবনের সকল আশা আকাঙ্খাকে বিসর্জন দিয়ে অপরিণত বয়সেই সংসার নামক নতুন জগতে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় আইন থাকা স্বত্বেও এখনও গ্রামাঞ্চলে বহাল তবিয়তে আইন লঙ্ঘন করে চলছে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের ঘটনা।

Theater-2-W600
কাইলাটি গ্রামের যুবকরা নিজেদের গ্রাম ও সমাজের উন্নয়নে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। গ্রামের যুব জনগোষ্ঠীর তথ্য থেকে জানা যায়, বড়কাইলাটি গ্রামে বাল্য বিবাহের মত সামাজিক ব্যাধি এখও পুরাদমে বিদ্যমান। বড় কাইলাটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তৈরির সময় নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় অনেক নারী শিক্ষার্থীর বাল্য বিবাহের বিষয়টি উঠে আসে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন।

এধরণের সামাজিক ব্যাধি সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয় ও নারীদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও জনসচেতনতা বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মতবিনিময় সভার পাশপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নাটকের মাধ্যমে প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Theater-1-W600
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা স্কুল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে নাটক প্রদর্শন করে। নাটকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের উপর, পরিবার ও সমাজের উপর বাল্যবিবাহ, সমাজে যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের প্রভাব সম্পর্কে নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাজি, যুব প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নাটকটি উপভোগ করেন।

নাটকটি প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী সকল অভিভাবক, শিক্ষাথী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বার), গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাল্যবিাহ, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন বন্ধে একযোগে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেন। অভিভাবকরা নিজ নিজ নারী সন্তানদের ১৮ বছরের আগে এবং পুরুষ সন্তানদের ২১ বছরের আগে বিয়ে না দেয়ার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণ ভূয়া জন্ম সনদ না দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবরা এলাকায় এধরণের ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনকে জানানোর অঙ্গীকার করেন।

প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল পলাশ নারী শিক্ষার গুরুত্ব¡ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন,“প্রত্যেক পিতা-মাতাকে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে র্পাথক্য না করে এক একটি সম্পদ হিসেবে উভয়কে তৈরি করতে হবে। এজন্য মা-বাবাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। নারী শিক্ষার হার বাড়লে নারীদের কর্মসংস্থান হবে। নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে পরিবারে তাদের মর্যাদা বাড়বে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের নারীরা পুরুষদের ন্যায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। ধীরে ধীরে সামাজিক সমস্যাগুলো একসময় দূরীভূত হবে। বিষয়টি নিয়ে বেশি বেশি প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ একদিন বন্ধ হবে।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: