সাম্প্রতিক পোস্ট

এসডিজি’র লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে তরুণরা

বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি

টেককসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখতে চায় রাজশাহীর কমিউনিটি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনগুলো। তাঁরা বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়নমূলক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, প্রকৃতি সুরক্ষা, আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন, সংগঠন তৈরি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছি তা এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’ তারা আরো বলেন, ‘আমাদের নানাভাবে বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করার ফলে আমরা এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা ও সূচক সম্পর্কে জানতে পারি। যার ফলে আমরাও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে ভূমিকা রাখছি এবং আগামীতেও তা নিয়মিত অব্যাহত রাখতে চাই।’

IMG_1134

গত ১৬ মে রাজশাহী মহানগরীর কুকিজার মিলনায়তনে বারসিক আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজশাহী তরুণ সংগঠন ফোরামের কমিউনিটি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী ১৬টি তরুণ সংগঠনের ৩৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভার শুরুতে বারসিকের বরেন্দ্র আঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম টেকসই উন্নয়ন ১৭টি অভীষ্ট (২০৩০), লক্ষ্যমাত্রা এবং সূচকসমূহ নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। তিনি বারসিকের জননেতৃত্বে উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে বরেন্দ্র আঞ্চল কেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন উদ্যোগ এবং চলমান কর্মসূচিগুলো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কৌশলগত পরিকল্পনায় স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে (এসডিজি) গুরুত্ব দিয়ে বারসিক কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকার উন্নয়নে প্রায়োগীগ গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিরকল্পনা নেয়। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বারসিক কৌশলগত পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে প্রকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করছে তা স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’র লক্ষ্যমাত্রা-২ এর খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির উন্নয়ন ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন; লক্ষ্যমাত্রা-৩ এর সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা; লক্ষ্যমাত্রা-৪ এর সবার জন্য ন্যায্যতাভিত্তিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ; লক্ষ্যমাত্রা-৫ এর জেন্ডার সমতা অর্জন এবং সকল নারীর ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন; লক্ষ্যমাত্রা-৬ এর- সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাপনা; লক্ষ্যমাত্রা-১৩ এর জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ; লক্ষ্যমাত্রা-১৫ এর স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন; মরুকরণ প্রতিরোধ করা এবং জমির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্যর ক্ষতি কমানো; এবং লক্ষ্যমাত্রা-১৬ এর শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমুলক সমাজ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার, সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রাগুলো পুরণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

SDG BARCIK-4

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন শেষে তরুণদের কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এতে অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধির মধ্যে ছিলেন বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের (বিইসিডিপিসি) সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, বরেন্দ্র শিক্ষা বিকাশ কেন্দ্রের আহবায়ক উজ্জ্বল হোসেন, বাংলাদেশ ইননোভেটিভ এডুকেশন সোসাইটির (বিআইইএস) এর সভাপতি জয়নুল আবেদিন সবুর, রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, রাজশাহী রোটার‌্যাক্ট ক্লাবে সভাপতি ইমতিয়াজুর রহমান, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি নকুল পাহান, টুকরো হাসির সভাপতি সাজিয়া সুলতানা, সূর্য কিরণ বাংলাদেশের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল, স্বপ্নপূরণ এর সভাপতি আমানুল্লাহ বিন আখতার, বুক ব্যাংক এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান শিশির, নবজাগরণ ফাইন্ডেশনের শিক্ষা প্রচার সম্পাদক খালিদ হাসান, রাজশাহী কলেজ পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ, নব ঊত্থান এর সভাপতি সামিউল হাসানসহ বিভিন্ন তরুণ সংগঠনের সদস্যগণ। তরুণরা বলেন, ‘বিগত সময়ে এবং বর্তমানে বারসিক কর্তৃক স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, মতবিনিময়ের সচেতনতামূলক কর্মসূচির কারনে আমরা দিনে দিনে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন তথা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমাজের নানা পেশার মানুষের সহায়তা করছি। পাশাপাশি আমরা তরুণরা নিজেও একজন দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।’

তরুণ সংগঠন বাংলাদেশ ইননোভেটিভ এডুকেশন সোসাইটির (বিআইইএস) এর সভাপতি জয়নুল আবেদিন সবুর বলেন, ‘শুরুতে আমরা ক’জন তরুণ বস্তি পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। আমরা তাদের স্কুলগামী করতে সক্ষম হই। পাশাপাশি আমরা স্কুলের তরুণদের পরিবেশবান্ধব বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে ভবিষ্যত প্রকৃতিবান্ধব খুদে বিজ্ঞানীর সন্ধানে কাজ করি। আমাদের কর্মসূচিগুলো সবসময় এসডিজির সাথে মিল রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং পরিবেশকে রক্ষার জন্যে বারসিক’র সহায়ক ভূমিকা নিয়ে করে থাকি।’ রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা তরুণদের বৈচিত্র্যময় কেরিয়ার নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় কাজ করি। আমরা চাকরি মেলার আয়োজন করি। আমরা এ পর্যন্ত ১৩৫ জন তরুণকে বিভিন্ন সন্মানজনক পেশার সাথে সংযুক্ত করতে সহাযতা করেছি।’ সূর্য কিরণ বাংলাদেশের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল বলেন, ‘আমরা রক্তদান এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে কাজ করি। ফ্রিতে সবিধাবঞ্চিত মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দেই। আমরা এ পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেছি। আমরা অসহায় রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে রক্ত দান করে থাকি।’ নবজাগরণ ফাইন্ডেশনের শিক্ষা প্রচার সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, ‘আমরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার ৩, ৪ এবং ৫ নং বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি।’ রাজশাহী কলেজ পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ বলেন, ‘পরিবেশ ভালো রাখা এবং পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা প্রচারে আমরা কাজ করি।’ নব ঊত্থান এর সভাপতি সামিউল হাসানসহ বলেন, ‘আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে কাজ করি। যা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। শ্রীরামপুর বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলগামী এবং শিক্ষা সচেতনতা নিয়ে কাজ করছি।’ বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের (বিইসিডিপিসি) সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি বলেন, ‘আমরা বরেন্দ্র অঞ্চলের স্থাযিয়ত্বশীল উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। প্রাণ প্রকৃতি রক্ষাসহ বিভিন্ন অধিকার আদায়সহ শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমরা অনেকগুলো বিষয়ের সাথে কাজ করছি।’

SDG-BARCIK-2

মতবিনিময়ে তরুণদের উন্নয়নে অংশগ্রহণ, নিজেদের উন্নয়ন এবং এসডিজি বিষয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ড. আইনুল হক, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা। মতবিনিময়ে বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান দেশের মোট জনগোষ্ঠীর দুই-তুতীয়াংশই তরুণ বা যুবক। তাই দেশের উন্নয়নে যুবকদের কার্যকর অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাই যুবদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং এ সম্পর্কিত বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। একই সাথে তরুণ বা যুবকদের মতামত জানা দরকার। আবার আঞ্চলিকতা ভিত্তিক উন্নয়নে একটি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এবং সবদিকগুলো বিবেচনা করেও উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। কারণ একেক অঞ্চলের ভৈৗগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং জনগোষ্ঠীর চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে যুবকদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময়ের আয়োজন করে বারসিক। এর ফলে আশা করা যায় তরুণরা তাদের আঞ্চলিকতাসহ স্থানীয় প্রাণপ্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে পারবে। একই সাথে আগামীতে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: