Posted in

আন্তর্জাতিক নারী দিবস: বীজ বিনিময় ও করোনা টিকা

রাজশাহী থেকে সুলতানা খাতুন ও আয়েশা তাবাসসুম

পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম হচ্ছে বিলধর্মপুর। অন্যান্য গ্রামের মতো এই গ্রামের অধিক মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ও কৃষি কাজে সম্পৃক্ততা বেড়েছে। বারসিকের সহযোগিতায় নারীদের চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রতি এই গ্রামে একটি সভা করা হয়। সেই সভায় গ্রামের নারীরা ৮ই র্মাচ নারী দিবসে তাদের দেশি বীজ বৈচিত্র্য মেলা আয়োজনের কথা বলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি আলোচনা সভা বীজ বৈচিত্র্য মেলা ও বীজ বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

এই বীজ বৈচিত্র্য মেলায় ২০ জন্য পুরুষ ও ৫৫ জন নারী অংশ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে থেকে ২৫জন নারী সরাসরি বীজ নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করে। মেলায় অংশ নেয়া নারী মাহমুদা বেগম বলেন, ‘আমি করোনাকালিন সময়ে বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি চাষ করেছি। আমি ২৫ জন নারীর সাথে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, বরবটি, ধুমা,গড়া আলু বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি বীজ বিনিময় করেছি।’

মেলায় অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে ৪৭ প্রকার বীজ নিয়ে এসে মোসাঃ মাহমুদা বেগম ১ম স্থান অধিকার দখল করেন। ৩৭ ধরনের বীজ নিয়ে এসে দ্বিতীয় হয়েছেন মোসাঃ শাহেদা বেগম আর ৩৩ ধরনের বীজ নিয়ে এসে ৩য় হয়েছেন মোসাঃসখিনা বেগম। বীজ মেলায় ৬০ ধরনের বীজ প্রর্দশিত হয়েছে।

সেগুলো হল: লাউ দুই রকম, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, পুঁই তিন রকম, সিম ছয় রকম তরই, ধুমা, বরবটি, দুই রকম মুলা, ঢেড়স, পিয়াজ, রসুন, ঔল, মান, শসা, সাজনা, বিছাকল, আনাজি কলা, হলুদ, মরিচ, বরই দুই রকম, লিচু, দেশি জাতের ধান ৬ রকম দেশি আমড়া, করলা, আড়লসহ আরো বিভিন্ন ধরনের বীজ প্রদশিত হয়।

বীজ বৈচিত্র্য মেলায় ২৭জন নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বীজ বিনিময় করা হয়। বিলধর্মপুর গ্রামে করোনা কালিন সময়ে প্রায় ১৪০জন নারী ও পুরুষের মধ্যে ২৫ ধরনের বীজ বিনিময় করা হয়। করোনাকালিন সময়ে মানুষের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না বিধায় তাদের অর্থ সাশ্রয়ী হয়। দেশি বীজে বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধি পায়।

বীজ মেলা দেখতে এসে কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের বীজ মেলা ও বীজ বিনিময় অনুষ্ঠান আমার খুব ভালো লেগেছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের ফলে নারীদের মধ্যে বীজ সংরক্ষণ ও বীজ বিনিময় অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমি ধন্যবাদ জানাই বারসিক কর্মিকে এতো সুন্দর একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য।’

অন্যদিকে বারসিক ও গুবিড়পাড়া নারী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গুবিড়পাড়া মাদ্রাসা মাঠ তানোর, রাজশাহীতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারী মোকাবেলায় পরিবার ও সমাজের সুরক্ষায় অবদানের জন্য নারীদেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি করোনাকালীন নারীদের সাহসী ভূমিকা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থান করে নাজমূন নাহার (৩৫)। তিনি বলেন, ‘করোনার লক-ডাউনের সময় সবাই যখন ঘরে বন্দী নারীরা তখনও সারাদিন পরিবারে শ্রম দিয়ে পরিবারকে সুরক্ষা করেছেন। কাজ না থাকার কারণে নিয়মিত বাজার না করলেও নারীরাই নিজের সক্ষমতা দিয়ে পরিবারে খাদ্য চাহিদা মিটিয়েছে কখন কুড়িয়ে পাওয়া শাকসবজি দিয়ে বা নিজের বাড়ীতে শাকসবজী উৎপাদন করেন।’

উক্ত অনুষ্ঠানে করোনা টিকা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কোথায় কিভাবে টিকা নিতে হবে বা রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় সব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে তানোর উপজেলার সিন্দুকাই ও গুবিড়পাড়া গ্রামের ৭০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.