Posted in

পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ পুষ্টির উৎস আমার আঙিনা

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়
৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশকে সামনে রেখে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের দরুন হাসামপুর গ্রামের কৃষাণী সংগঠনের সদস্যরা ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন। এ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের আঙিনায় চাষকৃত সব্জী ও সব্জীর বীজ, ফল, অচাষকৃত উদ্ভিদ, টক জাতীয় ফলের আচার এবং সংরক্ষিত শুকনো খাদ্যেপাদান প্রদর্শন করেন।
উক্ত আয়োজনে ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, পেয়ারা, পেঁপে, সুপারি, কলা, লেবু ইত্যাদি। অচাষকৃত উদ্ভিদের মধ্যে ছিল কলমীশাক, ঘৃত্তিকাঞ্চন, বউত্তা, খুইরা, কাঁটাখুইরা, হেইচা, থানকুনি, দলকলস, পালই, কচুশাক, বেহুরগুডা, গিমাই, খেতাবুড়ি, খারমান পাতা, কচুরলতি ইত্যাদি। সব্জীর মধ্যে ছিল আলু, মিষ্টিআলু, লাফা বেগুন, বারোমাসী ডিমবেগুন ও লম্বা বেগুন, ধুন্দল, করলা, কাঁকরোল, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, শশা, ডাটা, সাজনা পাতা, ঢেঁড়স, পাটশাক, পুঁইশাক, চালকুমড়া পাতা, মিষ্টিকুমড়া শাক ও ফুল। অন্যদিকে যে সমস্ত বীজ তাঁরা প্রদর্শন করেছিলেন সেগুলো হলো শিম, বারোমাসী মরিচ, বরবটি, পালংশাক, দেশিলাউ, পাটবীজ, ডাটাবীজ, গুয়ামুড়ি, লেটুস পাতাবীজ, চালকুমড়া, করলা, সরিষা, মিষ্টিকুমড়া, পুঁইশাক ইত্যাদির বীজ। সংরক্ষিত খাবারের মধ্যে ছিল শুকনো বড়ই, আম ফলসি, পাট পাতা, নিমপাতা, কাঁঠালবীজ ও বিভিন্ন ধরণের শুকনো মাছ। আচারের মধ্যে আম, বড়ই, জলপাই, চালতা, আমস্বত্ত ও তেঁতুলের আচার।


প্রদর্শন শেষে এই আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপ্রধান হোসনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমরা সারা বছর নানান জিনিস খাই। এগুলো আমাদের নিজের বাড়িতেই থাকে। কোনো সময় নিজের কাছে না থাকলে অন্যের বাড়ি থেইক্যা আনি। সেও আমার বাড়ি থেইক্যা নিয়া যায়। আমরা এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়া দেখতে চাইছি যে কার বাড়িত কি কি আছে। যদি কিছু কমও থাকে তাইলে অরেক জনেরটা দেইখ্যা যাতে নিজের বাড়িতে চাষ করতে পারি। যা যা আমরার বাড়িত আছে এইগুলান যদি কিনতে হইতো, কি পরিমাণ টাকা খরচ হইতো। আবার অতো ভালোও পাওয়া যাইতো না।”


সদস্য খালেদা আক্তার বলেন, “আমরা যা মাড়াই (চাষ করি) করি এইগুলাতে বিষ দেইনা। খাইতে কত স্বাদ। খাওনের জিনিসেরও অভাব নাই। ইচ্ছা হইলেই খাইতে পারি। নিজে খাই, অন্যরেও দেই। অনেক আনন্দ লাগে।” তাজমহল আক্তার বলেন,“আমার উঠানেই আমি অনেক জাতের সব্জী লাগাই। ফল গাছও আছে। বাড়ির আনাচে কানাচে থেইক্যা কত শাক তুলি। দীঘির মাছ তুললে শুকায়া রাইখ্যা দেই। একেক দিন একেক ধরণের খাবার খাই”। সদস্যদের আলোচনার শেষ পর্যায়ে প্রবীণ নারী মনোয়ারা আক্তার নতুন প্রজন্মের উদ্যেশ্যে বিভিন্ন ধরণের খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন এবং বিভিন্ন অচাষকৃত উদ্ভিদের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়।


গ্রামীণ পরিবেশে প্রতিটি বাড়ি একটি করে পুষ্টির ভা-ার। এখানে খাদ্যোপদানের সকল উপকরণের প্রাচূর্য্যতা থাকে। মৌসুমভিত্তিক ফল, সব্জী, অচাষকৃত উদ্ভিদ এই সকল কিছু হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। কোনো কৃষাণী তাঁদের আঙিনা ফেলে রাখেন না। কোন জায়গায়, কখন কি চাষ করতে হবে সব কিছুর সিদ্ধান্ত ও পরিচর্যা অঘোষিত দায়িত্ব তিনিই গ্রহণ করেন। উৎপাদিত নিরাপদ এ সকল খাদ্যোপকরণ দিয়ে নারীরা পরিবারের সকলের পুষ্টির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকেন। বিষমুক্ত ভাবে চাষ করা হয় বলে এসব খাবার খেলে কোনো ধরণের শারিরীক অসুস্থতা দেখা দেয়না। বিষ প্রয়োগে চাষ হয়না বলে আঙিনার কৃষি, পরিবেশ সম¥ত কৃষি। যার ধারক হলেন আমাদের নারীগণ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.