Posted in

তানোরে আমের আগাম মুকুলে দোল দিচ্ছে চাষির ‘স্বপ্ন’

তানোর, রাজশাহী থেকে মিজানুর রহমান

মাঘ মাস না পেরুতেই প্রকৃতিতে বইছে ফাল্গুনী হাওয়া। সঙ্গে যোগ হয়েছে অধিকাংশ আম গাছে আগাম মুকুল। গাছের শাখে শাখে আগুনরঙা ফুল। চারিদিকে স্বর্ণালী শোভা। যেমন তার সৌন্দর্য, তেমনি তার ঘ্রাণ। মুকুল ভরা ডালে পাতাদের হাতছানি। মৌ মৌ ঘ্রাণে মাতোয়ারা মৌমাছির দল। গুন গুন সুরে মুকুলের ওপর বসে চলছে ছন্দের নাচন।

ভাষায় ফোটানো না গেলেও আমের গাছে এমন মুকুল ফোটা দৃশ্য এখন আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলাসহ পুরো জেলার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে। সারি সারি আমগাছে যেনো হলুদ আর সবুজের মিলনমেলা। গাছে গাছে দেখা দিয়েছে মুকুলের সমারোহ। এবার এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা কম থাকায় আগাম মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
Tanore advance mango buds Photo-01 30.01.2017
মাঘে এই আগাম মুকুল আমচাষীদের মনে আশার আলো জ্বাললেও গবেষকদের মতে, ঘন কুয়াশা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব আগাম মুকুল। তবে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। জেলা ফল গবেষণাগার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত বছর রাজশাহী জেলায় আমের বাগান ছিল ১৬ হাজার ৫৮৩ হেক্টরে জমিতে। এর মধ্যে তানোর উপজেলায় আমের বাগান ছিল প্রায় ১ শত ৫১ হেক্টর জমিতে। এবছর বাগানের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমচাষীরা জানান, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে তীব্র শীত নামেনি। অন্য মৌসুমের চেয়ে এবার তাপমাত্রা কিছুটা বেশি। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমের মুকুল আসার কথা থাকলেও এবার এক মাস আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অধিকাংশ গাছে আগাম মুকুল চলে এসেছে। তারা আরো জানান, গাছে গাছে বাহারী জাতের আম এখন স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের রসনা মেটাতে প্রস্তুত হচ্ছে। সব ভেবে তাদের মনে উঁকি দিচ্ছে মুনাফার আগাম বার্তা।
Tanore advance mango buds Photo-02 30.01.2017
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম প্রতিবেদকে জানান, ‘এবার শীত কম। তাপমাত্রা বেশি। একারণেই তানোর উপজেলাসহ পুরো জেলা জুড়ে আম গাছগুলোতে আগাম মুকুল এসেছে। তিনি জানান, ধান-চাল বা অন্য কয়েকটি ফসলের মত আম উৎপাদনের কোনো লক্ষ্যমাত্রা কৃষি অধিদফতরের কাছে থাকে না। তবে এ বছর জেলায় ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। আগামী দিনগুলোয় কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে এখান থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, রাজশাহী জেলায় প্রায় আড়ইশ’ জাতের আম উৎপন্ন হয়ে থাকে। তবে এরমধ্যে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আর্মপলি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা ও মোহনভোগ জাতের আম বেশি চাষ হয়ে থাকে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.