সাম্প্রতিক পোস্ট

বর্ণিল ঘুড়ি উৎসবে বাংলা বর্ষ বরণ-১৪২৪

 মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ॥
পহেলা বৈশাখের ঝলমলে বিকেল; চারিপাশে হাজারো মানুষের হাসিমাখা মুখ। আকাশে উড়ছে বাহারী রংয়ের শত শত বর্ণিল ঘুড়ি। চারপাশে নদী বেষ্টিত যমুনার চর দেখে আগন্তুকদের  মনে হতে পারে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ছে একটু একটু করে। সৌন্দর্যের অবারিত ধারা যেন আরো বর্ষিত হচ্ছে চরটিতে। এমনই এক নান্দনিক পরিবেশে মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাটের সন্নিকটের যমুনা চরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। স্থানীয় এলাকাবাসীর সমন্বয়ে গঠিত শতদল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উৎসবের আয়োজন করে। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রতিবছর এ ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়।
manikgonj pic
আরিচা লঞ্চঘাট থেকে শত শত মানুষ নৌকাযোগে চরে যাচ্ছেন। আকাশে তখন উড়ছে শত শত ঘুড়ি। পতেঙ্গা, কইরা, দোল, সাপা, হেলিকপ্টার, মানুষ, চিলসহ নানা নামের অর্ধশতাধিক ঘুড়ি নিয়ে জেলার নানা প্রান্ত থেকে ঘুড়িওয়ালরা হাজির হয়েছেন। নাটাই হাতে তারা মেতে উঠেছেন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায়।

লুৎফর রহমান নামে এক ঘুড়ি প্রতিযোগি জানান, তিনি প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ করে একটি হেলিকপ্টার ঘুড়ি বানিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে এটা উড়াতে পেরে ভীষণ খুশি তিনি। মেলায় এসেছে বিরাট আকারের এক সাপ ঘুড়িও। যার লেজ তিনশ হাত। ঘুড়িটির মালিক জানান, “ছোট বেলায় ঘুড়ি ওড়াতেন। কিন্তু এখন সেই সময় এবং সুযোগ কোনোটাই নাই। তাই বছরের এই দিনটা খুব উপভোগ করি।”

শুধু ঘুড়িয়ালরাই নয়, অনেক দর্শনার্থীকে শখ করে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা গেছে। ছোট-বড় সকলেই জমজমাট এ আয়োজন উপভোগ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ লতা বলেন, “নদীর চরে এই উৎসবের আয়োজন করায় পরিবেশটা খুব ভাল লাগছে। তাছাড়া একসঙ্গে এতগুলো ঘুড়ি দেখে সবাই আনন্দ উপভোগ করছে। যেন আরিচা ঘাটের এক সময়ের সেই ঐতিহ্যের রূপ ফিরে এসেছে।” রুমা, কলি, মাসুমসহ বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, বছরের এই দিনটির জন্য তারা অপেক্ষায় থাকেন। আগামীতেও যেন মেলা অব্যাহত থাকে সেই দাবি জানান তারা।

ঘুড়ি উৎসবের প্রধান অতিথি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম.  নাঈমুর রহমান দুর্জয় তার বক্তব্যে জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই শতদল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর এই উৎসবের আয়োজন করে। এ ধরনের আয়োজনে সবাইকে পৃষ্টপোষকতা করার আহ্বান করেন তিনি।

গোধূলীর রক্তিম আভা; নদী জলের আলিঙ্গনে চিকচিক করছিল। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশে উড্ডীয়মা ন ঘুড়িগুলোর প্রতিচ্ছবি। এ এক অন্যরকম অনুভূতি, অন্যরকম ভালালাগা। সপরিবারে ও স্বজনদের নিয়ে এমন অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছিলেন দর্শনার্থীরা। আরেকটি বছরের অপেক্ষায় ঘুড়ি উৎসবে আসা মানুষের মনঃদৃষ্টি।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: