Posted in

ধুতরা গাছের গুনাগুণ

সাতক্ষীরা থেকে জগন্নাথ সরকার
বাড়ির পাশে, ঝোপে ঝাড়ে, চলতি পথে, পুকুর অথবা ডোবার ধারে, অযত্ন অবহেলায় গাছটি বেড়ে ওঠে। পশু পাখি গাছটি ফল-ফুল পাতা কিছুই খায় না। গাছে যখন ফুল, ফল আসে তখনও অনেক সুন্দর দেখায়। কিন্তু সেই ফুল ফলে কেউ হাত দেয় না, অনেকে মনে করেন এই গাছের ফুল ফল খেলে মানুষ পাগল হয়ে মারা যায়। কিন্তু এই গাছের যে ঔষুধি গুণ আছে তা অনেকেই অজানা। সেই গাছটির নাম ধুতরা।

IMG_20180418_121713

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম: ধুতরা মেটাল। সর্বজন পরিচিত এই গাছটির ফল, ফুল, বীজ বা অন্য কোন অংশ খায়, তবে সে মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে মারা যায় এমন কথা হরহামেশাই শোনা যায়। অযত্নে বেড়ে ওঠা গুল্ম গাছটি উপমহাদেশের প্রায় সকল দেশে পাওয়া যায়। এক একটি গাছ চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ গাছ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তবে গাছগুলো দেখতে একই রকমের কিন্তু ফুলের রঙ ভিন্ন হয়ে। বর্ষাকালে ঘণ্টা আকারে সাদা ফুল হয়, তাই এর আরেক নাম ঘণ্টাপুস্প। নাড়ুর মতো গোল ফলের চারিদিকে ছোটছোট কাটা থাকে। ফল পাকলে ফেটে যায়।
IMG_20180418_121734
আর এক প্রকার ধুতরা গাছ বিহারের অঞ্চল বিশেষ এবং উত্তরবঙ্গে দেখা যায়। এগুলো ছয় থেকে সাত ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। তবে পাতাগুলো দেখতে অনেকটা বাসক পাতার মত, ফুলগুলো অপেক্ষাকৃত লম্বা। কুচবিহারে অঞ্চলে একে বলে গজ ঘন্টা ধুতরা।

আর একটি গাছের নাম কালো ধুতরা। এর পাতা, শিরা, বোটা, গাছের ফুলের রঙও বেগুনি। কিন্তু এরা একই জাতের গাছ। কাউকে যদি পাগলা কুকুরে কামড়ায় তাহলে এ গাছের এক থেকে আধা গ্রাম মূল ও পূর্ননবা নামের আরেকটি ভেষজ গাছের পাঁচ গ্রাম কাচা মূলের সাথে বেটে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা দুধের সাথে খাওয়ালে জলাতঙ্ক রোগ হবে না।

ধুতরা গাছের উপকারিতা সম্পর্কে কবিরাজ নির্মল সরকার বলেন, “ধুতরা পাতার রসের সাথে সামান্য একটু গাওয়া ঘি মিশিয়ে ফোঁড়ার স্থানে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পেকে যায়। কোন কারণে মাথার চুল উঠে গিয়ে টাক পড়লে, ধুতরা পাতার রস মাথায় লাগালে টাকে চুল গজাতে সহায়ক হবে।”

IMG_20180418_121745

তিনি আরো বলেন, “প্রচন্ড বাতের ব্যথায় ধুতরার পাতার রসের সাথে সরিষার তেল মিশিয়ে কুসুম গরম করে ব্যথা স্থানে মালিশ করলে ব্যথা কমে যায়। কৃষ্ণ ধুতরার শুকনো পাতা, ফুলের সাথে বাসক পাতা জডিয়ে সিগারেটের মতো টানলে হাঁপানির কষ্ট কমবে।”

এছাড়া ধুতরা গাছের পাতা, মূল, ও ফল সিদ্ধ করে বুকে সেক দিলে শ্বাস কষ্ট কমে। আর পাতার রস দুই থেকে তিন ফোটা প্রতিদিন দুধের সাথে খেলে ক্রিমি কমে যায়। সতর্ক থাকা ভালো, এই গাছটি খুবই বিষাক্ত। তাই এ ধুতরা গাছের যেকোন অংশ ব্যবহার করতে হবে সর্তকতার সাথে। খুব অভিজ্ঞ না হলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.