Posted in

নদীগুলোকে দখলমুক্ত ও পুনর্জীবিত করার দাবি তরুণদের

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পদ্মানদীসহ দেশের সকল নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিশেবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে রাজশাহীর স্বেচ্ছাসেবী ও গবেষণাধর্মী উন্নয়নমূলক তরুণ সংগঠন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস। যাকে অন্যভাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নদী রক্ষায় করণীয় দিবস। ১৯৯৮ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৭ সালের মার্চে ব্রাজিলের কুরিতিয়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নদীর প্রতি আমাদের করণীয় কী? নদী রক্ষায় আমাদের কী দায়িত্ব, কতটুকু দায়বদ্ধতা? এটি উপলদ্ধি ও স্মরণ করিয়ে দিতেই এমন দিবস পালনের সূচনা।

বক্তারা বলেন, ‘নদীমাতৃক’ দেশ বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে আমরা কঠিন কঠিন বিদেশী শব্দ রপ্ত করতে পারলেও ‘নদীমাতৃক’ কথাটির গভীরতা কিংবা এর ব্যঞ্জনা আমরা আজো বুঝিনি। নদীমাতৃক কথাটার সোজা মানে হচ্ছে, নদী যেখানে মাতা বা জননী। আর আমরা সেই জননীকে প্রতিনিয়ত গলা টিপে হত্যা করছি।’

প্রায় সব নদীকে আমরা পরিণত করেছি রবি ঠাকুরের ছোট নদীতে বলে উল্লেখ করে তারা আরো বলেন, ‘রবি ঠাকুরের ছোট নদীতেও বৈশাখ মাসে হাঁটুজল থাকতো। আর এখন বৈশাখ মাসে নদীর বুকে বোরো ধান ফলে। জীবনানন্দের ধানসিড়ি নদীকে আমরা খালে পরিণত করেছি। মধুসূদনের কপোতাক্ষ এখন হারিয়ে যাওয়া নদ। আর মানিক বন্দোপাধ্যায় এর পদ্মায় এখন ইলিশ পাওয়া যায় না। উন্নয়নের জন্য আমাদের শিল্প-কলকারখানার দরকার, আমরা তা বানিয়ে চলেছি। এসবের দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করে দূষণ ও বর্জ্য বহনের দায় আমরা চাপিয়েছি নদীর ওপর। উন্নয়নের জন্য আমাদের জমি লাগবে, তো আমরা নদী ভরাট করছি! আমাদের লাগবে বালু ও মাটি, আমরা নদী থেকে তুলছি! নদীগুলো তাই মরছে, এর পানি হয়ে যাচ্ছে থিকথিকে বিষাক্ত কালো তরল, নদীর নিচে জমছে ময়লা আর পলিথিনের স্তর। মাছ বাঁচার জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেন দরকার, সেই পরিমাণ অক্সিজেন নেই নদীগুলোর পানিতে যার ফলে আজ কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন নদী মাছশুন্য। আজ নদী হারাচ্ছে তার নাব্যতা, জলজ প্রাণী হারাচ্ছে আবাসস্থল, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

উন্নয়ন মানেই কি প্রকৃতির কিছু না কিছু বিনাশ?’ প্রকৃতির বিনাশ না করে কি আমাদের উন্নয়ন সম্ভব নয়, প্রকৃতির বিনাশ না করেই উন্নয়ন করার আহবান জানান বক্তারা।

সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তরুণরা দাবি করেন রাজশাহীসহ সারাদেশের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে দখলমুক্ত করে পুনর্জীবিত করার জন্য কার্যকারী উদ্যোগ নিতে। পদ্মানদীসহ দেশের সকল নদ-নদী ও খাল রক্ষা করা ও দখল-দূষণ, প্লাস্টিক, পলিথিনমুক্ত করতে কার্যকরী প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার জোর দাবিও জানান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীগণ।

গ্রীন ভয়েসের জেলা সমন্বয়ক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে ও সেভ দ্যা ন্যাচারের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ।
এসময় ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল বাশার রজন, কোষাধ্যক্ষ মোসাঃ রিনা আক্তার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান রাসেলসহ নগরীর বিভিন্ন পরিবেশবাদী যুব সংগঠনের তরুণ-যুবারা উপস্থিত ছিলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.