Posted in

জননেতৃত্বে উন্নয়ন এগিয়ে যায় গ্রামের সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে

রাজশাহী থেকে মো.শহিদুল ইসলাম

‘সবকিছু নিয়েই আমারা বেঁচে আছি, কোন কিছুই অপ্রয়োজনীয় নয়। কাকে ছেড়ে কে বাঁচবে; একজন আরেকজনের প্রতি আমরা নির্ভরশীল; তাই সবকিছুকে নিয়েই আমাদের উন্নয়ন হওয়া দরকার’- কথাগুলো বলেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ডাঙ্গা গ্রামের মো. সাদেকুল ইসলাম (৪৫)।

তেঁতুলিয়া ডাঙ্গা গ্রামটি দর্শনপাড়া ইঊনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের এবং পবা উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি উঁচুতে অবস্থিত একটি খরাপ্রবণ গ্রাম। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে এই গ্রামটিতে। গ্রামটির জনগোষ্ঠীর সাথে বারসিক ২০১৬ সাল থেকে সহায়কের ভ‚মিকা পালন করে। একটি গ্রামের সমস্যাগুলো জনগোষ্ঠী নিজ থেকে কিভাবে দেখেন এবং তার সমাধান কিভাবে করতে চান সে বিষয়ে বারসিক প্রথম পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ পদ্ধতিতে জানার চেষ্টা করে। সেই থেকে বারসিক গ্রামটির জনগোষ্ঠীর নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচিতে সহায়কের ভ‚মিকা পালন করছে। স্থানীয়ভাবে গ্রামবাসীরা তাঁদের সমস্যা সম্ভাবনাগুলো যৌথভাবে কাজে লাগাতে বা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সেই সময় একটি জনসংগঠন গড়ে তোলেন। যার নাম তেঁতুলিয়া ডাঙ্গা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন। সেই থেকে গ্রামটিতে এই জনসংগঠনকে কেন্দ্র করে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়ে আসছে, যা তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের মতো করেই করছেন।

গ্রামটিতে খরা হওয়ায় অনেক জমি পড়ে থাকতো। খরা মোকাবেলায় এবং খরা সহনশীল রবিশস্যের জাত নিয়ে বারসিক ২০১৬ সালেই একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সহায়তা করে। সেখান থেকে স্থানীয় কৃষক গম, মশুর, সরিষা, মাষকলাই, তিল ইত্যাদি শস্য ফসলগুলোর ফলাফল ভালো পাওয়ায় তাঁরা সেগুলো নিজেরা আরো বেশি করে চাষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবে গ্রামটিতে পানিসাশ্রয়ী রবি শস্যের চাষের সম্প্রসারণ হতে থাকে। আগে পানির অভাবে অনেক জমি পরিত্যক্ত পড়ে থাকলেও এখন সেই সকল জমিতে পানি ছাড়াই বা কম পানিতে বিভিন্ন রবিশস্যের ফসলে আবাদ হচ্ছে। একই সাথে পরিবেশবান্ধ কৃষির দিকগুলো কৃষকগণ নিজেরা চর্চা করছেন।

গ্রামের কবরস্থানের জায়গাটি এমনিতেই ফাঁকা পড়েছিলো। জনসংগঠন থেকে সেই জায়গাটিতে বনজ, ফলজ এবং ঔষধি গাছের বৃক্ষরোপণ করাতে সেখানে এখন সবুজে ভরে গেছে। গ্রামটিতে প্রচুর বড় বড় গাছ থাকায় গাছে নানা জাতের পাখির বসবাস ছিলো। পাখি শিকারিরা পাখি শিকার করতো। গ্রামটিতে পাখি শিকার এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় নানা কর্মসূচি ও সচতেনতামূলক কাজ করায় সেখানে এখন আর পাখি শিকার কেউ করতে পারেনা। স্থানীয় নির্বাচিত মেম্বার মকবুল হোসেনের মতে, ‘গ্রামটিতে আগের তুলনায় পাখি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাখি বৃদ্ধি হওয়ায় গ্রামের পরিবেশ আরো ভালো হয়েছে।’ কারণ পাখি সকাল বিকাল দিনে গান শোনায় এবং ফসলের পোকা খায়। অন্যদিকে গ্রামটির তরুণরা নানাভাবে নিজেদেরকে নিজস্ব সংস্কৃতি এবং খেলাধুলার চর্চা করেন। ত্রাা দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করেন।

গ্রামের নারীগণ আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে নিজের বাড়ির উঠোনগুলো আগে ফাঁকা পড়েছিলো, এখন সে সকল জায়গায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে শাকসবজির চাষ করেন। ধোয়াবিহীন উন্নত চুলার ব্যবহার বেড়েছে। গ্রামটির এ পর্যন্ত ২০টি পরিবারে উন্নত চুলার দিয়ে রান্নার কাজ করেন। এর ফলে একদিকে যেমন নিজের স্বাস্থ্য ভালো থাকছে, অন্যদিকে জ¦ালানি খরচ কম এবং বৈশ্বিক কার্বন কমাতে অবদান রাখছে।

শুধু বাহ্যিক উন্নয়ন নয়, সমাজের মিলে মিশে থাকতে হলে প্রয়োজন মানসিক উন্নয়ন। নবনণ প্রবীণদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়গুলো আগের তুলনায় আরো সুদৃঢ হয়েছে। তরুণদের মধ্যে মননশীলতা বেড়েছে। প্রতিবছর নবীন তরুণরা এখানে খেলাধুলার আয়োজন করেন, করেন নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা। এছাড়া মহামারি করোনাকালে সংগঠনটি গ্রামে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা এবং নিজেদের মধ্যে নানা সহায়তাগুলো করেছেন। –

নিজেদের অধিকার নিয়ে আগের তুলনায় আরো বেশি সচেতন। গ্রামের সমস্যাগুলো যৌথভাবে সমাধান করে থাকেন। একই সাথে সরকারি সেবা পরিসেবাগুলো পেতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেন।

এভাবে গ্রামটিতে নানা ধরনের উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু কোন একক বিষয় নয়, সবকিছুকে নিয়েই গ্রামটির জনসংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.