Posted in

বৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

বিজ্ঞানের নানাবিধ আবিস্কারের মধ্যে এক বিস্ময়কর আবিস্কার হলো টিকা বা vaccine টিকা প্রাণীর শরীরের প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে একসাথে কাজ করে অনেক ভয়ংঙ্কর ও জীবনঘাতী রোগ-সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদেরকে সহায়তা করে। সহজ কথায় ভ্যাকসিন বা টিকা হল মারাত্মক কিছু নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প (1)

সবাই জানি যে, “Prevention is better than cure” অর্থাৎ রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা। আর যে কারণেই ভ্যাকসিনেশন বিষয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপবেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামে এক টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় চকবারা জেলে বাওয়ালী কৃষক শ্রমিক ঐক্য সংগঠনের আয়োজনে এবং শ্যামনগর উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কেন্দ্র ও গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বাসিক’র সহযোগিতায় কৃষক মফিজুল ইসলামের উঠানে উক্ত টিকাদান কর্মসুচি থেকে সেবা গ্রহণ করেন ৭০টি পরিবারের ৪০টি ছাগল, ৫০টি হাঁস, ৬০টি বড় মুরগি এবং ৪০টি মুরগির বাচ্চা।

বৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প (2)

শ্যামনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে ফ্রিজিং করে ছাগলের জন্য পিপিআর, হাঁসের জন্য প্লেগ, বড় মুরগির জন্য আরডি এবং মুরগির বাচ্চার জন্য ভিসিআরডিবি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। এর পরদিন সকালে এলাকার সকলের প্রাণী সম্পদকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিন বিকালে গ্রামের সকলেই নিজেদের বাড়ির হাঁস, মুরগি ও ছাগল নিয়ে হাজির হয়। ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ পূর্বে শ্যামনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে গ্রামের তিনজন সিদ্দিকুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, এবং হালিমা খাতুন ভ্যাকসিন প্রদান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উক্ত তিন জন সকল প্রাণী সম্পদের ভ্যাকসিন প্রদান করেন।

বৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প (3)

ভ্যাকসিন ক্যাম্প সম্পর্কে গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকায় বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে হাঁস, মুরগি ও ছাগল রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রোগবালাইয়ের কবলে এসকল প্রাণী সম্পদ মারা যায়। এলাকার প্রাণী সম্পদকে সুরক্ষা এবং মানুষকে ভ্যাকসিন সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমরা এই ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প আয়োজন করেছি।”

ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন স্থানীয়রা ভ্যাকসিন বিষয় সম্পর্কে সচেতন হয়েছে অপরদিকে মরণঘাতি রোগ ব্যাধির হাত থেকে প্রাণীসম্পদ সুরক্ষা এবং প্রাণবৈচিত্র্যের বিস্তার ঘটবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.