Posted in

স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল ও আল ইমরান

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণ এবং কৃষিখাত এখনও পর্যন্ত কর্ম কার্বন ব্যবহার করে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে এদেশের গ্রামীণ জীবনযাত্রা কোন ভূমিকা না রাখলেও দেশের গ্রামীণ জনপদই ধনী দেশের ভোগ বিলাসিতার শিকার। অথচ প্রতিটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে আবার পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে অভিযোজন করার জ্ঞান-অভিজ্ঞতা এদেশের গ্রামীণ জনগণ এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর জীবনযাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। আর স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় বাংলা গ্রামীণ জনগণ অবিরাম তাদের কর্মে মাধ্যমে লড়াই সংগ্রাম করে চলেছে। বাংলাদেশের গাঙ্গীয় প্লাবণ সমভূমি কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলের গ্রামীণ জনগণও সেদিক থেকে পিছিয়ে নেই। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা ব্যক্তি ও সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

PIC-2

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যরা পাশ্ববর্তী কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে মোট ২৯ জন নারীকে পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। ধুমঘাট শাপলা নারী সংগঠনের সভানেত্রী অল্পনা রানী মিস্ত্রি ও জয়নগর গ্রামের কৃষাণী সোভা রানী মন্ডল হাতে-কলমে পরিবেশবান্ধব উন্নত চুলা তৈরির প্রশিক্ষন দেন।

PIC-3

প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষকদ্বয় বলেন, “এই চুলার রান্না করলে পরিবেশ দূষণ হবে না, জ্বালানি সাশ্রয় হবে, খরচ কম হবে, সময় কম লাগবে, নারী স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং সব রকমের জ্বালানি দিয়ে রান্না করা যাবে।” অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী অর্চনা রানী মন্ডল বলেন, “আমাদের গ্রামের কয়েকজন নারীর বাড়িতে পাকা চুলা আছে কিন্তু তাতে শুধুমাত্র কাঠ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে রান্না করা যায় না এবং জ্বলেও কম। তাই আমরা অন্য চুলা বা পদ্ধতি খোঁজ করছিলাম এ প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা সব নারীরা এখন নিজেদের বাড়িতে এ চুলা তৈরি করতে পারবো এবং অন্যদের শিখাতে পারবো।”

PIC-4

প্রশিক্ষক অল্পনা রানী বলেন, “আমি এ চুলা আমার মায়ের কাছ থেকে শিখেছি এবং আমাদের গ্রামের অনেকের তা শিখিয়েছি। এছাড়াও আমি বারসিকের সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে এ চুলা তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি। আমার এই জ্ঞান-দক্ষতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সাথে সাথে তাদেরকেও আমাদের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছি।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.