Posted in

বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাণবৈচিত্র্য মেলা

Exif_JPEG_420

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মো. মুকতার হোসেন

হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রামচরে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগে চরের বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাণবৈচিত্র্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মেলায় অংশগ্রহণ করেন, এলাকার কৃষক-কৃষাণী, তরুণ, শিক্ষার্থী, যুবক, কিশোরী, হরিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের ফিল্ড ফ্যাসিলেটর ও বারসিক কর্র্মকর্তাসহ ৬০ জন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ। চরাঞ্চলে সকল প্রজাতিকে টিকে রাখতে এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।

উক্ত মেলায় অভিজ্ঞ কৃষক ও নারীরা ৭টি স্টল প্রদান করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফসলবৈচিত্র্য বৃদ্ধির জন্য মসলা, ধান, ডাল জাতীয় ফসলের বীজের স্টল, কুড়িয়ে পাওয়া শাকের স্টল, ভেষজ উপায়ে চিকিৎসা বিভিন্ন গাছ-গাছড়ার স্টল, চরের প্রাকৃতিক উদ্ভিদের হোগলা পাতার পাটি ও হোগলা ফুলের বালিশের স্টল, জৈব উপায়ে বসতবাড়িতে উৎপাদিত শাকসবজির স্টল।

Exif_JPEG_420

মেলায় দর্শনার্থীরা পরস্পরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করেন। তারা আলোচনা করেন কিভাবে বৈচিত্র্য ও প্রাণবৈচিত্র্যর সমাহার আরোও বাড়ানো যায়, কোন ধরনের প্রাকৃতিক উদ্ভিদ চর এলাকা থেকে হারিয়ে গেছে অথবা কমে গেছে এবং কিভাবে সেগুলো সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া তাঁরা চর এলাকার এসব উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্যের উপকারিতা, ব্যবহার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেন। এই প্রসঙ্গে পাটগ্রাম চরের কৃষক আহম্মেদ আলী (৫৫) বলেন, “এই মেলার মধ্য দিয়ে আমরা চরের যে সব উপকরণ ব্যবহার করি, আমাদের সংসার জীবনে কাজে লাগে, বেঁচে থাকতে সহায়তা করে তা দেখতে পেলাম।” কৃষাণী আরজিনা বেগম বলেন, “চকে এখন সার, বিষ বেশি দেওয়ার কারণে অনেক শাক মারা গেছে। এখন আর পাওয়া যায় না। চাষ করা শাকের চেয়ে খোটা (কুড়িয়ে পাওয়া) শাক খেতে মজা বেশি। এই মেলার মধ্য দিয়ে আমরা এলাকায় কি কি ফসলের বীজ, শাক সবজি, ওষুধি গাছ হারিয়ে গেছে তা জানতে পারলাম।”

কৃষি অফিসের মাঠ সহকারী শহীদ বিশ্বাস বলেন, “স্থানীয় কৃষকদের প্রাণবৈচিত্র্য মেলায় স্টলগুলো পরিদর্শন করে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রজাতি, উদ্ভিদ রক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, যা এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য বিস্তার ও সংরক্ষণে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। জৈব কৃষি চর্চা, কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য উদ্ভিদ এর ব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হয় এবং কৃষাণীদের মধ্যে বীজবৈচিত্র্য বিনিময়ের মাধ্যমে প্রাণবৈচিত্র্য বিস্তার ঘটবে।”

মেরায় বিশেষ আর্কষণ দিক ছিল চরের হোগলা পাতার বালিশ ও হোগরা পাতার পাটি। এই বিষয়ে কৃষাণী শুকুরী বেগম বলেন, “নদী ভাঙন ও বন্যার কারণে এখন চরে হোগলা কমে গেছে। তাছাড়া প্লাস্টিক সামগ্রী বাজারে নামার কারণে প্রাকৃতিক উদ্ভিদের ব্যবহার দিনদিন কমে যাচ্ছে। মানুষ বাজার নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।”

বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে প্রাণবৈচিত্র্য মেলায় কৃষকরা এই প্রত্যাশা করেন যে, এই ধরনের মেলা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এলাকার বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, যা চরাঞ্চলের মানুষ বসবাস ও টিকে থাকার জন্য জীবন জীবিকায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.