Posted in

চরের অচাষকৃত উদ্ভিদ গবাদি প্রাণীর খাদ্য

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন

বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে মাঠে ঘাটে পানিতে তলিয়ে যায়। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা যায়। সেই খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখে চরের অচাষকৃত উদ্ভিদ। প্রতিদিন সকালে বাড়ির কাজকর্ম শেষ করে চরাঞ্চলের কৃষাণ –কৃষাণীরা গরু, ছাগল ও মহিষে খাদ্য সংগ্রহে বের হন। এলাকার কৃষক কৃষাণীরা ডিঙ্গি নৌকা, কলার ভেলা নিয়ে মাঠে নারী-পুরুষ মিলে গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহের কাজে বের হন। আবার অনেকে ঘাঘ কেটে মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে, ডোবা, খালের কিনারে, মাইটালে, প্রাকৃতিক জলাশয়ে থেকে এ সকল অচাষকৃত উদ্ভিদ বেশি পাওয়া যায়।


এসব অচাষকৃত খাদ্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে জল দুর্বা, দুর্বাঘাস, কাটা হেনসি, কাশবন, ছোন, কাইশ্যা, নলখাগড়া ঘাস, গোইচা, হেনসি, বাদলা, হামা, ছোট কলমী ও কস্তরী এ সকল কাচা ঘাস গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও পায়রার ভুষি, গমের ভুষি, মাস কালাইয়ের ভুষি, খেসারী কালাইয়ের ভুষি, চালের খুদ, ধানের কুড়া, খড়, ভুট্টার পাতাসহ গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ সকল খাবার কৃষকদের কিনতে হয় না। বাড়ির উৎপাদিত ফসল ও মাঠ থেকে সংগ্রহ করেন তারা। হরিরামপুর চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের গরু ছাগল, ভেড়া, মহিষ, ঘোড়া ছাড়া পদ্ধতিতে পালন করে থাকেন।

হরিরামপুর চরাঞ্চলসহ প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে ৩টি থেকে শুরু করে ৩০টি পর্যন্ত গরু ছাগল, ভেড়া রয়েছে। হরিরামপুর পাটগ্রামচর, নটাখোলা, হালুয়াঘাটা, আন্ধারমানিক, কর্মকারকান্দি, বাহিরচরসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে তুলেছে কৃষকরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গরু ছাগলের খামার। বসতবাড়িতে গবাদি পশুর পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বেশি ভূমিকা পালন করেন। নারীরা গরুর খাদ্য সংগ্রহ, ঘরে তোলা বের করা, সাতরানো, চকে (মাঠে) নিয়ে যাওয়া আনা এ সকল কাজগুলো বেশি করে থাকেন। আর পুরুষরা গরু ছাগল হাটে বাজারে নিয়ে যাওয়া বেচা কেনা করা, রাতে পাহারা দেওয়া, চিকিৎসা করা এ ধরনের কাজগুলো বেশি করেন।


এই প্রসঙ্গে হরিরামপুর বাহিরচর গ্রামের কৃষক সহিদ বিশ^াস বলেন, ‘আমরা বাড়িতে গরু বাছুর পালনে কেনা খাবার খাওয়াতে হয় না। ফলে আমাদের খরচ কম হয় এবং লাভ বেশি হয়।’ হরিহরিদিয়া গ্রামের কৃষাণী বিথী বেগম বলেন, ‘আগামো চরে আগে ঘাসের অভাব ছিল না, ্এহন ঘাস কমা যাইতেছে। তার কারণ মানুষ দিন দিন পতিত জমিন গুনা আবাদ করতাছে। আর ঘাস মারা বিষ দেয় দিয়া অনেক ঘাস মাইরা ফেলে সেগুনা গজাতে চায় না। তাছাড়াও প্রতিবছর নদী ভাঙনের ফলে অনেক জমা নদীতে চলে গেছে।’


এলাকাবাসীরা মনে করেন হরিরামপুর চরাঞ্চলসহ সকল এলাকায় প্রাণী সম্পদ পালন একটি লাভজনক পেশা ও সম্ভবনাময় ক্ষেত্র। রাসায়নিক ঘাস মারা বিষ দিয়ে অচাষকৃত উদ্ভিদ মারা বন্ধ করতে সবার উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে টিকে থাকবে কৃষকদের প্রাণী সম্পদ। প্রান্তিক কৃষকরা সচল করতে পারবেন তাদের অর্থনৈতিক চাকাকে। ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন খামারীরা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.