সাম্প্রতিক পোস্ট

বরেন্দ্র তরুণদের উপকূল জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন

এবিএম তৌহিদুল আলম

বাংলাদেশের ৩০টি কৃষিপরিবেশ অঞ্চলই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী গাঙ্গেয় জোয়ার প্লাবণভূমি কৃষিপরিবেশে বসবাসকারী প্রান্তিক পেশাজীবী মানুষের জীবনযাপন, সুন্দরবন, সমুদ্রের সাথে জীবনের নিবিড় সম্পর্ক ও সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করার জন্য খরাপ্রবণ উচ্চ বরেন্দ্র এলাকার ১০ তরুণ এবং উন্নয়নকর্মী বিগত ১৫-১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পর্যবেক্ষণ করেন।

DSC01409

একই কারণ, ভোগান্তি বহুমাত্রিক…
পানি প্রতিটি জীবনের জন্য অপরিহার্য। অভিজ্ঞতা অর্জনের এই সফরের প্রথম দিনেই বরেন্দ্র এলাকার তরুণরা শ্যামনগরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে উপলব্ধি করেন বরেন্দ্র ও উপকূল সব জায়গাতেই সুপেয় পানির অভাব অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা। উপকূলীয় এলাকায় পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ এত বেশি যে, এই পানি পান ও কৃষিকাজের অনুপযোগী। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান সমস্যাও পানি। বরেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় মাটির নিচ থেকে পানি তুলে চাষাবাদের কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন, কৃষি ও পরিবেশের উপর। উপকূল এখানকার সংগ্রামী মানুষ প্রতিনিয়ত বিরুদ্ধ পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকে। এই সব পেশাজীবী সংগ্রামী মানুষের প্রকৃতিনির্ভর জীবন-জীবিকার উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংগঠিত হতে উন্নয়ন সংগঠন বারসিক ২০০১ সাল থেকে কাজ করছে। একই সাথে উপকূলের সচেতন তরুণরা ও সংগঠিত হয়েছেন বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যু, শিক্ষা-সংস্কৃতি, দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা তৈরিতে। এখানকার অনেক উদ্যোগী মানুষ নানামূখী উন্নয়ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসাবে জাতীয় পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন।

DSC01309

গাছের পাঠশালায় অচেনা গাছ চিনে নেওয়া…
বরেন্দ্র এলাকার তরুণরা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি ছয় শতাধিক গাছের একটি সংগ্রহশালা পর্যবেক্ষণ করেন। এটি সংগ্রাহক মো. ইয়ারবের নামে ইয়ারবের গাছের পাঠশালা হিসাবে পরিচিত। বৃক্ষপ্রেমী ইয়ারব তরুণদের জানান, ২০১৬ সাল থেকে তিনি গাছ সংগ্রহ করছেন। তার গাছের পাঠশালায় ১৬৭ ধরনের ঔষধি গাছ, ১০০ ধরনের ফলজ গাছ, ৪৭ ধরনের আম জাত, ২০ ধরনের কলাগাছ, ৫২ ধরনের তরকারী ও অচাষকৃত সবজি, ৩৭ ধরনের মসলা, ৬২ ধরনের শোভাবর্ধনকারী ফুলের গাছ, ৬১ ধরনের বনজ গাছ ও ৯ ধরনের সুন্দরবনের গাছ রয়েছে। এই সংগ্রহশালায় বিলুপ্তপ্রায় গাছও রয়েছে। গাছের পরিচর্যায় তিনি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে। ইয়ারব নতুন প্রজন্মকে গাছের সাথে পরিচিত এবং গাছের প্রতি ভালোবাসা তৈরির জন্যই এটি করেছেন বলে বরেন্দ্র তরুণদের জানান। শুধু তাই নয়, গাছের পাঠশালা সংলগ্ন স্থানে তিনি গড়ে তুলেছেন বীজব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল। সেখানে রয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষিউপকরণ, ধানবীজ, বৈচিত্র্যময় মাটি, বিভিন্ন নদীর পানি, ফসলের উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার সাথে পরিচয় করানোর জন্য নমুনা। আগ্রহীদের চারা সহভাগিতা করার জন্য সম্প্রতি তিনি একটি নার্সারি তৈরি করেছেন যেখান থেকে স্বল্পমূল্যে গাছ কেনার ও সুযোগ রয়েছে। তিনি এসব কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পদকে ভূষিত হন।

DSC01266

সুন্দর বনের সৌন্দর্যের সন্ধানে…
বরেন্দ্র তরুণরা অভিজ্ঞতা অর্জন সফরের দ্বিতীয় দিনে সুন্দরবন দেখতে কলাগাছিতে যান। সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কাকড়া, কেওড়াসহ বনের বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণি প্রথমবারের মতো দেখে তারা অভিভূত হন। নৌকায় করে বনের ভিতরের আঁকাবাঁকা খাল পথে চলতে চলতে তরুণরা রোমাঞ্চিত হন আর উপভোগ করেন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের অপরূপ সৌন্দর্য। এ সময় তাদের সহযাত্রী ও পরামর্শক হিসাবে ছিলেন স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম যিনি তার কাজের স্বীকৃতি হিসাবে চ্যানেল আই এর কৃষি পদক পেয়েছেন। তিনি তরুণদের সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান।

DSC01517

সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সাথে আলাপন…
বারসিক-শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টারে বরেন্দ্র তরুণরা সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের কার্যক্রম জানার জন্য তাদের সাথে মিলিত হন। সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সদস্যরা সংগঠন তৈরির উদ্দেশ্য ও তাদের ১২টি ইউনিটের কার্যক্রমের কথা জানান। তারা একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম সমন্বয় করা হয় বলে বরেন্দ্র তরুণদের জানান। সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব কার্যক্রম ইতোপূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে সে সম্পর্কে বরেন্দ্র তরুণদের অবহিত করেন। সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সদস্যরা বলেন, আইলা পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৬/৭ জন তরুণ এই সংগঠন আরম্ভ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সহায়তা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সবকটিতে একটি করে ইউনিট রয়েছে। রাস্তা বনায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, জলবায়ু যুব ক্যাম্প, মেডিকেল ক্যাম্প, যানজট নিরসনে সপ্তাহব্যাপী ক্যাম্পেইন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে সহায়তা, উপজেলায় পাখির অভয়াশ্রম, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা, শিক্ষা উপকরণ সহায়তা, সরকারি পরিসেবায় প্রবেশাধিকার, বাল্যবিবাহ ইভটিজিং বন্ধে ক্যাম্পেইন, জলাবদ্ধতা দুরীকরণে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সংগঠনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসাবে তারা জানান, সরকারি সুযোগ সুবিধায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির প্রবেশাধিকার নিয়ে তারা আরও কাজ করবেন। যদিও শুরু থেকেই বারসিক দিক নির্দেশনামুলক সহায়তা করছে। কিন্তু বারসিক’র অবর্তমানে সংগঠনের সদস্যরা চাঁদার মাধ্যমে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলাপনে বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের তরুণরা জানান, তাদের সংগঠনের যাত্রা শুরু ডিসেম্বর ২০১৬ সালে। বরেন্দ্র তরুণরা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ৬৭টি কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছি। বারসিক এক্ষেত্রে সহায়কের ভূমিকায় ছিল। বারসিক’র অবর্তমানে আমাদের সংগঠনটি বরেন্দ্র বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য বিপণন ও রিসাইকেল পেপার থেকে পণ্য তৈরির কাজের মাধ্যমে যে মুনাফা হবে তার একটি অংশ সংগঠনের কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তরুণরা জানান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সাথে একত্রে কাজ করার ফলে যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে তাতে আমরা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করলে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে তারা মনে করেন।

সবুজ ক্যাপাসে বরেন্দ্র তরুণ…
অভিজ্ঞতা বিনিময়ে তৃতীয় দিনে বরেন্দ্র তরুণরা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবুজ ক্যাম্পাস খ্যাত নওয়াবেকী কলেজে যান। কলেজ অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী মেহেদী জানান, এই ক্যাম্পাসের সবুজায়নে সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম ও বন বিভাগের যৌথ ভূমিকা রেখেছেন। এই কলেজ চত্বরে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছে সলিডারিটি টিমের সদস্যরা। কলেজ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য একটি কনক্রিটের বিন স্থাপন করা হয়েছে। অধ্যক্ষ সবুজের মধ্যে থাকতে পেরে শিক্ষার্থীসহ সবাই খুশি বলে জানান। তিনি এই কার্যক্রমের জন্য সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সদস্য ও বনবিভাগের প্রশংসা করেন।

DSC01535

নারী সংগঠনের উৎপাদিত পণ্য বাদাবন সম্ভার…
সুন্দরবন সংলগ্ন একটি গ্রাম দাঁতিনাখালী। এই গ্রামের একটি নারী সংগঠন সুন্দরবনের নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি করছে “বাদাবন সম্ভার”। সুন্দরবন স্থানীয় ভাবে বাদাবন নামে পরিচিত। দাঁতিনাখালী গ্রামের নারীরা মেলে (বেতের মতো এক ধরনের উদ্ভিদ) থেকে তৈরি করেন সুদৃশ্য পাটি, মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের উপজাত মোম দিয়ে মোমবাতিসহ নানা উপকরণ, কেওড়া, তেঁতুল, কুল ও জলপাইয়ের আচার, পুঁতি-পাইপের ব্যাগ, উলের শোপিচ প্রভৃতি। এই সংগঠনের কয়েকজন মেয়ে দর্জির কাজও করে থাকেন। তাদের প্যাকেটজাত মধু ও আচার শ্যামনগর, সাতক্ষীরাসহ ঢাকার বাজারেও বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি “বাদাবন সম্ভার” চাহিদা সাপেক্ষে পণ্যের সরবরাহও করে থাকে। নারীরা জানান, তারা নানা সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবেশীর অসুখে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, জরুরি রক্তের প্রয়োজনে সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম ও বারসিক’র সহায়তায় রক্ত দানের ব্যবস্থা করেন। বসতবাড়িতে নারীরা দেশীর ফল ও সবজির চাষ করেন। এছাড়া জাতীয় দিবসে খেলাধুলারও আয়োজন করে এই নারী সংগঠন। নারী সংগঠনের সদস্য সাজিদা বেগম ২০১২ সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। বরেন্দ্র তরুণরা এলাকার কৃষক সংগঠন ও সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে বিলআটি গ্রামের রাস্তায় এক কিলোমিটারব্যাপী ৫০০ নারিকেল বনায়ন দেখেন যা রক্ষণাবেক্ষণ করেন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সদস্যরা।

DSC01468

আইলা’র পর বুড়িগোয়ালিনী আশ্রায়নে নতুন জীবনের আবাহন…
২০১১ সালের ১০ মে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভিটেবাড়ি হারিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ব্যারাকে বসবাসকারী কৃষক তপন কুমার মন্ডল বরেন্দ্র তরুণদের জানান, ব্যারাকের ১০টি ইউনিটে ১০০টি পরিবার বসবাস করছেন। প্রতিটি ইউনিটের পাশে কিছু ফাঁকা জায়গা আছে কিন্তু মাটি লোনা হওয়ায় এখানে কোন ফসলই চাষাবাদ করা সম্ভব ছিলো না। বারসিক অভিজ্ঞ কৃষকদের এখানে নিয়ে এসে আমাদের পরামর্শ ও বীজ সহায়তা দেয়। তাদের এই আশ্রায়নটি নদীর খুব কাছাকাছি। তাই ঝড় থেকে রক্ষা পেতে তারা নদীর তীরে গাছ লাগান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরের পাশে ফাঁকা জায়গায় এখন সারাবছর শাকসবজি আবাদ করতে পারছি। সারাবছরই সবুজে পরিপূর্ণ থাকে। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে এখন ইউনিয়ন পরিষদে যাই, ছেলে মেয়েরা স্কুলেও যায়। আমরা চেয়ারম্যানকে ব্যারাকের বাড়িগুলো সংস্কারের জন্য জানিয়েছি।’ বরেন্দ্র তরুণরা ধুমঘাট গ্রামের অল্পনা রানী মিস্ত্রীর বাড়িতে ৩৫ ধরনের ফলজ ও বনজ বৃক্ষ, ৪০ ধরনের ঔষধি গাছ, ১৬ ধরনের অচাষকৃত সবজি, ৩৫ জাতের স্থানীয় প্রজাতির সবজি, ১০ ধরনের মসলা জাতীয় সবজি, ৩২ ধরনের শুকনা খাবার এবং পুকুরে ২০ ধরনের স্থানীয় জাতের মাছ দেখেন। অল্পনার বাড়ি যেন একটি “শস্য মিউজিয়াম”। তিনি এখন প্রশিক্ষক হিসেবে সরকারি কর্মসূচিতে কাজ করেন। অল্পনা তার কাজের স্বীকৃতি হিসাবে জাতীয় পদক পেয়েছেন।


DSC01358

পিএসএফ: উপকূলের সুপেয় পানির আধার…
বরেন্দ্র তরুণরা পদ্মপুকুর গ্রামে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার বা পুকুরের জমাকৃত বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে খাবার উপযোগী করার কৌশল দেখেন। বরেন্দ্র তরুণদের কাছে সুন্দরবন সলিডারিটি টিমের সদস্যরা কৌশলটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘পুকুরের অভ্যন্তরে সংযুক্ত পাইপ লাইন থেকে টিউবওয়েলের চাপের মাধমে বৃষ্টির পানি হাউজে এসে পড়ে। এরপর বালুকণা ও পাথরের স্তর পার হয়ে স্বচ্ছ পানি মুল ট্যাংকে আসে তখন এটি খাবার উপযোগী হয়। পদ্মপুকুর এলাকায় খাবার পানি লবণাক্ত বলে এই গ্রামে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়টি বরেন্দ্র তরুণদের আকৃষ্ট করে। দিনের শেষে সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সদস্যদের উপকূলীয় বনায়নের জন্য কেওড়া গাছের নার্সারি দেখেন।

তিন দিনব্যাপী এই অভিজ্ঞতা সফরের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকার তরুণরা বাংলাদেশের ভিন্ন একটি কৃষিপরিবেশ এলাকার মানুষের জীবনযাপন, প্রকৃতিকেন্দ্রিক পেশা, স্থানীয় তরুণদের নানাবিধ কার্যক্রম দেখে বরেন্দ্র তরুণরা এলাকার আগ্রহী স্কুল-কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে সবুজ ক্যাম্পাস ও প্রতিষ্ঠান সবুজায়নের ইচ্ছা পোষণ করেন। এছাড়া বৃক্ষ প্রেমিক বরেন্দ্র এলাকার আগ্রহী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা, বৃষ্টির পানি ও পুকুরের পানি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি, বরেন্দ্র এলাকার প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সহজলভ্য উপকরণ থেকে পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করা, সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও বরেন্দ্র এলাকার ইস্যুভিত্তিক ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: