Posted in

জেলা ও উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেলেন ময়না রাণী

:: সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

Untitledপরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি, অন্যদের প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণে অবদানের জন্য উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেলেন শ্যামনগরের ময়না রাণী। গত ৯ ডিসেম্বর শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মনজুর আলমের হাত থেকে এই পুরুষ্কার গ্রহণ করেন। একইভাবে গত ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা পর্যায়ের জয়িতা পুরুষ্কার গ্রহণ করেন। ময়না রাণীর হাতে জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ মিসেস রিফাত আমীন।  জেলা ও উপজেলা্ পর্যায়ে জয়িতা প্রদান অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান শাহানা হামিদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান, নকসি কাথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ও পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কোন ধরনের প্রকল্প ছাড়াই পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার তালবাড়ীয়া গ্রামের গৃহিনী ময়না রাণী (৫৫)। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ ও নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইত্যাদি তাত্ত্বিক বিষয়ে কোন চিন্তা ভাবনা বা জ্ঞান থেকে নয়, জ্বালানি সংকট নিরসণের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে গৃিহনী ময়না রাণী তার লোকায়ত জ্ঞান-দক্ষতা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরির গবেষণা। ময়না রাণী জ্বালানি স্বাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব চুলা বিগত ১৫ বছর যাবৎ উপকূলীয় শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, দেবহাটা, সাতক্ষীরা সদর ও বিভাগীয় খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার শতাধিক গ্রামের প্রায় ৬ হাজার পরিবার ও প্রায় অর্ধশতাধিক হোটেলে পরিবেশবান্ধব এ চুলা তৈরি করেছেন। এছাড়া এ অঞ্চলের অসংখ্য নারীকে হাতে কলমে বন্ধুচূলা তৈরি ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরিতে স্থানীয় এলাকার সরকারি/বেসরকারি সংস্থার সফল একজন প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ময়না রাণীর পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও গত ১৮ মে ২০১৫ তারিখে সোমবার সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে একুশে টেলিভিশনে দেশ ও জনপদের খবরে ময়না রাণীর পরিবেশবান্ধব চুলা কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি, ব্যবহার, অন্যদের প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি জয়িতা ছাড়াও এর আগে তিনি অনেক পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি যেসব পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো: পরিবেশ পদক-২০১৫ এর স্মারক সম্মাননা, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক সনদপত্র, ২০১৩ সালের লোকবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রদত্ত ক্রেস্ট ও সনদপত্র, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক সনদপত্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক কর্তৃক সনদপত্র, সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম কর্তৃক জলবায়ু যুব সমাবেশ-২০১৪ এর বিশেষ সম্মাননাপত্র, ধুমঘাট শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠন কর্তৃক সম্মাননা সনদপত্র, উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কেন্দ্র কর্তৃক পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখায় পরিবেশ সম্মাননা সনদপত্র, স্থানীয় আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কর্র্র্র্তৃক সনদপত্র, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব কর্তৃক সনদপত্র, সুশীলন কর্তৃক সনদপত্র, নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ.) কর্তৃক সম্মাননা সনদপত্র অর্জন করেছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.