Posted in

আলুর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে মানিকগঞ্জের কৃষকের মুখে

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ॥

ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার সর্বত্রই আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দর পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিগত বছরগুলোতে এখানকার উৎপাদিত আলু অনেকটা ক্রেতাশূন্য ছিল পাইকারি বাজার। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ক্রেতা ভিড় করছেন ক্ষেত থেকে আলু কেনার জন্য। এ ছাড়াও ক্ষেত থেকে উত্তোলন করার পর কৃষকরা বিভিন্ন পাইকারি আড়তে বিক্রি করছেন বেশ ভালো দামেই।

বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে নতুন আলু বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর,সাটুরিয়া হাজার হাজার কৃষক আলু চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

Ghior, Manikganj pic

আলু চাষের সাথে জড়িত হাজার হাজার কৃষক রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। মানিকগঞ্জের ঘিওর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া হাটেও বাজারে প্রচুর আলু কেনা বেচা হয়। এসব হাট বাজার থেকে আলু ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হয়। ৭টি উপজেলায় আলু চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগি। পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এ বছর আলু আবাদ ভালো হয়েছে। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আলু আবাদে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত খরচ বৃদ্ধি সেই সাথে উৎপাদিত আলু বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় সাধারন কৃষক আলুর আবাদ কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ২ বছর যাবৎ আলুর দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের আলু চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের গ্রামের কৃষক মুন্নাফ মোল্লা জানান, তিনি এ বছর ৬বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় সারে ৪শ’ মণ। বিক্রয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিন মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা আলু বিক্রয় করে আয় করেন। তবে ডায়মন্ড আলুর আবাদ ও ফলন তুলনামূলক বেশি হয়।
গোয়ালডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আমিন উদ্দিন জানান, তিনি ৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। আলু বিক্রি করেছেন ৪ লাখ টাকার মতো। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ৬-৭ টাকা। এর সঙ্গে জমি থেকে আলু উত্তোলন, বাজারজাতকরণে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়ছে ৮-১০ টাকা। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬-২০ টাকা কেজি দরে। ঘিওরসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার উৎপাদিত আলু মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পাইকারি আড়ত, রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও আশুলিয়ার বাইপাইল আড়তে পাইকারি বিক্রি হয়।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়তদার মো. আলী হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহে এ আড়তে আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৬ টাকা দরে। প্রতিদিন এ আড়ত থেকে কমপক্ষে ৪-৫ টন আলু চলে যায় রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার ও বাইপাইল পাইকারি আড়তে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এলগা, মুলটা,কার্ডিনাল, মালতা, গ্যানোলা ও প্যোট্রোনাছ, বিনেলা জাতের আলু রোপন করা হয়। মাটিতে জো আসার সাথে সাথে আলু বীজ রোপন করা হয়। অল্প দিনেই চারাগাছ জালিয়ে যায়। নিরানী দিয়ে আগাছা দমন, সার , কীটনাশক দিতে হয়। অগ্রহায়ন,পৌষ ও মাঘ এই তিন মাস আলু চাষের সব চেয়ে ভাল সময় বলে তিনি জানান। তবে অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় শীতকালীন সবজি চাষে অধিকাংশ কৃষক এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলাতে প্রায় ৪ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর আলুর আবাদ ভালো হয়েছ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.