সাম্প্রতিক পোস্ট

মুখে হাসি হাতে কাজ

হরিরামপুর থেকে মুকতার হোসেন ও সত্যরঞ্জন সাহা
মহামারী করোনা আর বন্যায় থামাতে পারেনি হরিরামপুরের কালই মণিঋষি পাড়ার কর্মজীবী নারীদের। তাঁরা সংসারের প্রয়োজনে মুখে হাসি আর হাতে বাঁশবেতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


শেফালি রানী জনানা, বাঁশ-বেতের কাজ তাদের পরিবারের পূর্ব পেশা। এই কারণে তাঁরা এই কাজকে অনেক সম্মানের সাথে করে থাকেন। শেফালীর মত প্রতিটি মণিঋষি পরিবারেই নারীরা বাঁশ-বেতের কাজ করে সংসারে খরচ যোগাতে সহায়তা করেন।

মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদার সাথে মিল রেখে তাঁরা নতুন নতুন ডিজাইন করে তৈরি করেন। তাঁদের হাতের তৈরি শিশুদের খেলনা, ঘরের ওয়ালমেট, মাদুর, কুলা, চালুনী, বাজার করা জুড়ি, ঢালি, জাঁকাসহ বিভিন্ন উপকরণ বাজারে পাওয়া যায়। প্লাস্টিক পণ্য বাজার ছেয়ে গেলেও পরিবেশবান্ধব বাঁশ বেতের জিনিসের প্রতি মানুষের চাহিদা এখনও রয়েছে ব্যাপক। হাট, বাজার, মেলা ও বাণিজ্য এ সকল উপকরণ বিক্রি করা হয়।


এই প্রসঙ্গে কালই মণিঋষি পাড়া গ্রামের নিত্যমনি সরকার বলেন, ‘পরিবারে নারী পুরুষ সবাই মিলে বাঁশ-বেতের কাজ করি। নারীরা বাড়িতে জিনিসপত্র তৈরিতে সহায়তা করেন, আর পুরুষরা বাঁশ কেনা, বাঁশ কেটে আনা, আবার বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়ার কাজগুলো করে থাকেন। নারী ও পুরুষ উভয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সফলতা বলা চলে।’

মণিঋষি শেফালী রানী (২৬) বলেন, ‘বিয়ের পর স্বামীর সংসারে উন্নয়নের জন্য আমি পরিবারের রান্না, ছেলে মেয়ের খাওয়া দাওয়া সেরে বাঁশ বেতের কাজ করি। বাঁশ বেতের কাজ করতে অভিজ্ঞতা হওয়ায় কাজের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। এতে করে গ্রাহকদের মন জুড়িয়ে যায়। ফলে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের দামও ভালো পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাজকে কোন সময় ছোট মনে করি না। যে পেশা ভালো লাগে সে পেশার কাজকে গুরুত্ব দিলে, ভালোভাবে কাজ করা যায়। আমি আমার পেশাকে অনেক ভালোবাসি। প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করার চেয়ে বাঁশ বেতের জিনিস ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এটা পরিবেশ সম্মতও। যদিও এখন সবাই প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়াও একটা সমাজে সকল পেশার মানুষ মিলেও বাস করতে হয়।’

মণিঋষি নারীরা কখনও অবসর থাকেন না। সংসারের কাজ সেরে, বাঁশ-বেতের কাজ করেন। নিজেদের উন্নয়নে নারী ও পুরুষ উভয়ে কাজ করছেন। পুরুষরা ছুটছেন জঙ্গলে বাঁশ-বেত সংগ্রহে, আবার জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রির জন্য। আর নারীরা বাড়িতে থেকে বিরামহীন কাজ করেই যাচ্ছেন। এত কাজ করেও কোন মতে বেঁচে আছেন এ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেদের আদি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে কিছুটা ভালো থাকার জন্য!

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: